CJP Protest Pellet Gun Use: ককরোচ আন্দোলনে পেলেট গান ব্যবহার করা জওয়ানদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তদন্তে CRPF
RAF হল CRPF-এর দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী বিশেষ শাখা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে এই বাহিনী সাধারণত বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে। এর মধ্যে রয়েছে পেলেট গান এবং শক ব্যাটন। তবে সাধারণত এমন অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ থাকে।
CJP Protest Pellet Gun Use: পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল দিল্লিতে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF)। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধাসামরিক বাহিনীর একটি তদন্তকারী দল এই ঘটনার খতিয়ে দেখছে। সূত্রের খবর, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তদন্তের রিপোর্ট জমা পড়তে পারে।

জানা গিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের উপর কথিতভাবে পেলেট গান ব্যবহারকারী র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর কর্মীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তকারী দলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কোন পরিস্থিতিতে পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছিল, কোথায় তা চালানো হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয়তার তুলনায় বলপ্রয়োগ বেশি হয়েছিল কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
RAF হল CRPF-এর দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী বিশেষ শাখা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে এই বাহিনী সাধারণত বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে। এর মধ্যে রয়েছে পেলেট গান এবং শক ব্যাটন। তবে সাধারণত এমন অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ থাকে।
পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসে ২০ জুলাইয়ের ঘটনার পর। ওই দিন সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনে শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে সংসদ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে বলে জানা যায়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শুধু লাঠিচার্জ বা কাঁদানে গ্যাস নয়, তাঁদের উপর পেলেট গানও ব্যবহার করা হয়েছিল। যদিও দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়, দিল্লি পুলিশ পেলেট গান ব্যবহার করে না এবং চলমান আন্দোলনেও এমন কোনও অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।
তবে এক আন্দোলনকারীর শরীরে পেলেটের আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ে। ২৮ বছর বয়সি ওই প্রতিবাদকারী দাবি করেন, তাঁর শরীরে প্রায় ৩০টি পেলেটের আঘাত রয়েছে। সরকারি হাসপাতাল সাফদরজং হাসপাতালও তাঁর শরীরে থাকা ক্ষতগুলিকে পেলেটের আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে। হাসপাতালের নথিতে ক্ষতস্থানে কালচে দাগ, ত্বকের মধ্যে পেলেটের অংশ আটকে থাকা এবং আঘাতের জায়গায় ব্যথার উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেলেট গান থেকে ছোড়া ধাতব বা রাবারের ছোট ছোট কণা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১ হাজার ফুট গতিতে ছুটতে পারে। এগুলি শরীরের টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে। সাধারণ নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করলে তা কোমরের নিচের অংশ লক্ষ্য করে চালানোর কথা।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ওই ঘটনায় এক আন্দোলনকারীর কনুই ও পিঠে পেলেটের আঘাত লাগে। ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি একজন পুলিশকর্মীকে পেলেট গান তাক করতে দেখেছিলেন। তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁর পিঠ ও হাতে পেলেট লাগে।
এই ঘটনায় বিরোধীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক পেলেট আক্রান্ত ছাত্রের সঙ্গে ভিডিও প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার কি পেলেট গান ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল?
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়ে ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন রাহুল গান্ধী। এটিকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের উপর 'বর্বর আক্রমণ' বলে অভিহিত করেছেন। সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে বিরোধীরা সরব হন। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন। এ নিয়ে সংসদে তীব্র হট্টগোল হয় এবং শেষ পর্যন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে যায়। এখন CRPF-এর তদন্ত রিপোর্টের দিকেই নজর রয়েছে। রিপোর্টে যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


