'জওহরলাল নেহরুর বই...,' খামেনেই-র মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ কংগ্রেস MP, কী বললেন সনিয়া গান্ধী?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করলেন কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারপারসন সনিয়া গান্ধী।

Published on: Mar 03, 2026 6:28 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর টার্গেটেড হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের ‘নীরবতা’র তীব্র সমালোচনা করছে কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। আর এই আবহে ভারতে প্রয়াত খামেনেই-এর প্রতিনিধি ড. আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ।

খামেনেই-র মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ কংগ্রেস MP
খামেনেই-র মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ কংগ্রেস MP

মঙ্গলবার ভারত ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর খামেনেই-র গুরুত্বের প্রশংসা করে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের সাংসদ বলেছেন, যে কোনও দেশের প্রধানের মৃত্যু দুঃখজনক এবং ইরানের সর্বোচ্চ শাসক ভারতকে অত্যন্ত সম্মান করতেন। ড. আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহীর সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে ইমরান মাসুদ বলেন, তাঁকে জানানো হয়েছে যে খামেনেই ভারত ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক ৩,০০০ বছরের পুরনো বলে মনে করতেন। কংগ্রেস সাংসদের কথায়, 'খামেনেই নিজেই বলেছেন যে পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু তাঁর ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়াতে এই সম্পর্কের বিষয়ে লিখেছিলেন। তিনি (খামেনেইর প্রতিনিধি) বলেছেন যে তিনি (খামেনেই) এটি চারবার পড়েছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে আমাকে বলেছিলেন, 'ভারতকে বুঝতে হলে, ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া পড়ুন।'

কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, 'খামেনেই একজন শিক্ষিত এবং সক্ষম ব্যক্তি ছিলেন যার ভারত সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান ছিল। গান্ধীজি এবং নেহরুর সঙ্গে তাঁর বিশেষ সম্পর্ক ছিল, একই রকম আদর্শও ছিল। ইরান সর্বদা মানবতার স্বার্থে এই বন্ধন বজায় রেখেছে এবং মানবতার উন্নতি অব্যাহত রাখার নীতির পক্ষে ধারাবাহিকভাবে দাঁড়িয়েছে।' খামেনেই-র হত্যাকাণ্ডকে তিনি 'দুঃখজনক ঘটনা' বলে বর্ণনা করেছেন।

সনিয়া গান্ধী কী বললেন?

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করলেন কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারপারসন সনিয়া গান্ধী। মঙ্গলবার তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, সরকারের এই নীরবতা কোনোভাবেই ‘নিরপেক্ষতা’ নয়, বরং এটি দায়িত্ব এড়ানোর শামিল। এর ফলে ভারতের বিদেশনীতির আসল উদ্দেশ্য ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধে প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী দাবি করেছেন, গত ১ মার্চ ইরান নিশ্চিত করেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় তাদের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন। কোনও আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই এবং কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালীন একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে হত্যা করা রাষ্ট্রসংঘের সনদের সরাসরি লঙ্ঘন। এই ঘটনায় গোটা বিশ্ব চমকে গেলেও, নয়া দিল্লির নীরবতা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার নিন্দা না করে শুধুমাত্র সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পর ইরানের পাল্টা হামলার সমালোচনা করেছেন।