Nudify Ad: মেটার প্ল্যাটফর্মে এআই ‘নিউডিফাই’ অ্যাপের বিজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্ক, তদন্তে উঠে এল কোটি কোটি ডলারের ব্যবসার চিত্র
চিনে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম নিষিদ্ধ, তবুও চিনা সংস্থাগুলি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশি গ্রাহকদের লক্ষ্য করে মেটার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দেয়।
Nudify Ads in Meta Platforms: ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক সংস্থা মেটার প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ‘নিউডিফাই’ এবং ফেস-সোয়াপ অ্যাপের বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন গবেষণা সংস্থা টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্ট (টিটিপি)-এর এক তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চিনা বিজ্ঞাপন সংস্থা গ্যাদারওয়ান (GatherOne)-এর মাধ্যমে এই ধরনের একাধিক অ্যাপের বিজ্ঞাপন মেটার প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছিল। পরে মেটা সেগুলি সরিয়ে দেয় এবং সংশ্লিষ্ট কিছু অ্যাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

মেটার নারী নিরাপত্তা নীতির প্রধান সিন্ডি সাউথওর্থ জানিয়েছেন, সংস্থার প্ল্যাটফর্মে কারও সম্মতি ছাড়া অন্তরঙ্গ ছবি তৈরি বা প্রচারের কোনও জায়গা নেই। এ ধরনের অ্যাপ বা পরিষেবার বিরুদ্ধে মেটা কঠোর ব্যবস্থা নেয়। সংস্থার এক মুখপাত্র জানান, বিজ্ঞাপনদাতাদের মেটার বিজ্ঞাপন নীতি কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়। নিয়ম ভাঙলে বিজ্ঞাপন বাতিল, আর্থিক জরিমানা এবং বিজ্ঞাপন অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, গ্যাদারওয়ানের দাবি, তারা মেটার বিজ্ঞাপন নীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো মেনেই কাজ করে। সংস্থার বক্তব্য, প্রতারণা, প্রাপ্তবয়স্কদের অনুপযুক্ত কনটেন্ট, সম্মতি ছাড়া এআই-নির্ভর অশ্লীল ছবি, শিশু শোষণ এবং জালিয়াতির বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। তবে বিতর্কের জেরে সংস্থাটি জানিয়েছে, এআই নিউডিফাই ও ফেস-সোয়াপ পরিষেবার জন্য নতুন বিজ্ঞাপন অ্যাকাউন্ট তৈরি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং নীতিগত পর্যালোচনা চলছে।
টিটিপি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে মেটার বিজ্ঞাপন লাইব্রেরিতে এমন একাধিক বিজ্ঞাপন দেখা গিয়েছিল, যেখানে তরুণীদের যৌন আবেদনময়ী ছবি ব্যবহার করে লেখা ছিল, “Create a video with any face।” এসব বিজ্ঞাপন ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন এআই-ভিত্তিক ফেস-সোয়াপ ও নিউডিফাই অ্যাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ‘BAfter’ নামে একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে এমন একটি বিভাগ ছিল, যেখানে পর্নোগ্রাফিক ফেস-সোয়াপ কনটেন্ট পাওয়া যাচ্ছিল। অ্যাপটির বিরুদ্ধে গুগল প্লে-তে কয়েকজন ব্যবহারকারী নাবালকদের এআই-ভিত্তিক অশ্লীল ভিডিও থাকার অভিযোগও করেন। পরে অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। গ্যাদারওয়ান জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমস্ত বিজ্ঞাপন পরিষেবা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মেটাও জানিয়েছে, BAfter-কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি নিউডিফাই অ্যাপের লিঙ্ক ব্লক করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে মেটার চিন-নির্ভর বিজ্ঞাপন ব্যবসা। সংস্থার আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালে চিন থেকে মেটার আয় ছিল ১৮৪০ কোটি মার্কিন ডলার, যা তাদের মোট বৈশ্বিক আয়ের প্রায় ১১ শতাংশ। যদিও চিনে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম নিষিদ্ধ, তবুও চিনা সংস্থাগুলি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশি গ্রাহকদের লক্ষ্য করে মেটার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দেয়।
এদিকে মেটার প্রাক্তন কর্তা ও হুইসলব্লোয়ার সারা উইন-উইলিয়ামস আগেই মার্কিন কংগ্রেসে দাবি করেছিলেন, সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে চিনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রেও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে। যদিও তাঁর অভিযোগের বিষয়ে মেটা প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
এআই-ভিত্তিক নিউডিফিকেশন প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া কিশোর-কিশোরীদের অর্ধেকেরও বেশি অন্তত একবার নিউডিফাই টুল ব্যবহার করেছে এবং এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি জানিয়েছে, তারা নিজেরাই এই প্রযুক্তির শিকার হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অ্যাপ স্টোর থেকে এ ধরনের অ্যাপ সরিয়ে দেওয়া হলেও ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইট বা মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই সেগুলিতে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন বন্ধ করলেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে আরও কঠোর নজরদারি, আইনি ব্যবস্থা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


