Congress MP Professor Sexual Harassment: ১১ ছাত্রীর যৌন হেনস্থার অভিযোগ, JNU থেকে বরখাস্ত মণিপুরের কংগ্রেস MP অধ্যাপক
মণিপুরের কংগ্রেস সাংসদ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাঙ্গোমচা বিমল আকইজামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল জেএনইউ।
যৌন হেনস্থার অভিযোগে বড় পদক্ষেপ জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় বা জেএনইউয়ের। মণিপুরের কংগ্রেস সাংসদ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাঙ্গোমচা বিমল আকইজামকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে ১১ জন ছাত্রীর যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটি। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শান্তিশ্রী ধুলিপুড়ি পণ্ডিতের স্বাক্ষর করা নির্দেশে জানানো হয়েছে, তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে বরখাস্ত হলেও এখনই তাঁর সাংসদ পদ খারিজ হয়নি। অন্য দিকে, যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আকইজাম। তাঁর দাবি, তাঁকে নিশানা করে পরিকল্পিত ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে।

কী অভিযোগ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে আকইজামের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন ১১ জন ছাত্রী। অভিযোগ, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মৌখিক পরীক্ষার সময় ছাত্রীদের উদ্দেশে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এমনকি, তাঁর যৌন প্রস্তাবে রাজি হলে পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। প্রথমে এক ছাত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথা সহপাঠীদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানান। তার পর আরও কয়েক জন ছাত্রী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জমা পড়ে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মে মাসেই অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে জেএনইউ।
তদন্তের পর কী সিদ্ধান্ত?
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশে বলা হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ কমিটি তদন্ত চালায়। সেই তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির সুপারিশ করা হয়। এর পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিয়ম এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধি মেনে তাঁকে তাৎক্ষণিক ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ আকইজাম। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে তিনি জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ তাঁর বিরুদ্ধে চলা ‘উইচ হান্ট’ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার সুযোগ করে দেবে। তাঁর দাবি, অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সামনে এসে প্রমাণ দেখান। তিনি আরও বলেন, তদন্তের রিপোর্ট কিংবা বরখাস্তের নির্দেশের প্রতিলিপি তাঁর হাতে পৌঁছয়নি। অভিযোগের প্রমাণ সামনে আনারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক চাপানউতরও শুরু হয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি প্রশ্ন তুলেছেন, মহিলা সুরক্ষার কথা বলা কংগ্রেস নিজেদের সাংসদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করেছে। তাঁর বক্তব্য, মহিলা অধিকার ও পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব হলেও অভিযুক্ত সাংসদের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের পদক্ষেপ স্পষ্ট নয়। অন্য দিকে, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনের জেএনইউ শাখার সভাপতি ময়ঙ্ক পাঞ্চালের দাবি, ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অভিযোগের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, ছাত্রীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবিও জানিয়েছে তারা।
মণিপুরের ইনার মণিপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন আকইজাম। অধ্যাপনার পাশাপাশি সংসদীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তীব্র। তবে অভিযোগ, তদন্তের ফল এবং অভিযুক্তের বক্তব্য, তিনটি বিষয়ই সামনে রেখে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


