Giorgia Meloni's New Law: ইতালিতে সন্তানের অপরাধের মাশুল দেবে অবিভাবক! প্রধানমন্ত্রী মেলোনির নতুন আইন নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক

PM Giorgia Meloni's New Law: ইতালির নতুন নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, অন্তত পাঁচজনের কোনও দলের অংশ হয়ে বিক্ষোভের সময় জননিরাপত্তা বিপন্ন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

Published on: Oct 21, 2026, 22:06:24 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

PM Giorgia Meloni's New Law: ইতালিতে বিক্ষোভের নামে সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিরাপত্তা আইন অনুমোদন করেছে জর্জিয়া মেলোনি সরকার। নতুন আইনে হিংসা ও সহিংস বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য শাস্তি বাড়ানোর পাশাপাশি নাবালকদের অপরাধের ঘটনায় তাদের অভিভাবকদের আর্থিক দায়বদ্ধতার বিধান রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত কিশোরদের আটক করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে আইনটি কার্যকর হয়েছে।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (AFP)
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (AFP)

উত্তর ইতালির বিভিন্ন শহরে সহিংসতা ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সরকার এ পদক্ষেপ নিল। বিশেষ করে ইতালির আর্থিক কেন্দ্র মিলানে তরুণদের কয়েকটি দলের বিরুদ্ধে দোকানের জানালা ভাঙচুর, লুটপাট এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার পর বিক্ষোভের সময় সহিংসতা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার বলছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংসতার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই নতুন বিধানগুলো কার্যকর করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, কঠোর শাস্তি ও পুলিশের ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধের পেছনে থাকা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর সমাধানেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সহিংস বিক্ষোভে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

ইতালির নতুন নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, অন্তত পাঁচজনের কোনও দলের অংশ হয়ে বিক্ষোভের সময় জননিরাপত্তা বিপন্ন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। অর্থাৎ, বিক্ষোভের সময় সংঘবদ্ধভাবে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া, যা জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে, তার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইনে মুখ ঢেকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কিংবা সহিংসতার ঘটনায় কেউ আহত হলে শাস্তি বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া ভাঙচুর বা অন্যান্য কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষয়ক্ষতি হলে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে বিক্ষোভের সময় সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, সংঘবদ্ধ হামলা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে সরকার। তবে আইনের নির্দিষ্ট বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে ঘটনার প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

অপ্রাপ্তবয়স্কদের ঘটনায় অভিভাবকদেরও আর্থিক দায়

নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নাবালকদের ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তাদের অভিভাবকদের আর্থিক দায়বদ্ধতার বিধান। কোনও নাবালক এসব ঘটনায় জড়িত হলে ক্ষয়ক্ষতির জন্য তার অভিভাবকদের অর্থ দিতে হতে পারে। সরকারের যুক্তি, এ ধরনের ব্যবস্থা কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে পরিবারগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে বিক্ষোভের সময় দোকানপাট, যানবাহন ও অন্যান্য সম্পত্তি ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঠেকাতে এ বিধান কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এ ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগে অভিভাবকদের দায় কীভাবে নির্ধারিত হবে, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কীভাবে হিসাব করা হবে এবং কোন পরিস্থিতিতে দায় আরোপ করা হবে, তা আইনের প্রাসঙ্গিক বিধান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সিদের আটক করার ক্ষমতা পুলিশের

নতুন আইনে পুলিশের ক্ষমতার পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। এখন ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি কোনও কিশোর অপরাধ না করলেও তাকে বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনার পক্ষে প্রমাণ থাকলে পুলিশ আটক করতে পারবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে এ ধরনের ক্ষমতা শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। এই বিধানকে কেন্দ্র করে নাবালকদের অধিকার, পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগ এবং জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হতে পারে। কারণ, কোনও কিশোরের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ থাকা এবং তাকে সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা এক বিষয় নয়। নতুন আইনের আওতায় পুলিশের এই ক্ষমতা কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে বিক্ষোভের সময় নাবালকদের আটক করার ক্ষেত্রে প্রমাণ, পরিস্থিতি এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়গুলো তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

জর্জিয়া মেলোনির বক্তব্য

নতুন নিরাপত্তা আইন ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, ভাঙচুর ও চুরি প্রতিবাদ নয়, এগুলো অপরাধ। মঙ্গলবার তিনি আরও বলেন, চাকরি খোঁজা, অপর্যাপ্ত বেতন পাওয়া এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখতে না পাওয়ার কষ্ট সরকার বোঝে। তবে এসব দুর্দশাকে কখনোই সহিংসতার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। মেলোনির বক্তব্যে একদিকে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা স্বীকার করা হয়েছে, অন্যদিকে প্রতিবাদের নামে সহিংসতা ও সম্পত্তি ধ্বংসের বিরোধিতা করা হয়েছে। সরকারের অবস্থান হলো, মানুষের অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ থাকলেও সহিংস কর্মকাণ্ডকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মেলোনি সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপত্তা কঠোর করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

ক্ষতিপূরণ নাকি অসহায় পরিবারের ওপর বাড়তি বোঝা?

