CJP Protest: 'জরুরি অবস্থার মতো...,' আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার সিজেপি-র, কী বলছে দিল্লি পুলিশ?

CJP Protest: সৌরভ দাস অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভকে ঘিরে রাজধানীকে কার্যত অচল করে দেওয়া হয়েছিল এবং আটক অবস্থায় তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

Published on: Oct 11, 2026, 19:00:50 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

CJP Protest: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। রবিবার দিল্লিতে এক সংবাদিক সম্মেলনে সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক তথা মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘সারা দেশে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।'

আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার সিজেপি-র (PTI)
আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার সিজেপি-র (PTI)

এদিন সৌরভ দাস অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভকে ঘিরে রাজধানীকে কার্যত অচল করে দেওয়া হয়েছিল এবং আটক অবস্থায় তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন তাঁদের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো হ্যাক বা ক্লোন করা হতে পারে। সৌরভ দাস দাবি করেছেন, বাজেয়াপ্তের কোনও মেমো দেওয়া হয়নি এবং পরে এই ফোনগুলোতে নথি বা অন্যান্য উপাদান স্থাপন করে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে ‘প্রকৃত দেশবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়ে সৌরভ দাবি করেন, এ ধরনের দমনপীড়ন সরকারের পতনকেই ত্বরান্বিত করবে। এই পরিস্থিতিতে তিনি সবাইকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘এই লড়াই এখন শুরু হয়ে গিয়েছে।’ বিক্ষোভকে যেভাবে যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে পরিণত করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের লজ্জা পাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত ১০ অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর পুলিশ সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অভিজিৎ দীপকেকে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনে নেয়। পরদিন তাঁদের দিল্লি ক্যান্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় এবং ৫০ হাজার টাকার জামানতে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করেন সিজেপি-র যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস। সঙ্গে ছিলেন সিজেপি-র লিগ্যাল টিমের প্রধান রত্না সিং। শনিবার পুলিশ কী ভাবে তাঁদের আটক করেছিল, তার বর্ণনা দেন। সিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য এটিকে আটক না-বলে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেছেন।

কী বলছে দিল্লি পুলিশ?

সিজেপি (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কে (Abhijeet Dipke) আটক করে রাখার কারণে তিনি তাঁর ঠাকুমার শেষকৃত্যে যোগ দিতে পারেননি—পরিবারের আনা এই বিস্ফোরক অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। রবিবার দিল্লি পুলিশের তরফে স্পষ্ট জানানো হয় যে, ঠাকুমার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই পুলিশ কর্মকর্তা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অভিজিৎকে বাড়ি পাঠানোর সমস্ত রকম সহযোগিতা ও ভ্রমণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। দিল্লি পুলিশের উপ-কমিশনার (DCP) এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা (PRO) নেহা যাদব জানিয়েছেন, পুলিশ অফিসাররা বারবার অভিজিৎকে সহায়তার প্রস্তাব দেন। প্রমাণস্বরূপ পুলিশ একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যাচ্ছে এক পুলিশ কর্মকর্তা অভিজিৎকে বিমান, ট্রেন বা বাস—কোন মাধ্যমে বাড়ি ফিরতে চান তা জিজ্ঞেস করছেন এবং তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন। তবে অভিজিৎ নিজেই সে সময় কথা বলতে চাননি বলে দাবি পুলিশের।

তবে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা সামনে এনে অত্যন্ত অসংবেদনশীলভাবে অভিজিৎকে তাঁর ঠাকুমার প্রয়াণের খবরটি জানানো হয়েছিল। অভিজিৎ তাঁর মা-বাবা হৃদরোগী হওয়ায় তুতো ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, মুক্তি পাওয়ার পর মহারাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়ে সাংবাদিকদের সামনে অভিজিৎ বলেন, 'ঠাকুমা আর নেই, তাই এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকতে আমি বাড়ি যাচ্ছি।' ভোটার তালিকা সংশোধনে (Special Intensive Revision) অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। দিল্লি পুলিশ জানায়, পূর্ববর্তী অনুদানের শর্তাবলী লঙ্ঘন করার কারণেই এবার এই আন্দোলনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।