CM Vijay on delimitation: ডিলিমিটেশন ইস্যুতে 'ইউ-টার্ন!' মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বিরুদ্ধে সরব বিরোধীরা
CM Vijay on delimitation: আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) সংক্রান্ত মন্তব্যের জেরে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শানিয়েছে রাজ্যের প্রধান দুই বিরোধী দল ডিএমকে (DMK) ও এআইএডিএমকে (AIADMK)।
CM Vijay on delimitation: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য অর্জন করার জেরে লোকসভায় দক্ষিণের রাজ্যগুলির সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব যেন কোনওভাবেই হ্রাস না পায়-তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে 'স্পষ্ট আইনি নিশ্চয়তা' (Legislative assurance)-র দাবি তুললেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। তবে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে; আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন (Delimitation) ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বলে অভিযোগ তুলেছে ডিএমকে (DMK) ও এআইএডিএমকে (AIADMK)।

তামিলনাড়ুর মহাবলীপূরমে আয়োজিত ৩১তম দক্ষিণ আঞ্চলিক পরিষদের বৈঠকে (Southern Zonal Council) এই সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। তবে গত ১২ আগস্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হওয়া প্রস্তাবটির পুনরাবৃত্তি তিনি করেননি, যেখানে ৫৪৩টি লোকসভা আসন স্থায়ীভাবে অপরিবর্তিত রাখার এবং বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে বর্তমান আসন বণ্টন ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছিল। বৈঠকে বিজয় স্পষ্ট জানান, 'আমি কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করছি একটি স্পষ্ট আইনি নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য-যাতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের কারণে কোনও রাজ্যেরই সংসদে প্রতিনিধিত্বের শতাংশ কমে না যায়।' তাঁর মতে, কেন্দ্রের তরফ থেকে এই ধরনের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি রক্ষাকবচ প্রদান করা হলে তা দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় ভারসাম্য রক্ষা করবে, সব রাজ্যের প্রতি সুবিচার সুনিশ্চিত করবে এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি রাজ্যগুলির আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
সরব ডিএমকে-এআইএডিএমকে
আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) সংক্রান্ত মন্তব্যের জেরে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শানিয়েছে রাজ্যের প্রধান দুই বিরোধী দল ডিএমকে (DMK) ও এআইএডিএমকে (AIADMK)। ডিএমকে মুখপাত্র সর্বানন আন্নাদুরাই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে নিশানা করে অভিযোগ করেন, আসন পুনর্বিন্যাস ইস্যুতে তিনি স্পষ্ট 'ডিগবাজি' (Flip-flop) খাচ্ছেন। অন্যদিকে, এআইএডিএমকে-র পক্ষ থেকেও টিভিকে (TVK) সরকারের কড়া সমালোচনা করে বিষয়টিকে নীতিগত 'ইউ-টার্ন' বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় এআইএডিএমকে-র আইটি উইং জানায়, 'কেন্দ্রীয় সরকার যা বলেছিল, এখন আপনার মুখেও ঠিক সেই একই সুর শোনা যাচ্ছে। আর ঠিক এই কারণেই এআইএডিএমকে সংসদে এই বিলটির সমর্থনে দাঁড়িয়েছিল।' বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আরও প্রশ্ন তোলা হয়, 'পরে যদি এইভাবেই ডিগবাজি খেতে হয়, তবে বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করানোর নাটক করার কী প্রয়োজন ছিল?'
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমর্থনে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে শাসকদল টিভিকে (TVK)। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের দলীয় বা সরকারি অবস্থানে বিন্দুমাত্র বদল হয়নি। টিভিকে-র আইটি উইং এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, 'মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে একটি বৃহত্তর দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন-যাতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়া দক্ষিণের রাজ্যগুলির বর্তমান প্রতিনিধিত্ব অক্ষুণ্ণ থাকে। ১২ আগস্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে পাশ হওয়া প্রস্তাবটিতেও এই নীতিকে কার্যকর করার কথাই বলা হয়েছিল।' পুরো বিষয়টি না বুঝেই সমালোচকরা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে 'বিভ্রান্তিকর মতামত' ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করে তারা। বৈঠকের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের জ্বালানি সম্পদ ও আইনমন্ত্রী সিটিআর নির্মলকুমারও দাবি করেন যে সরকারের নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
E-Paper

