CJP Protest: ‘এখানে ন্যায়বিচার নেই!’ যন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশ, হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধিতে তোপ সিজেপি নেতার
CJP Protest: সোমবার শুনানি শেষে আদালত থেকে বেরিয়ে সৌরভ দাস দাবি করেন, ন্যায়বিচারের অভাব রয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে বিক্ষোভের সময় ওই এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে আদালত তাঁদের জামিনের আবেদন কেন খারিজ করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
CJP Protest: নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দিল্লির যন্তর মন্তরের (Jantar Mantar) ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করার অভিযোগে ধৃত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) (CJP) দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়িয়ে দিল স্পেশ্যাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট। এর আগে পাঁচ দিনের জেল হেফাজত শেষে সোমবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ঋতু রাজ এই নির্দেশ দেন। লিখিত আদেশে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ধৃতদের আচরণে ‘আইনের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা পরিলক্ষিত হয়নি।’

সোমবার শুনানি শেষে আদালত থেকে বেরিয়ে সৌরভ দাস দাবি করেন, ন্যায়বিচারের অভাব রয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে বিক্ষোভের সময় ওই এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে আদালত তাঁদের জামিনের আবেদন কেন খারিজ করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পুলিশের ভ্যানের ভিতর থেকে চিৎকার করে সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা জরুরি অবস্থার মধ্যে আছি। এখানে কোনও ন্যায়বিচার নেই। এটি পুলিশের আদালত। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন কী ঘটছে। তারা কী যুক্তি দেখিয়েছে, তা শুধু একবার দেখুন।’ ইউটিউব চ্যানেল ‘স্মিতা শর্মা জার্নালিস্ট’-এর সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
আদালত কী বলেছে?
দিল্লির মন্দির মার্গ থানার একজন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM) সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ দেন। হিন্দুস্তান টাইমসের দেখা আদালতের লিখিত আদেশে বলা হয়েছে, সিজেপি নেতারা ১১ অক্টোবর দেওয়া মুচলেকার শর্ত 'ইচ্ছাকৃতভাবে' ভঙ্গ করেছেন। তাঁদের আচরণও সঠিক ছিল না। অনুমতি নেই, এমন এলাকায় বারবার বিক্ষোভের ডাক দিয়ে তাঁরা আইনের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, ‘আসন্ন পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা, অভিযুক্তদের অতীত আচরণ এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে আমি মনে করি, অভিযুক্তদের লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। এ জন্য তাঁদের দুই দিন সময় দেওয়া হলো। তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে আগেই ওই বক্তব্যের একটি অনুলিপি জমা দিতে হবে।’
পুলিশের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে আদালত জানিয়েছেন, আটক সিজেপি নেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় যন্তর মন্তর ও কনট প্লেসের মতো বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত নয়, এমন স্থানে বারবার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। আদালত আরও বলেছে, তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পক্ষে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এসব তথ্য থেকে শান্তি ভঙ্গ ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যথাযথভাবে বিবেচনা না করে এসব উদ্বেগ উপেক্ষা করা যায় না।
৩ সিজেপি নেতা আটক, মুক্ত এক
যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও তাদের সহযোগী অজিঙ্ক্য শিন্ডেকে আটক করা হয়। ওই দিন সিজেপির প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তাঁরা তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভিতরে ঢুকছেন। শিন্ডেকে ব্যক্তিগত মুচলেকা ও পাঁচ হাজার টাকার বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পরে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। আদালতের আদেশে বলা হয়, সিজেপির নেতারা শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুচলেকায় সই করেছিলেন। যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে তাঁরা সেই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছেন।
মুক্তি অভিজিৎ দীপকে-কে
সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা গ্রেফতার হওয়ার কয়েক দিন পর অভিজিৎ দীপকেও অল্প সময়ের জন্য গ্রেফতার করা হয়। গত ১৬ অক্টোবর কনট প্লেসে যাওয়ার পথে পুলিশ তাঁকে আটক করে। সেদিন কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ নামে পতাকা মিছিলের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। পরদিন একজন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM)-এর নির্দেশে শর্তসাপেক্ষ জামিনে মুক্তি পান অভিজিৎ দীপকে। জামিনের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল, পরবর্তী এক বছর তাঁর পক্ষ থেকে কোনোভাবেই শান্তি ভঙ্গ করা যাবে না।
E-Paper

