CJP Questions CJI: সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ সৌরভের, জাস্টিস সূর্যকান্ত-বাগচীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মালা বাগচীর নাম করে শীর্ষ আদালতের কাজকর্ম নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তুললেন সিজেপির পদাধিকারী সৌরভ দাস। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের এসআইআর প্রক্রিয়া চলতে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

Published on: Oct 5, 2026, 09:38:33 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়ে ফের সরব ককোরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মালা বাগচীর নাম করে শীর্ষ আদালতের কাজকর্ম নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তুললেন সিজেপির পদাধিকারী সৌরভ দাস। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর প্রক্রিয়া চলতে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি তরুণদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াতেও আদালত পরোক্ষে ভূমিকা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মালা বাগচীর নাম করে শীর্ষ আদালতের কাজকর্ম নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তুললেন সিজেপির পদাধিকারী সৌরভ দাস। (Hindustan Times)
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মালা বাগচীর নাম করে শীর্ষ আদালতের কাজকর্ম নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তুললেন সিজেপির পদাধিকারী সৌরভ দাস। (Hindustan Times)

এসআইআর ঘিরেই মূল ক্ষোভ

রবিবার সামাজিক মাধ্যমে নিজের বক্তব্যে সৌরভ দাস বলেন, বাংলা এবং বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়া বাধাহীন ভাবে চলতে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মালা বাগচী। তাঁর অভিযোগ, সময়মতো প্রয়োজনীয় মামলাগুলির শুনানি না হওয়ায় ভোটাধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের দ্রুত নিষ্পত্তি হয়নি।

সিজেপি নেতার আরও অভিযোগ, আদালতের এই ভূমিকা তরুণ প্রজন্মের ভোট দেওয়ার অধিকার এবং রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের চোখে সুপ্রিম কোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা ইতিমধ্যেই ধাক্কা খেয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ভবিষ্যতে আদালত কোনও নির্দেশ দিলেও মানুষ তা কতটা আস্থা নিয়ে গ্রহণ করবে।

মহারাষ্ট্র, দিল্লির প্রসঙ্গও টেনে আক্রমণ

শুধু এসআইআর নয়, দেশের একাধিক সাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন সৌরভ। তাঁর দাবি, মহারাষ্ট্র সরকারের পতন, রাজনৈতিক দলের ভাঙন এবং দিল্লির সাংবিধানিক সংকটের মতো বিষয়েও প্রয়োজনীয় মামলাগুলি যথাসময়ে শুনানি হয়নি।

এই সমস্ত ঘটনায় বিজেপি সুবিধা পেয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনে কোনও আদালতের সিদ্ধান্ত বা স্বাধীন প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত সিজেপি নেতার রাজনৈতিক বক্তব্য হিসাবেই থাকছে।

আজই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

সৌরভের এই আক্রমণ এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলাগুলির শুনানি রয়েছে। কমিশনের কাজকর্ম এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একক ভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করছেন কি না, সেই নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

এই মামলায় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মালা বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ শুনানি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পাটনার বাসিন্দা রাকেশ কুমার সিং একটি জনস্বার্থ মামলা করে জানতে চেয়েছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আইন অনুযায়ী পুরো কমিশনের ক্ষমতা একা ব্যবহার করতে পারেন কি না।

আবারও আদালত বনাম সিজেপি

সিজেপি এবং সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে টানাপড়েন অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও ছাত্র আন্দোলন এবং সেই আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় আদালতের অবস্থান নিয়ে সৌরভ দাস প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন। জুলাই মাসে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর, পুলিশের ভূমিকা এবং তদন্ত নিয়েও সিজেপির সঙ্গে আদালতের টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। পরে সেপ্টেম্বর মাসে ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত বেশ কিছু এফআইআর খারিজের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

ফলে নতুন করে প্রধান বিচারপতি এবং বিচারপতি বাগচীকে নিশানা করার ঘটনায় বিতর্ক আরও বাড়ল। আদালত নিয়ে রাজনৈতিক সমালোচনা গণতন্ত্রে অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু বিচারপতিদের বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ উঠলে তার প্রমাণের প্রশ্নও সামনে আসে। ফলে সৌরভের মন্তব্য ঘিরে এখন পাল্টা রাজনৈতিক এবং আইনি বিতর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

এসআইআর, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোচনা চলছে, তখন সুপ্রিম কোর্টের কাজকর্ম নিয়ে সিজেপির এই সরাসরি আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এখন নজর ৫ অক্টোবরের শুনানির দিকে। আদালতের পরবর্তী অবস্থান কী হয়, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করবে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More