Passport Not Proof of Citizenship: পাসপোর্ট মানেই নাগরিকত্ব নয়! বিদেশ মন্ত্রকের ব্যাখ্যায় শুরু বিতর্ক
Passport Not Proof of Citizenship: শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের এই অবস্থানের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ৷ তাঁর দাবি, পুলিশি যাচাইকরণ এবং ব্যাপক পরীক্ষার পরেই পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়।
Passport Not Proof of Citizenship: পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। সাফ জানিয়ে দিল বিদেশ মন্ত্রক। পাসপোর্টকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসাবে গণ্য করা হবে কিনা এবং পাসপোর্ট দেখিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় কিনা, এই নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে, সেই সময়ই বিদেশ মন্ত্রক এই বিবৃতি দিল। জানানো হল, পাসপোর্ট শুধুমাত্র ভ্রমণের নথি বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট। এটিকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসাবে গণ্য করা যায় না। সম্প্রতি ১৪তম ‘পাসপোর্ট সেবা দিবস’ উপলক্ষে বিদেশ মন্ত্রকের এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকদের দেওয়া বিবৃতির তীব্র সমালোচনা করে প্রবীণ রাজ্যসভা সাংসদ কপিল সিব্বল সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ প্রশ্ন তুলেছেন, পাসপোর্ট যদি নাগরিকত্বের প্রমাণ না হয়, তবে অন্য কোন নথি দিয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণিত হবে? কপিল সিব্বল এক্স পোস্টে লিখেছেন, 'বিদেশ মন্ত্রক, ২৪ জুন, ২০২৬: ‘পাসপোর্ট শুধুমাত্র ভ্রমণের নথি, এটি নাগরিকত্বের কোনও প্রমাণপত্র নয়।’ তাহলে কোন নথিটি নাগরিকত্বের প্রমাণ?' অন্যদিকে, এই ইস্যুতে চিরপরিচিত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তীব্র কটাক্ষ করে মহুয়া বলেন, 'দেখে মনে হচ্ছে আজ ভারতে নাগরিকত্বের একমাত্র প্রমাণ হলো-হিন্দু এবং বিজেপির ভোটার হওয়া। এছাড়া অন্য কিছুতে আর কাজ হবে না।'
শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের এই অবস্থানের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ৷ তাঁর দাবি, পুলিশি যাচাইকরণ এবং ব্যাপক পরীক্ষার পরেই পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। তিনি বলেন, 'এই ধরনের মন্তব্যের ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতীয় পাসপোর্টের মর্যাদা বা অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।' তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'বিদেশ মন্ত্রক যদি মনে করে যে পাসপোর্ট নাগরিকত্বের কোনও নথি নয়, তবে পাসপোর্ট প্রদানের আগে পুলিশ কী যাচাই করে? আমাদের দেশ কী ভারতীয়দেরও ভ্রমণ নথি হিসেবে পাসপোর্ট দেয়? এই ঘোষণার ফলে অন্যান্য দেশের মনে কী এমন সন্দেহের সৃষ্টি হবে না যে, অভারতীয়রাও ভ্রমণ নথি হিসেবে ভারতীয় পাসপোর্ট পেতে পারে?' তিনি আরও বলেন, 'অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর বিদেশ নীতির বাইরেও, বিদেশ মন্ত্রক আর কতটা অযৌক্তিক আচরণ করতে পারে?' কপিল সিব্বল আশঙ্কা প্রকাশ করে দাবি করেছেন, এই নতুন নিয়মের ফলে নির্বাচন কমিশনের বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) যদি কোনও নাগরিকের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন, তবে তাঁকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হতে পারে। সিব্বল তাঁর পোস্টে তীব্র কটাক্ষের সুরে বলেন, 'বিএলও আমার নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে পারেন। আমাকে আমার ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত করতে পারেন। এর চূড়ান্ত ফলাফল-বিজেপি নির্বাচনে জিতে যাবে। এবার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের ওপর ছেড়ে দেওয়া যাক!'
অন্যদিকে, জাতীয় পরিচয়পত্র ও নথিপত্রের এই ব্যবহার নিয়ে চরম কটাক্ষ করে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে নিশানা করেছে কংগ্রেসের কেরল শাখা। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ তারা লিখেছে, 'আধার হলো স্রেফ একটা কার্ড। প্যান হলো রান্নাবান্নার জন্য। ভোটার আইডি হলো দেখানোর জন্য, ভোট দেওয়ার জন্য নয়। ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন হলো আপনার আয় ফেরত দেওয়ার জন্য। নির্বাচনী হলফনামা হলো ক্রিয়েটিভ রাইটিং বা কাল্পনিক গল্প লেখার জন্য। আর মোদী হলেন একটি কৌতুক!'
সরকারের আসল যুক্তি কী?
বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পাসপোর্টের মূল কাজ হল একজন ব্যক্তির আন্তর্জাতিক যাতায়াত সহজ করা। তবে, আপনার পকেটে থাকা পাসপোর্টটি কিন্তু আইনিভাবে আপনার নিজস্ব সম্পত্তি নয়। পাসপোর্টের পিছনের পাতায় পরিষ্কার লেখা থাকে, 'এটি ভারত সরকারের সম্পত্তি' এবং সরকার নির্দেশ দিলে যে কোনও সময় এটি জমা দিতে হবে। শুধু পাসপোর্টই নয়, এ বছরের শুরুর দিকে দেশের ভোটার তালিকা সংশোধনের এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টও সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আধার কার্ড কোনওভাবেই নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, এটি বড়জোর একটি পরিচয়ের নথি। এমনকী আমরা যে ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে ভোট দিই, সেটিও মূলত একজনের পরিচয় এবং ঠিকানার প্রমাণ মাত্র, নাগরিকত্বের নয়।
E-Paper

