...
...
Next Story

US Midterm Election Exit Poll Survey: ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ভুল! মনে করছেন ১০ জনের ৬ জন মার্কিন ভোটার

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ভোটের দিনের সমীক্ষা অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মনে করছেন প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার। অন্য দিকে, কংগ্রেসের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে বিবেচনা করেছেন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার।

Published on: Nov 4, 2026, 07:36:54 IST
Advertisement

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন না দেশের অধিকাংশ মানুষ। অন্তত তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটের দিনের সমীক্ষায়। সমীক্ষা বলছে, প্রতি ১০ জন আমেরিকানের মধ্যে প্রায় ৬ জনের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। ফলে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রতি সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। শুধু ইরান যুদ্ধ নয়, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জীবনযাত্রার খরচ নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনে অস্বস্তি বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ভোটের দিনের সমীক্ষা অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মনে করছেন প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার। (REUTERS)
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ভোটের দিনের সমীক্ষা অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মনে করছেন প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার। (REUTERS)

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ভোটের দিনের সমীক্ষা অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মনে করছেন প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার। অন্য দিকে, কংগ্রেসের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে বিবেচনা করেছেন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার। তবে জীবনযাত্রার খরচ এবং সরকারি দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগের তুলনায় এই সংখ্যা কম। অর্থাৎ, যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও ভোটারদের কাছে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধের খরচ নিয়েও প্রশ্ন

ইরান যুদ্ধের আর্থিক বোঝা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতের পিছনে আমেরিকার খরচ ইতিমধ্যেই ৪৭১০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। যুদ্ধের জেরে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। যদিও ট্রাম্পের আশা, আগামী দিনে এই দাম কমবে। কিন্তু ভোটারদের একাংশের মতে, যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে পড়ছে। ফলে সামরিক অভিযানের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।

দেশের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটাররা

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ কম নয়। প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটারের মতে, দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভাল নয়। তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং জ্বালানির খরচ। সমীক্ষা বলছে, প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার অর্থনীতিকে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বলে মনে করছেন। প্রায় ৩০ শতাংশের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গণতন্ত্রের অবস্থা। অভিবাসন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মনে করেছেন প্রায় ১০ শতাংশ ভোটার।

সরকারি দুর্নীতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচও ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা নিয়েছে। প্রায় অর্ধেক ভোটার জানিয়েছেন, কংগ্রেসের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এই দুই বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি এআই তথ্যকেন্দ্র এবং অভিবাসন নীতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে সেগুলির গুরুত্ব তুলনায় কম।

রয়টার্সের বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের উপর ক্ষুব্ধ ভোটারদের একাংশ। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, তিন-চতুর্থাংশ ভোটার দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট। তাঁদের অনেকেরই ধারণা, ইরান যুদ্ধ এবং শুল্ক নীতির মতো সিদ্ধান্ত অর্থনীতির সমস্যাকে আরও বাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়েছে। এই নির্বাচনের ফলের উপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে থাকার বাকি দুই বছরে তাঁর প্রশাসনের নীতি কতটা বাধাহীন ভাবে কার্যকর হবে, তা-ও অনেকটা নির্ভর করছে এই ফলের উপর। তার আগে ভোটারদের মনোভাবের এই ছবি হোয়াইট হাউসের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks