চিনের বাঁধের পাল্টা, জাতীয় নিরাপত্তায় আপস নয়: সিয়াং প্রকল্পে অনড় অরুণাচল সরকার
এক দিকে প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনগুলির প্রতিবাদ, অন্য দিকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে প্রকল্পের পক্ষে আরও জোরালো সওয়াল করল অরুণাচল সরকার। রাজ্যের মন্ত্রী ওজিং তাসিংয়ের বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত কোনও বিষয়ে সরকার আপস করতে পারে না।
অরুণাচলপ্রদেশে প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্প নিয়ে টানাপড়েন থামার নাম নেই। এক দিকে প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনগুলির প্রতিবাদ, অন্য দিকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে প্রকল্পের পক্ষে আরও জোরালো সওয়াল করল অরুণাচল সরকার। রাজ্যের মন্ত্রী ওজিং তাসিংয়ের বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত কোনও বিষয়ে সরকার আপস করতে পারে না। চিন সীমান্তের ওপরে বড় বাঁধ ও পরিকাঠামো তৈরি করছে, সেই বাস্তবতার কথা মাথায় রেখেই সিয়াং প্রকল্পকে দেখতে হবে।

বিদ্যুৎ নয়, নিরাপত্তার প্রশ্নও
প্রস্তাবিত ১১ হাজার মেগাওয়াটের সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও এর গুরুত্ব আরও অনেক বেশি বলে দাবি রাজ্য সরকারের। মন্ত্রী তাসিংয়ের মতে, প্রকল্পটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
চিন সীমান্তের ওপারে সিয়াং নদীর উজানে পরিকাঠামো তৈরির প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্পকে কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার। তাসিংয়ের বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তা কেন্দ্রের বিষয়। সেই জায়গায় রাজ্যের পক্ষে আপস করার সুযোগ নেই। তাই প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় স্তরে আলোচনা চললেও নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট।
‘৮০ শতাংশের বেশি মানুষের সমর্থন’
প্রকল্পের বিরুদ্ধে যে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছে, সেই দাবিও মানতে নারাজ সরকার। তাসিংয়ের দাবি, প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাবের আওতায় থাকা গ্রামগুলির ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পক্ষে।
শিয়াং জেলার উপ-আয়ুক্ত তায়ি তাগ্গুও একই ধরনের দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, একাধিক গ্রামে প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা বা প্রি ফিজিবিলিটি রিপোর্ট তৈরির কাজে সম্মতি জানিয়ে সমঝোতা হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় ৯০ শতাংশেরও বেশি বাসিন্দা প্রকল্পের পক্ষে রয়েছেন বলেও দাবি প্রশাসনের।
স্থানীয়দের আপত্তি কোথায়?
তবে প্রশাসনের এই বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি তুলে ধরছে আন্দোলনকারীরা। শিয়াং ইন্ডিজেনাস ফার্মার্স ফোরাম এবং আরও কয়েকটি আদিবাসী সংগঠনের অভিযোগ, প্রকল্পের জেরে পরিবেশের বড় ক্ষতি হতে পারে। ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় এত বড় প্রকল্প তৈরি নিয়েও তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে।
আন্দোলনকারীদের আরও দাবি, প্রকল্প হলে শিয়াং উপত্যকার একাধিক গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কৃষিজমি হারানোর পাশাপাশি বহু পরিবারকে সরিয়ে দিতে হতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই প্রকল্পের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন চলছে।
‘পিএফআর মানেই বাঁধ হচ্ছে না’
অন্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু আগেই জানিয়েছেন, আপাতত প্রকল্প তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে না। প্রথমে প্রি ফিজিবিলিটি রিপোর্ট বা পিএফআর তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের সমীক্ষায় যদি দেখা যায় প্রকল্পটি প্রযুক্তিগত ভাবে কার্যকর নয়, তা হলে সেটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে না।
অর্থাৎ এখনকার পর্যায়ে মূল কাজ হল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই। পরিবেশ, প্রযুক্তি, জলপ্রবাহ এবং মানুষের উপর প্রভাব সবকিছু খতিয়ে দেখার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা।
প্রতিবাদ নয়, শান্তিপূর্ণ আলোচনার বার্তা
মন্ত্রী তাসিং অবশ্য স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার দরজা বন্ধ করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, সরকার মানুষের উদ্বেগ শুনতে প্রস্তুত। কিন্তু প্রতিবাদের নামে আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করা বা হিংসার পথ নেওয়া বরদাস্ত করা হবে না।
গত কয়েক দিনে প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ এবং উত্তেজনার ঘটনাও ঘটেছে। কয়েকটি জায়গায় সরকারি কাজ ব্যাহত করা এবং জনপ্রতিনিধিদের বাড়ি ঘেরাওয়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, আপত্তি জানানোর অধিকার থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।
সিয়াং প্রকল্পে এখন দ্বিমুখী চাপ
এক দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং চিনের পাল্টা কৌশল হিসেবে প্রকল্পের পক্ষে জোর দিচ্ছে সরকার। অন্য দিকে স্থানীয়দের পরিবেশ, জমি ও বসতভিটা রক্ষার দাবি রয়েছে। ফলে সিয়াং প্রকল্প এখন শুধু একটি বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নয়, বরং উন্নয়ন, পরিবেশ এবং জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য খোঁজার বড় পরীক্ষা। সরকারের অবস্থান আপাতত স্পষ্ট। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস নয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সমীক্ষা এবং আলোচনার পথও খোলা থাকছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


