Meerut Blue Drum Murder: জেলেই জন্ম দিয়েছিলেন দ্বিতীয় কন্যার! ফাঁসির সাজা পেয়েছে মুসকান, কী হবে সন্তানের ভবিষৎ?
Meerut Blue Drum Murder: গত ১৪ অক্টোবর মিরাট জেলা আদালত স্বামী সৌরভ রাজপুতকে খুনের মামলায় স্ত্রী মুসকান রাস্তোগী এবং তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায়। এর পরেই জেলে জন্ম নেওয়া মুসকানের ১০ মাসের শিশুকন্যা রাধার ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশজুড়ে নানা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়।
Meerut Blue Drum Murder: প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে নির্মম হত্যা। উত্তরপ্রদেশের মিরাটের প্রাক্তন মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে খুনের মামলায় তাঁর স্ত্রী মুসকান রাস্তোগী এবং প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে আদালত। কিন্ত জেলেই এক শিশু সন্তানের জন্ম দিয়েছেন মুসকান রাস্তোগী। কী হবে সেই শিশু কন্যার ভবিষ্যৎ? এই আবহে ছোট্টো শিশুর জীবন বাঁচাতে দেবদূতের মতো এগিয়ে এসেছেন মুম্বইয়ের ফয়জান আনসারি। জেলের অন্ধকারের বদলে শিশুটিকে সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে বড় করে তোলার আর্জি জানিয়ে মিরাট জেলা আদালতে দত্তক নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

গত ১৪ অক্টোবর মিরাট জেলা আদালত স্বামী সৌরভ রাজপুতকে খুনের মামলায় স্ত্রী মুসকান রাস্তোগী এবং তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায়। এর পরেই জেলে জন্ম নেওয়া মুসকানের ১০ মাসের শিশুকন্যা রাধার ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশজুড়ে নানা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই এই পদক্ষেপ করেন মুম্বইয়ের ইনফ্লুয়েন্সার। নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে ফয়জান আনসারি জানান, তিনি চান রাধা যেন মায়ের কারাবাসের ছায়ামুক্ত হয়ে একটি স্বাভাবিক ও সুরক্ষিত শৈশব পায়। তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর এই উদ্যোগ মুসকানের সাজার বিরুদ্ধে যাওয়া বা আদালতের কোনও আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার জন্য নয়; বরং নিছক মানবতাদৃষ্টি থেকে ওই নিষ্পাপ শিশুটির উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতেই তিনি এই দায়িত্ব নিতে চান।
সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা বা ভিউ পাওয়ার জন্য তিনি এমনটা করছেন—এই অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করে ফয়জান জানান, শিশুটির প্রতি সহমর্মিতা থেকেই তিনি এগিয়ে এসেছেন। শিশুটিকে যথাযথভাবে লালন-পালন করার সামর্থ্য প্রমাণের জন্য নিজের আর্থিক সক্ষমতার সমস্ত নথিও তিনি আদালতে জমা দিয়েছেন। তিনি স্থানীয় সরকারি কৌঁসুলি কে. কে. চৌবের সঙ্গে দেখা করে শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ফয়জান তার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার এবং তার জীবনের সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মিরাটের 'নীল ড্রাম' হত্যাকাণ্ড মামলায় মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে খুনের অপরাধে মুসকান ও তাঁর প্রেমিককে আদালত ফাঁসির আদেশ দেওয়ার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে শিশুটির ভবিষ্যৎ। ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর মিরাটের একটি মেডিকেল কলেজে জন্ম হয় রাধার। জন্মের পর থেকেই মায়ের সঙ্গে মিরাটের জেলেই রয়েছে সে।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। কারাবিধি অনুযায়ী, সন্তানরা ৬ বছর বয়স পর্যন্ত জেলেবন্দি মায়ের সঙ্গে থাকতে পারে। ফলে এখনই তাকে জেল থেকে বাইরে পাঠানোর কোনও প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা নেই। উল্লেখ্য, মুসকানের পিহু নামে সাত বছর বয়সি আরও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যে বর্তমানে মুসকানের বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে।
নৃশংস হত্যাকাণ্ড
সৌরভ ও মুসকানের বিয়ে হয়েছিল ২০১৬ সালে। দু’জনের প্রেমের সম্পর্ক থেকেই বিয়ে। পুলিশের দাবি, পরে সৌরভ জানতে পারেন, তাঁর বন্ধু সাহিলের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন মুসকান। এরপর তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের কথাও উঠেছিল। কিন্তু মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সৌরভ পিছিয়ে আসেন। ২০২৩ সালে ফের মার্চেন্ট নেভিতে কাজে যোগ দিয়ে বিদেশে চলে যান তিনি। ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মেয়ের জন্মদিনে তার সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি ফেরেন সৌরভ। পুলিশের তদন্ত উঠে আসে, ৩ মার্চ রাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সৌরভকে অচেতন করে দেয় মুসকান। তারপর সাহিলকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে খুন করে। অভিযোগ, দেহটি ১৫ টুকরো করে একটি নীল রঙের বড় ড্রামে ভরে সিমেন্ট দিয়ে সিল করে দেওয়া হয়। কয়েক দিন সৌরভের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। খুনের ১৪ দিন পর উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। তখনই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। স্ত্রী ও বন্ধুকে আটক করে জেরা শুরু করে তারা। পুলিশি জেরায় খুনের ঘটনাটি স্বীকার করে নেয় তারা।
E-Paper

