পাকিস্তানের থরহরি কম্প! ভারতের আকাশ সুরক্ষায় আরও পাঁচটি S-400, ছাড়পত্র প্রতিরক্ষা বোর্ডের

২০১৮ সালে রাশিয়া ভারতের কাছে মোট পাঁচটি এস-৪০০ ইউনিট সরবরাহে সম্মত হয়েছিল। তারমধ্যে তিনটি ইতিমধ্যেই ভারতে এসেছে।

Published on: Mar 4, 2026, 18:34:15 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বিশ্বজুড়ে চলা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আসতে চলেছে এক বিশাল জোয়ার। অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের বর্ম হয়েছিল রাশিয়ার ‘এস-৪০০ সুদর্শন’ এয়ার ডিফেন্স মিসাইল। এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জোরেই পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে ড্রোন এমনকী ভয়ঙ্কর সব মিসাইল বাতাসেই নিকেশ করেছিল নয়া দিল্লি। এবার সেই সাফল্যকে সামনে রেখে রাশিয়া থেকে আরও পাঁচ ইউনিট এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) কেনার অনুমোদন পেল ভারতীয় বিমানবাহিনী। আরও এস-৪০০ কেনা হবে, তা আগেই ঠিক ছিল। এবার তা বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

ভারতের আকাশ সুরক্ষায় আরও পাঁচটি S-400 (HT Photo)
ভারতের আকাশ সুরক্ষায় আরও পাঁচটি S-400 (HT Photo)

বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহ। ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যুদ্ধে জড়িয়ে গিয়েছে প্রায় ১০টি দেশ। দুবাই, কুয়েত, আরব আমিরশাহি, ওমান-সহ ৯টি দেশে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে ইরান। ইরানের লক্ষ্যে রয়েছে, ওই দেশগুলিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি। এছাড়াও সাধারণ মানুষের উপরেও হামলা চলছে লাগাতার। এহেন পরিস্থিতিতে ভারত রাশিয়ার থেকে আরও ৫টি এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স মিসাইল কিনছে, যা অত্যন্ত তাত্‍পর্যপূর্ণ। জানা গিয়েছে, প্রতিরক্ষাসচিব রাজেশকুমার সিংয়ের নেতৃত্বে গঠিত বোর্ড ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। এবার বিষয়টি যাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা ক্রয় বিষয়ক পরিষদের (ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি) কাছে। সেখানে ছাড়পত্র পাওয়ার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিএস) কাছে পাঠানো হবে।

২০১৮ সালে রাশিয়া ভারতের কাছে মোট পাঁচটি এস-৪০০ ইউনিট সরবরাহে সম্মত হয়েছিল। তারমধ্যে তিনটি ইতিমধ্যেই ভারতে এসেছে। চলতি বছরেই বাকি দুই ইউনিট রাশিয়া থেকে ভারতে চলে আসবে বলে মনে করছেন অনেকে। তার সঙ্গে আরও কয়েকটি এস-৪০০ জোড়ার পরিকল্পনা বেশ কয়েক দিন ধরেই করছিল ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। আর এই খবর যে নতুন করে শত্রুপক্ষের চিন্তা বাড়াবে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০২৫ সালের ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটিতে ভারতের হামলার পর পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছিল ইসলামাবাদ। ভারতের ১৫টি শহরকে লক্ষ্য করে ছোড়া সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলির অধিকাংশই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছনোর আগেই ভূপাতিত হয়। প্রতিরক্ষা সূত্রে দাবি, এস-৪০০ ব্যবহারের ফলেই সেই সাফল্য আসে। বর্তমানে ভারতীয় সেনার হাতে থাকা এস-৪০০-এর পাল্লা সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার। অন্যদিকে, ২০২১ সালে রুশ সেনার অন্তর্ভুক্ত হওয়া এস-৫০০ আদতে ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ‘ইন্টার-কন্টিনেন্টাল অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল’। এর পাল্লা সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোমিটার। ওই সীমার মধ্যে শত্রুপক্ষের ড্রোন, বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র এলেই তা নিমেষে ধ্বংস করে দিতে পারে এস-৫০০। ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফের নির্মাণ শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে প্রযুক্তি হস্তান্তরপর্ব। তার মধ্যেই আরও এস-৪০০ কেনার বিষয়টিও চূড়ান্ত করে ফেলতে চায় ভারতীয় সেনাবাহিনী।

সম্প্রতি ভারতীয় বায়ুসেনা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে এই সিস্টেমের দূরবর্তী আকাশপথে ধেয়ে আসা বিপদ শনাক্ত করার এবং তা ধ্বংস করার ক্ষমতা তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওটিতে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে কীভাবে মিসাইল সিস্টেম সক্রিয় হওয়ার আগেই রাডার স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ধেয়ে আসা যুদ্ধবিমানকে লক করে নেয়। ভারতীয় বায়ুসেনা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে আসন্ন মহড়ার কথা উল্লেখ করে জানায়, 'অব্যর্থ, দুর্ভেদ্য এবং নির্ভুল। আর মাত্র ১ দিন বাকি। ভারতীয় বায়ুসেনা পোখরানে‘বায়ু শক্তি ২০২৬’-এর ফুল ড্রেস রিহার্সালের সময় সমস্ত অপারেশনাল প্যারামিটার সফলভাবে যাচাই করেছে এবং সমস্ত লক্ষ্যবস্তুকে কার্যকরভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।