সন্তান কোনও অপরাধ বা ভাঙচুর চালালে তার আর্থিক ও আইনি দায় কী বাবা-মায়ের ওপর বর্তাবে? বিশ্বের একাধিক দেশে 'প্যারেন্টাল লায়াবিলিটি' বা অভিভাবকের দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত আইন থাকলেও সম্প্রতি এই ইস্যুটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ একাধিক দেশে এই সংক্রান্ত কঠোর আইন আগে থেকেই কার্যকর রয়েছে, যেখানে নাবালক সন্তানের দ্বারা সম্পত্তি নষ্ট বা অপরাধের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকেন বাবা-মা। এই আইনের সমর্থকদের দাবি, সন্তানদের ওপর নজরদারি রাখা এবং তাদের যে কোনও বেআইনি আচরণ থেকে বিরত রাখার মূল দায়িত্ব বাবা-মায়েরই। অপরাধ ঘটালে নিজেদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে—এই সচেতনতা থাকলে সন্তান ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত পেলেই বাবা-মা আরও আগে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবেন।

এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। কোনও কিশোর যদি কোনও দোকান বা গাড়ির ক্ষতি করে, তবে সেই মেরামত খরচ মেটানোর মতো নিজস্ব আয় তার থাকে না। ফলে অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বা মালিককেই পুরো আর্থিক বোঝা বহন করতে হয়। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তেও এই মূলনীতির প্রতিফলন দেখা গেছে—ভাঙচুরের জন্য যারা দায়ী, তাদেরই সেই ক্ষতির খরচ মেটাতে হবে; আর অপরাধী যদি নাবালক হয়, তবে সেই আর্থিক দায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের বাবা-মায়ের ওপর বর্তাবে।

তবে বিরোধীরা মৌলিক প্রশ্ন তুলেছেন—সন্তানের স্বাধীন বা ব্যক্তিগত কোনও ভুলের জন্য কেন বাবা-মাকে শাস্তি দেওয়া হবে? বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালের কিশোর-কিশোরীরা প্রায়শই পরিবারের নিষেধ অমান্য করে কিংবা বাবা-মায়ের সম্পূর্ণ অজান্তেই হিংসাত্মক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। ২০১১ সালে 'সাইকোলজি, পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ল'-এ প্রকাশিত মার্কিন এক গবেষণায় অভিভাবকদের মনোভাব যাচাই করা হয়েছিল। ১১৮ জন অভিভাবককে নিয়ে করা সমীক্ষায় উত্তরদাতারা অপরাধের জন্য গড়ে ৪৮ শতাংশ দায় সন্তানের এবং ৩৭ শতাংশ দায় বাবা-মায়ের ওপর চাপিয়েছেন। তবে সম্ভাব্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ৫১ শতাংশ উত্তরদাতা ক্ষতিগ্রস্তকে ক্ষতিপূরণ দেওয়াকেই সবচেয়ে সঠিক পদক্ষেপ বলে মনে করেছিলেন।

বড় একটি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আর্থিকভাবে দুর্বল ও প্রান্তিক পরিবারগুলির ওপর এই আইনের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে। ২০১৪ সালের এক প্রতিবেদনে এনপিআর (NPR) তুলে ধরেছিল যে কীভাবে এই আইন স্বল্প আয়ের এবং একক অভিভাবকদের (সিঙ্গল প্যারেন্ট) সংসারকে মারাত্মকভাবে আঘাত করে। দীর্ঘ সময় জীবিকার জন্য বাইরে কাজ করা বাবা-মায়ের পক্ষে টিনএজারদের সার্বক্ষণিক চোখে চোখে রাখা সম্ভব হয় না; তার ওপর আর্থিক জরিমানার বোঝা সেই সংকটাপন্ন পরিবারের জীবনে আরও বিপর্যয় ডেকে আনে। ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা-লিঙ্কন-এর আইন ও মনোবিজ্ঞানের তৎকালীন সহযোগী অধ্যাপক ইভ ব্রাঙ্ক প্রশ্ন তুলেছিলেন, বাবা-মাকে শাস্তি দিলেই কী কিশোর অপরাধ কমে? তিনি মন্তব্য করেছিলেন, কিশোর অপরাধ দমনে রাজনীতিবিদদের 'কঠোর' ভাবমূর্তি তুলে ধরার এটি একটি উপায় মাত্র।

২০২৪ সালে 'অ্যানুয়াল রিভিউ অব ক্রিমিনোলজি'-তে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে যে, এই ধরনের আইন আদৌ কিশোর অপরাধ ঠেকাতে বা ক্ষতিগ্রস্তদের উপকারে ফলপ্রসূ হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ধরনের আর্থিক জরিমানা সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যকে আরও গভীর করে এবং দুর্বল পরিবারগুলিকে জটিল বিচার ব্যবস্থার ফাঁদে ফেলে দেয়। এছাড়া ব্যক্তিগত জবাবদিহির প্রশ্নটিও থেকেই যায়—ভাঙচুরের আর্থিক দায় যদি বাবা-মাই মিটিয়ে দেন, তবে তরুণ অপরাধী নিজের কৃতকর্মের আসল মূল্য বা পরিণতি কখনোই উপলব্ধি করতে শেখে না। শেষ পর্যন্ত বিতর্কটি এসে দাঁড়িয়েছে একটি সূক্ষ্ম সীমারেখায়—অভিভাবকের পারিবারিক দায়িত্ব ঠিক কোথায় শেষ হয়, আর একজন সন্তানের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা কোথা থেকে শুরু হয়?