Mumbai: ডেড লেটার বক্স, এনক্রিপটেড অ্যাপ,মহিলা কুরিয়ার! US থেকে টাইগার শ্রফের উপর হামলার নির্দেশ,যেভাবে ঘটে পুরো অপারেশন

Mumbai Shootout: জানা গেছে, কিছুদিন আগেই জামিনে মুক্তি পাওয়া কুণাল হরিয়ানার এক বন্ধুর মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অনিল পণ্ডিতের সংস্পর্শে আসে। অনিল পণ্ডিতই এই হামলার দায় স্বীকার করে একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করেছিল।

Published on: Oct 21, 2026, 13:33:09 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Mumbai Shootout: বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অস্ত্র সরবরাহকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ স্পেশাল সেল। পরবর্তীতে তাদের মুম্বই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই মুহূর্তে পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে অমৃতসর থেকে মুম্বইয়ে পিস্তল ও গোলাবারুদ পৌঁছানোর বিষয়, অস্ত্র সরবরাহে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা এবং ঘটনার পর হামলাকারীদের শহর থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তার চেষ্টার অভিযোগ।

US থেকে টাইগার শ্রফের উপর হামলার নির্দেশ, যেভাবে ঘটে পুরো অপারেশন (@ShelarAshish)
US থেকে টাইগার শ্রফের উপর হামলার নির্দেশ, যেভাবে ঘটে পুরো অপারেশন (@ShelarAshish)

রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইতে অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো গুলিবর্ষণের ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহ করেছিল এই চক্রটি। তারা হলেন— হরিয়ানার সোনিপতের কুণাল ও সুমিত এবং উত্তরপ্রদেশের রাধা ও ববিতা। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিনেতার ওপর হামলার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করতে আন্ডারওয়ার্ল্ড বা আন্তর্জাতিক গুপ্তচর সংস্থার কায়দায় নিখুঁত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছিল লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, আধুনিক 'এনক্রিপ্টেড চ্যাট', রহস্যজনক 'ডেড লেটার বক্স' পদ্ধতি এবং পুলিশের নজর এড়াতে মহিলা বহনকারীদের ব্যবহার করে মারণাস্ত্র মুম্বইয়ের পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের বক্তব্য, অস্ত্র সরবরাহকারীরা এবং যারা গুলি চালিয়েছে—তাদের মধ্যে কোনও সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। যাতে কোনও একজন ধরা পড়লেও পুরো চক্রের হদিস না পাওয়া যায়, সেজন্যই এই জটিল ও হাই-টেক ছক কষা হয়েছিল।

হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র পৌঁছে দিতে ঠান্ডা যুদ্ধের আমলের কুখ্যাত গোয়েন্দা পদ্ধতি 'ডেড লেটার বক্স' (Dead Letter Box বা Dead Drop) কাজে লাগায় চক্রটি। এই পদ্ধতিতে অস্ত্র বহনকারী ব্যক্তি জনবহুল বা নির্জন কোনও পূর্বনির্ধারিত গোপন স্থানে অস্ত্র ও গুলি রেখে চলে যায়। এরপর এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে সেই জায়গার লোকেশন ও ছবি পাঠানো হয় শুটারদের। শুটাররা পরে গিয়ে সেই অস্ত্র সংগ্রহ করে। ফলে অস্ত্র বহনকারী ও শুটাররা একে অপরকে কখনোই দেখতে পায় না। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগেই জামিনে মুক্তি পাওয়া কুণাল হরিয়ানার এক বন্ধুর মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত গ্যাংয়ের অন্যতম চালিকাশক্তি অনিল পণ্ডিতের সংস্পর্শে আসে। অনিল পণ্ডিতই এই হামলার দায় স্বীকার করে একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করেছিল। কুণাল সম্পূর্ণ পরিকল্পনা এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে অনিলের নির্দেশনায় পরিচালনা করত এবং তার কথামতোই সে অমৃতসর থেকে একটি পিস্তল ও ২০ রাউন্ড গুলি সংগ্রহ করে।

জানা যায়, কুণালের প্ররোচনায় রাধা ও ববিতা অস্ত্রটি মুম্বইতে পাচার করার মূল কাজটি করেছিল। গত ১৫ অক্টোবর হামলার তিন দিন আগে কুণাল ওই দুই মহিলাকেকে নতুন দিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দেয়। সেখান থেকে ট্রেনে করে মুম্বই যাওয়ার সময় রাধার ব্যাগের ভেতরে পিস্তলটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। যাত্রাপথেও কুণাল এনক্রিপটেড অ্যাপের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে অনিলের নির্দেশনা পৌঁছে দিচ্ছিল। আরও জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর অর্থাৎ হামলার ঠিক আগের দিন দুই মহিলা মুম্বইয়ের দাদর স্টেশনে পৌঁছে একটি হোটেলে ওঠে। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন সকাল ১১টার দিকে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর রাধার কাছ থেকে অস্ত্রভর্তি ব্যাগটি সংগ্রহ করে। এরপর ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় হৃতিক, রেহান ও ফুল সিং নামের তিন অভিযুক্ত টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলা চালায়। হামলার পরপরই অনিল পণ্ডিত কুণালকে জানায়, শ্যুটাররা মুম্বইতে আটকে পড়েছে এবং তাদের শহর ছাড়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেয়। এদিকে হামলার কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র বহনকারী রাধা ও ববিতা সেদিনই হরদ্বীর এক্সপ্রেস ধরে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গত ২০ অক্টোবর নতুন দিল্লি রেলওয়ে স্টেশন থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি, হরিয়ানার সোনিপত থেকে কুণাল ও সুমিতকেও পাকড়াও করে পুলিশ। অন্যদিকে, পালিয়ে যাওয়ার সময় রাজস্থানের কোটায় একটি ট্রেন থেকে হৃতিক, রেহান ও ফুল সিংকেও গ্রেফতার করা হয়।