বরযাত্রী নিয়ে পৌঁছতেই চক্ষু চড়কগাছ! বিয়ের ফাঁদে ৩০,০০০ খোয়ালেন স্বঘোষিত ‘গোরক্ষক’

বিট্ট বজরঙ্গীর আসল নাম রাজকুমার পাঞ্চাল।। পেশায় একজন ফল ও সবজি বিক্রেতা।

Published on: Feb 26, 2026 8:01 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বিয়ে করতে গিয়ে প্রতারিত হলেন হরিয়ানার স্বঘোষিত ‘গোরক্ষক’ বিট্টু বজরঙ্গী। পছন্দের মহিলার সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে বিট্টুর কাছে থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

বিট্টু বজরঙ্গী (সৌজন্যে টুইটার)
বিট্টু বজরঙ্গী (সৌজন্যে টুইটার)

কে এই বিট্টু বজরঙ্গী?

সংবাদ সংস্থা পিটিআই প্রতিবেদন অনুসারে, পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৩ সালে হরিয়ানার নুহ-র সাম্প্রদায়িক হিংসার অভিযুক্ত বিট্টুর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বিট্ট বজরঙ্গীর আসল নাম রাজকুমার পাঞ্চাল।। পেশায় একজন ফল ও সবজি বিক্রেতা। গত কয়েক বছর ধরে ‘গো রক্ষা বজরং ফোর্স’ নামে একটি দল চালাচ্ছেন তিনি। যে দলের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগও রয়েছে। হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসাবে ফরিদাবাদের এনআইটি কেন্দ্র থেকে লড়াই করেছিলেন এই স্বঘোষিত ‘গোরক্ষক।' হরিয়ানার নুহতে যে হিংসা ছড়িয়েছিল ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, সেই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত বিট্টু। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত।

ঘটনার সূত্রপাত

বিট্টু বজরঙ্গীর অভিযোগ, তাঁর প্রতিবেশীর এক আত্মীয় বান্টিকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি বিয়ে করতে চান এবং উপযুক্ত পাত্রী পেলে যেন তাঁকে জানান। বান্টিকে পাত্রী খোঁজার দায়িত্ব দেন। তাঁর কথামতো রানি নামে এক মহিলার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন বান্টি। এরপর তাঁদের মধ্যে কাথাবার্তাও হয়। অভিযোগ, কিছু দিন পর বিট্টুকে বান্টি জানান, রানি তাঁর সঙ্গে দেখা করে বিয়ের সম্পর্কে আলোচনা করতে চান। সেই পরিকল্পনা মতো আলিগড়ে বান্টি এবং রানির সঙ্গে দেখা করেন বিট্টু। তিনবার বান্টিদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। কিন্তু তাঁর পছন্দ হয়নি। বিট্টুর দাবি, কিছুদিন পর বান্টি এক তরুণীর ছবি পাঠান বিট্টুকে। সেই তরুণীকে পছন্দও হয়েছিল তাঁর।

বিট্টুর অভিযোগ, তারপর গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর, ওই তরুণী এবং তাঁর পরিবারকে নিয়ে বিট্টুর বাড়িতে হাজির হন বান্টি এবং রানি। চলতি বছর ৭ ফেব্রুয়ারি বিয়ের পাকা কথা স্থির হয়। জানা গেছে, ৬ ফেব্রুয়ারি হবু স্ত্রীর বিয়ের পোশাক কেনাকাটার জন্য বান্টিকে ৩০ হাজার টাকা দেন বিট্টু। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি আত্মীয়দের নিয়ে আলিগড়ে বিয়ে করতে যান বিট্টু। কিন্তু তাঁকে যে বাড়ি দেখানো হয়েছিল, গিয়ে দেখেন সেটি তালা দেওয়া। এরপরই ওই তরুণীকে ফোন করেন বিট্টু। কিন্তু ওই তরুণী জানিয়ে দেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। শেষে হতাশ হয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হন বিট্টু। বিট্টু বলেন, 'আমি যখন কনেকে ফোন করি, তখন বলে যে সে বিয়ের বিষয়ে কিছুই জানে না এবং আমাকে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে। তারপরই তিনি প্রতারণার অভিযোগ তুলে থানায় যান। বান্টি এবং রানির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। বিট্টুর অভিযোগের ভিত্তিতে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় বান্টি, রানি এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে সরান থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, বিট্টু এবং অভিযুক্তদের মধ্যে চুক্তির অংশ হিসেবে ভুক্তভোগীকে বিয়ের আয়োজনের জন্য ১.২০ লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে।