Cockroach Janta Party: 'জনগণ তাদের সরকার...,' ১ নভেম্বর ফের রাজপথে নামছে 'ইন্ডিয়া' জোট, সমর্থন জানাল সিজেপি
Cockroach Janta Party: অভিজিৎ দীপকে বরাবরই বলে এসেছেন যে, সিজেপি দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকবে। তবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রতি তাদের কোনও বিরোধিতা নেই, কারণ উভয় আন্দোলনের লক্ষ্যই অভিন্ন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও সাম্প্রতিক কিছু বিবৃতিতে 'সমস্ত প্রতিবাদ আসলে একটাই'- এই কথাটি উল্লেখ করেছেন।
Cockroach Janta Party: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রতিবাদে এবার সমর্থন জানাল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। বুধবার সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ঘোষণা করেন, আগামী ১ নভেম্বর ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে তাঁদের সমর্থন রয়েছে। ওই সমাবেশে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানানো হবে।

এক্স-এ অভিজিৎ দীপকে লেখেন, 'জ্ঞানু মাস্ট গো!' (জ্ঞানেশ কুমারকে যেতেই হবে)। একই সঙ্গে তিনি জানান, ‘ইন্ডিয়া’-র ১ নভেম্বরের সমাবেশকে সমর্থন করছে ককরোচ জনতা পার্টি। দেশের স্বার্থই সবার আগে, বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তিনি বা সিজেপি-র অন্য কোনও সদস্য ওই সমাবেশে মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বুধবার সিজেপি-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'গণতন্ত্রের মূল নীতি হল- জনগণ তাদের সরকার বেছে নেবে, সরকার নিজে তার ভোটারদের বেছে নেবে না।' সিজেপির অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া এই মৌলিক নীতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এই প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বিবৃতিতে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'এসআইআর-এর মাধ্যমে এই মৌলিক নীতিকে ক্ষুণ্ণ করে জ্ঞানেশ কুমার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। তাই নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের জন্য তাঁর পদত্যাগ জরুরি।' সিজেপি জানিয়েছে, তারা 'আমাদের দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে লড়াইরত সমস্ত সংগঠনের পাশে থাকবে।'
এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে সিজেপি এবং কংগ্রেস উভয়ই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে প্রচার চালিয়েছে। তারও আগে, জুন-জুলাই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা গিয়েছিল। ১০ অক্টোবর দিল্লিতে সিজেপি-র আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কংগ্রেস অংশ নেয়নি, কারণ তখন তারা দেশজুড়ে নিজস্ব আন্দোলনের কাজে ব্যস্ত ছিল। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বাম দলগুলো, শিবসেনা (ইউবিটি) এবং এনসিপি (এসপি) সিজেপি-র ওই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছিল। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সঙ্গে দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও আম আদমি পার্টি এবং ডিএমকে-ও সিজেপি-কে সমর্থন করেছে। উল্লেখ্য, অভিজিৎ দীপকে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রচার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
অভিজিৎ দীপকে বরাবরই বলে এসেছেন যে, সিজেপি দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকবে। তবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রতি তাদের কোনও বিরোধিতা নেই, কারণ উভয় আন্দোলনের লক্ষ্যই অভিন্ন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও সাম্প্রতিক কিছু বিবৃতিতে 'সমস্ত প্রতিবাদ আসলে একটাই'- এই কথাটি উল্লেখ করেছেন। জানা গিয়েছে, অভিজিৎ দীপকে-কে রাহুল গান্ধী-সহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তবে তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। এছাড়া, দিল্লি পুলিশের হাতে সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারের ঘটনারও সমালোচনা করেছেন রাহুল গান্ধী। যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি বাতিল হওয়ার পর, সেখানে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিনঙ্কা শিন্ডেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সাত দিন পর তিহার জেল থেকে মুক্তি পান সৌরভ ও আশুতোষ। তবে তার আগে তাঁদের একজন বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত মুচলেকা দিতে হয় যে, আইন অনুযায়ী যন্তর মন্তরের মর্যাদা পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা সেখানে কোনও প্রতিবাদের ডাক দেবেন না।
আইসা প্রধান নেহা বোরা সমান্তরালভাবে চলা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছেন। রবিবারের সমাবেশের স্থান রামলীলা ময়দান হল সেই তিনটি মাঠের একটি, যা যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভ প্রদর্শনের স্থান হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর দিল্লি পুলিশ বড় ধরনের সমাবেশের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কংগ্রেস সাংসদ জেবি ম্যাথার জানিয়েছেন, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে বিরোধী শিবিরে কোনও মতপার্থক্য নেই।
E-Paper

