দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন মস্কোয়! সেই সিরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্টকে মৃত্যুদণ্ড, কে এই বাশার আল-আসাদ?

Syria's Ex-President: ৫০ ​​বছরেরও বেশি সময় ধরে সিরিয়া শাসন করেছেন হাফেজ আল-আসাদ এবং পরবর্তীতে তাঁর পুত্র বাশার আল-আসাদ। 'সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস'-এর তথ্য অনুসারে, ২০১১ সালে 'আরব বসন্ত'-এর সময় ২৩ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটিতে তাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়।

Published on: Aug 11, 2026, 16:26:00 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Syria's Ex-President: প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট তথা স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদকে (Bashar Al-Assad) মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিল সিরিয়ার আদালত। একই সাজা হয়েছে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর প্রাক্তন শীর্ষকর্তা তথা বাশার আল আসাদের ভাই মাহের আল-আসাদকেও (Maher Al-Assad)। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রাক্তন প্রধান আতেফ নাজিবকেও (Atef Najib) মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে। সিরিয়ায় ১৪ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলেছিল। যার জেরে পাঁচ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান। সেই সময়কার যুদ্ধাপরাধ' ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আসাদ ও নাজিব-কে দোষী সাব্যস্ত করার পর মৃত্যদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে।

কে এই বাশার আল-আসাদ?
কে এই বাশার আল-আসাদ?

আদালত রায় দিয়েছে যে, আতেফ নাজিব '১৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা' এবং 'নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানোর' মতো অপরাধ করেছেন। আদালত তাঁর বিরুদ্ধে 'সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড' ঘোষণা করার সময় জানায় যে, তাঁর এসব কর্মকাণ্ড 'মানবতাবিরোধী অপরাধ'-এর শামিল।

সিরিয়ায় স্বৈরাচারী শাসন

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন বাহিনী দামেস্কের দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে, সিরিয়ার প্রাক্তন এই শাসক তাঁর ভাই-সহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাশিয়ার মস্কোতে পালিয়ে যান। আসাদ-সাম্রাজ্যের পতনের পর, আল-কায়েদার প্রাক্তন কমান্ডার আহমেদ আল-শারা, যাকে এক সময় ওয়াশিংটন সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল, তিনি সিরিয়ায় নতুন সরকার গঠন করেন। দেশে থেকে যাওয়া নাজিবকে পরবর্তীতে আটক করা হয় এবং বিচারের মুখোমুখি হওয়া শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে তিনি চিহ্নিত হন। আসাদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এই রায়টি অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে দেওয়া প্রথম রায়। সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীনএই কর্তৃপক্ষ চলতি বছর থেকেই প্রাক্তন সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তির বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যার মধ্যে সরাসরি উপস্থিত থাকা এবং অনুপস্থিত- দু'ধরনের বিচারই অন্তর্ভুক্ত।

কে এই বাশার আল আসাদ?

৫০ ​​বছরেরও বেশি সময় ধরে সিরিয়া শাসন করেছেন হাফেজ আল-আসাদ এবং পরবর্তীতে তাঁর পুত্র বাশার আল-আসাদ। 'সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস'-এর তথ্য অনুসারে, ২০১১ সালে 'আরব বসন্ত'-এর সময় ২৩ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটিতে তাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। যা পরবর্তীতে ১৩ বছর ধরে চলা ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত করে এবং এতে পাঁচ লক্ষেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ লেবানন, জর্ডান, তুরস্ক ও ইউরোপে পালিয়ে গিয়েছিল। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আসাদ পরিবার সাম্প্রদায়িক বিভেদকে কাজে লাগিয়েছিল। তাদের সেই কর্মকাণ্ডের জের ধরেই সিরিয়ায় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু দেশটির নতুন নেতারা এমন এক রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যেখানে সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত থাকবে।

বাশার আল আসাদের উত্থান

২০০০ সালের জুলাই মাসে প্রেসিডেন্ট হন বাশার আল-আসাদ। একই সময়ে তিনি বাথ পার্টির নেতা ও সামরিক বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব নেন। ১৯৬৫ সালে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বাশারের জন্ম। দামেস্কে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। দামেস্ক ইউনিভার্সিটি থেকে চক্ষুবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করেন। তাঁর ইচ্ছে ছিল চোখের চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু ১৯৯৪ সালে পথ দুর্ঘটনায় দাদার মৃত্যুর কারণে বাবার উত্তরসূরি হিসেবে প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হন বাশার আল-আসাদ। এরপর থেকেই সিরিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে যায়। ২০০০ সালে বাবার মৃত্যুর পর মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তিনি দেশের শাসনভার নিজের কাঁধে তুলে নেন। ২০০৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাশার পুনর্নির্বাচিত হন।

শাসনকালের শুরুর দিকে বাশার সংস্কারের ভূমিকা রাখেন। প্রশাসনিক-রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক উদারীকরণের পথে হাঁটেন। এ ক্ষেত্রে বাবার আমলের বেশ কিছু কঠোর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেন তিনি। তবে পরিস্থিতি ক্রমেই বদলে যায়। সংস্কারকের ভূমিকা থেকে আসাদ কর্তৃত্ববাদী শাসক হয়ে উঠতে শুরু করেন। বিরোধী মত দমনে তাঁর কুখ্যাতি ছড়াতে থাকে। সিরিয়ায় গ্রেফতার করা হয় বহু সরকার বিরোধী শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবীকে। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমী গণতন্ত্র সিরিয়ার জন্য নয়।’ বাশার ক্ষমতা গ্রহণের আগে থেকেই সিরিয়ার তরুণদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, দুর্নীতি, রাজনৈতিক ও বাক্‌স্বাধীনতার অভাববোধ থেকে তুমুল হতাশা ছিল, যা উসকে দেয় আরব বসন্ত।