PhD করতে করতে সন্তানকে সামলেও কমনওয়েলথ গেমসে পদক সীমার, এখনও ক'টা পদক হল ভারতের?

বৃহস্পতিবার মহিলাদের ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের ঝুলিতে আরও একটি সাফল্য যোগ করলেন সীমা কালিরামনা। তাঁর সেরা নিক্ষেপ ছিল ৫৮.৬৫ মিটার। এই পদকের সুবাদে অ্যাথলেটিক্সে ভারতের পদকসংখ্যা দাঁড়াল চার এবং গেমসে দেশের মোট পদক বেড়ে হল ১৭।

Published on: Jul 31, 2026, 08:16:22 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদক জয়ের ধারা অব্যাহত। বৃহস্পতিবার মহিলাদের ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের ঝুলিতে আরও একটি সাফল্য যোগ করলেন সীমা কালিরামনা। তাঁর সেরা নিক্ষেপ ছিল ৫৮.৬৫ মিটার। এই পদকের সুবাদে অ্যাথলেটিক্সে ভারতের পদকসংখ্যা দাঁড়াল চার এবং গেমসে দেশের মোট পদক বেড়ে হল ১৭।

বৃহস্পতিবার মহিলাদের ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের ঝুলিতে আরও একটি সাফল্য যোগ করলেন সীমা কালিরামনা। (REUTERS)
বৃহস্পতিবার মহিলাদের ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের ঝুলিতে আরও একটি সাফল্য যোগ করলেন সীমা কালিরামনা। (REUTERS)

প্রতিযোগিতার শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি সীমার। প্রথম প্রচেষ্টায় তিনি ফাউল করেন। তবে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ৫৭.৩২ মিটার ছুড়ে পদকের লড়াইয়ে ফিরে আসেন। তৃতীয় প্রচেষ্টায় ৫৮.৬৫ মিটার নিক্ষেপ করে তিনি ব্রোঞ্জ পদকের জায়গা কার্যত নিশ্চিত করে ফেলেন। এরপরের দুটি প্রচেষ্টাও ফাউল হয় এবং শেষ চেষ্টাতেও নিজের রেকর্ড আর উন্নত করতে পারেননি। তবুও তৃতীয় রাউন্ডের সেই দূরত্বই তাঁকে পদক এনে দেয়।

একই ইভেন্টে ভারতের আর এক প্রতিযোগী নিধি রানিও পদকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ৫৫.৬৭ মিটার ছুড়ে তিনি চতুর্থ স্থানে উঠে আসেন। পরে তৃতীয় রাউন্ডে ৫৭.১০ মিটার নিক্ষেপ করে নিজের পারফরম্যান্সের উন্নতি করলেও শেষ পর্যন্ত পদক জয়ের জন্য তা যথেষ্ট হয়নি। অল্পের জন্য চতুর্থ স্থানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁকে।

মহিলাদের ডিসকাসে সোনা জিতেছেন জ্যামাইকার সামান্থা হল। তাঁর সেরা থ্রো ছিল ৬১.৬৬ মিটার। রুপো জিতেছেন কানাডার জুলিয়া টাঙ্কস, যিনি ৬০.৬৭ মিটার নিক্ষেপ করেন।

সীমা কালিরামনার এই ব্রোঞ্জ শুধুমাত্র একটি পদক নয়, বরং তাঁর অনুপ্রেরণামূলক প্রত্যাবর্তনের গল্পকেও আরও উজ্জ্বল করে তুলল। মাতৃত্বের পর প্রতিযোগিতামূলক খেলায় ফিরে এসে তিনি নতুন করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। ২০২৫ সালের জাতীয় গেমসে সোনা জয়ের পর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাও পুনরুদ্ধার করেন। ক্রীড়াজীবনের পাশাপাশি তিনি বর্তমানে পিএইচডি-ও করছেন। নিজের সাফল্যের পিছনে পরিবার এবং সহায়তাকারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা একাধিকবার উল্লেখ করেছেন সীমা।

এদিন ভারোত্তোলনে লাভপ্রীত সিংয়ের রুপোর পর সীমার ব্রোঞ্জ ভারতের জন্য দিনের দ্বিতীয় পদক। ফলে অষ্টম দিনের শেষে ভারতের মোট পদকসংখ্যা দাঁড়াল ১৭, যা দেশের পদক তালিকাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

অন্যদিকে, অ্যাথলেটিক্সের আরও কয়েকটি ইভেন্টেও ভারতীয়দের পারফরম্যান্স ছিল আশাব্যঞ্জক। পুরুষদের জ্যাভলিন থ্রোর যোগ্যতা অর্জন পর্ব থেকে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন নীরজ চোপড়া, রোহিত যাদব এবং যশবীর সিং। গ্লাসগোর প্রবল ও পরিবর্তনশীল বাতাসের কারণে কোনও প্রতিযোগীই স্বয়ংক্রিয় যোগ্যতা অর্জনের নির্ধারিত দূরত্ব স্পর্শ করতে পারেননি। নীরজ ৭৯.৬১ মিটার ছুড়ে পঞ্চম, রোহিত ৭৮.৩৭ মিটার নিয়ে নবম এবং যশবীর ৭৮.৩৬ মিটার নিক্ষেপ করে দশম স্থানে থেকে ফাইনালে ওঠেন। ফলে শুক্রবারের পদক নির্ধারণী পর্বে ভারতের তিন প্রতিনিধিকেই দেখা যাবে।

এছাড়া পুরুষদের ডেকাথলনে তেজস্বিন শঙ্কর নিজের সেরা ইভেন্ট হাই জাম্পে ২.১৫ মিটার টপকে ৯৪৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন। পাঁচটি ইভেন্ট শেষে তাঁর মোট পয়েন্ট ৪,৩৩৯। তিনি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন এবং শীর্ষে থাকা কানাডার ড্যামিয়ান ওয়ার্নারের থেকে মাত্র ১৪ পয়েন্ট পিছিয়ে। ফলে ডেকাথলনেও ভারতের পদকের সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More