CJP Protest Update: এমন কোনও কাজ নয়, যাতে অশান্তি ছড়ায়, এক বছরের শর্তে মুক্তি পেয়েছেন CJP-র ৩ নেতা
শনিবার মুম্বই থেকে দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন অভিজিৎ, সৌরভ ও আশুতোষ। তাঁদের বিমান অবতরণের পরেই বিমানের ভিতর থেকে আটক করে পুলিশ। সিজেপির নেতারা দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে এসেছিলেন। কিন্তু যন্তর মন্তরে পৌঁছনোর আগেই তাঁদের আটক করা হয়।
দিল্লিতে বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনে আদালতের নির্দেশে মুক্তি পেলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সংগঠনের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তবে তাঁদের মুক্তির ক্ষেত্রে এক বছরের শর্ত বেঁধে দিয়েছে আদালত। আগামী এক বছর এমন কোনও কাজ করা যাবে না, যা শান্তিভঙ্গের কারণ হতে পারে। রবিবার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করানো হয়েছিল তাঁদের। তার পরেই মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছে সিজেপি। সেই কর্মসূচির আগেই তিন নেতাকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। তাঁদের মুক্তি ঘিরে আপাতত স্বস্তি ফিরলেও যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থামেনি।

বিমান থেকে আটক, তার পর আদালতে
শনিবার মুম্বই থেকে দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন অভিজিৎ, সৌরভ ও আশুতোষ। তাঁদের বিমান অবতরণের পরেই বিমানের ভিতর থেকে আটক করে পুলিশ। সিজেপির নেতারা দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে এসেছিলেন। কিন্তু যন্তর মন্তরে পৌঁছনোর আগেই তাঁদের আটক করা হয়। রবিবার সকালে তাঁদের প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়ার পর দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করা হয়।
এর পরেই তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট। তবে আগামী এক বছর শান্তিভঙ্গ হতে পারে, এমন কোনও কাজে যুক্ত না হওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই শর্তের আওতায় কোন ধরনের কাজ পড়বে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংহ মুক্তির খবর জানিয়েছেন। এর আগে সংগঠনের নেতাদের আটকের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছিল, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আগেই তাঁদের আটক করার প্রয়োজন ছিল কি না। পুলিশের যুক্তি ছিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্ভাব্য অশান্তি আটকাতেই এই পদক্ষেপ।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিক্ষোভ
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি রয়েছে সিজেপির। সংগঠনের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ভোটার তালিকায় অনিয়ম হয়েছে। সেই অভিযোগের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল তারা।
তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে সিজেপির অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য খতিয়ে দেখলেই এই অভিযোগের পরিধি স্পষ্ট হতে পারে।
সিজেপির বক্তব্য, নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের স্বার্থে জরুরি। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়ে থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। অন্য দিকে, পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলার সম্ভাব্য সমস্যার যুক্তি দিয়েছে।
শনিবার তিন হাজারেরও বেশি আটক
শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গা থেকে তিন হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের নেতা, কর্মী এবং সাধারণ আন্দোলনকারীরাও ছিলেন। পরে রাতের দিকে অধিকাংশকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছতে বাধা দিতে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছিল। মেট্রোর কয়েকটি স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তার কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এর ফলে এক জায়গায় জমায়েত হতে না পেরে বিক্ষোভকারীরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে প্রতিবাদ করেন।
মুক্তির পরেও নজর আন্দোলনে
তিন নেতার মুক্তির পর সিজেপির পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালানোর দাবি থাকবে।
অন্য দিকে, প্রশাসনের কাছে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। বিক্ষোভের অনুমতি, আগাম আটক এবং মুক্তির শর্ত নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনা চলতে পারে।
সব মিলিয়ে, অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার মুক্তি দিল্লির আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আপাতত তাঁরা মুক্ত হলেও এক বছরের শর্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যন্তর মন্তরের পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের জবাব কী ভাবে আসে, এখন সেদিকেই নজর।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


