Ketan Agrawal Murder Case: কেতন হত্যাকাণ্ডে ক্রিকেট যোগ! শুধু সিয়া নয় দাদাও চিনতেন চেতনকে, বিস্ফোরক তথ্য...

Ketan Agrawal Murder Case: তদন্তকারী সূত্রের দাবি, চেতন চৌধুরী একজন ক্রিকেট খেলোয়াড় এবং অতীতে সাহিল গোয়েলের সঙ্গে একাধিক ম্যাচ খেলেছিলেন। সাহিল ও চেতনের মধ্যে প্রথম পরিচয় হয় ২০২৪ সালে ক্রিকেটের মাধ্যমে।

Published on: Jun 27, 2026, 14:59:18 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Ketan Agrawal Murder Case: পুণের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল খুনের তদন্তে প্রতিদিনই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এরই মধ্যে পুলিশের হাতে উঠে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় দুই অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল এবং চেতন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, সিয়া এবং চেতনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ছিল। সিয়ার দাদা সাহিল গোয়েলের সঙ্গে ক্রিকেট খেলার সুবাদে পরিচয় হয় চেতনের। চেতন একজন ক্রিকেটার। এবং চেতন সাহিলের সঙ্গে বহুবার ক্রিকেট খেলেছে।

কেতন হত্যাকাণ্ডে ক্রিকেট যোগ!
কেতন হত্যাকাণ্ডে ক্রিকেট যোগ!

‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর পূর্ব প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোহাগড় দুর্গ মৃত্যু মামলায় তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সাহিলকে গত শুক্রবার প্রায় ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ম্যারাথন জেরা করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সাহিল পুলিশকে জানিয়েছেন যে, চেতনের সঙ্গে সিয়ার প্রেমের সম্পর্কের কথা তিনি জানতেন। কিন্তু সিয়ার সঙ্গে কেতনের বাগদান হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি বোনকে এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন। গত ১৮ জুন লোহগড় দুর্গে খাদে পড়ে মৃত্যু হয় ২৬ বছরের কেতন আগরওয়ালের। প্রথমে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশ দাবি করে, এটি পরিকল্পিত খুন। অভিযোগ, সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে কেতনকে খাদে ঠেলে হত্যা করেন।

ক্রিকেটের মাঠে বন্ধুত্ব

তদন্তকারী সূত্রের দাবি, চেতন একজন ক্রিকেট খেলোয়াড় এবং অতীতে সাহিল গোয়েলের সঙ্গে একাধিক ম্যাচ খেলেছিলেন। সাহিল ও চেতনের মধ্যে প্রথম পরিচয় হয় ২০২৪ সালে ক্রিকেটের মাধ্যমে। সেই সময়ে সিয়াও ভাইয়ের সঙ্গে মাঠে যেতেন। সেখানে তাদের প্রথম পরিচয় তৈরি হয় বলে মনে করা হচ্ছে। পরে ২০২৫ সালের দেওয়ালির সময়ে এক পরিচিতের পার্টিতে তাদের আবার দেখা হয় এবং তার পরেই ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হন তাঁরা। পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, 'সাহিল চেতনকে চিনতেন। আমরা তার সঙ্গে বেশ কিছু তথ্য ক্রস-চেক করার জন্য তাকে সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।' সাহিল ছাড়াও এই মামলার সঙ্গে জড়িত সিয়ার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও খুব শীঘ্রই বয়ান রেকর্ড করার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।

পরিবারের বিয়ের পরিকল্পনা, তারপরে সম্পর্ক?

তদন্তকারীদের দাবি, সিয়ার পরিবার তাঁদের সম্পর্ক জানতে পারার পরেই নাকচ করে দেন। তাঁদের চোখে সিয়ার জন্য চেতন মোটেও উপযুক্ত পাত্র ছিল না। অভিযোগ, আর্থিক অবস্থার পার্থক্যকে গুরুত্ব দিয়ে পরিবার সিয়ার বিয়ে ঠিক করে ব্যবসায়ী পরিবারের ছেলে কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে। গোয়েল ফ্যামিলিরও ড্রাই ফ্রুটসের ব্যবসায় প্রতিপত্তি যথেষ্ট। পুলিশের হাতে আসা কল ডিটেল রেকর্ড অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সিয়া ও চেতনের মধ্যে প্রায় ২,০০৪ বার ফোনে কথা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, এই কথোপকথনের মোট সময় প্রায় ২৩৮ ঘণ্টা। এই তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের নজরে তাদের চ্যাটও। অন্যদিকে, চেতনের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেও সিয়া বিয়ের আয়োজনে সক্রিয়ভাবে যোগ দিয়েছিল। সে প্রায়ই কেতনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করত, এমনকী কেতনের সঙ্গে বালিতে একটি প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটেরও পরিকল্পনা করেছিল। তদন্তে আরও ডিজিটাল প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা মোবাইল থেকে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ইনস্টাগ্রাম কথোপকথন এবং অন্যান্য তথ্য মুছে ফেলেছিল। এমনকী ডিলিটেড ফোল্ডারও পরিষ্কার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এখন ফরেনসিক টিম সেই ডেটা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

এদিকে পুলিশ সূত্রের খবর, সিয়া কেন কেতনকে বিয়ে করতে চাননি, তার পিছনে লুকিয়ে ছিল বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট এবং চাঞ্চল্যকর কারণ। তদন্তকারীদের হাতে আসা সিয়ার বয়ানে উঠে এসেছে কেতনের ‘পাতলা চুল’ ছিল, যা নাকি তীব্র অপছন্দ ছিল হবু কনের! তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের সূত্র অনুযায়ী, কেতনের মাথার পাতলা হয়ে আসা চুল সিয়া মোটেও মেনে নিতে পারছিলেন না। যদিও কেতনের বাবা জানিয়েছেন যে, চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার কারণে তাঁদের ছেলে পরচুলা বা ছোট হেয়ার প্যাচ পরতেন সেকথা সিয়ার বাড়িতে আগেই জানানো হয়েছিল।

ক্যাফে মিটে নজর পুলিশের

কেতনকে খুনের ঠিক একদিন আগে অর্থাত্‍ ১৭ জুন সিয়া ও চেতন এক ক্যাফ দেখা করে। পুণের লুল্লানগরের এক ক্যাফেতে তারা প্রায় ১ ঘণ্টা কাটায়। সেখানে বসেই কী তারা কেতনকে খুনের প্ল্যান করে, সেই দিকেও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা।