Delhi Building Collapse: দিল্লির ছ’তলা ভবন ধসে আরও বাড়ল মৃতের সংখ্যা, আটকে আরও অনেকে, ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও উদ্ধার কতজন?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্যও প্রার্থনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
Delhi Building Collapse Death Toll Update: দিল্লির সত্যা নিকেতনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। রবিবার দুপুরে একটি ছ’তলা ভবন হঠাৎ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬ জনের। আরও দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ১১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের জন্য বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের নেতৃত্বে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি সরকার।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্যও প্রার্থনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভেঙে পড়া ভবনটি ৭৫ শয্যার একটি ভাড়াটে আবাসন হিসেবে ব্যবহার করা হত। ভবনের মালিক গুরগাঁওয়ে থাকেন। সত্যা নিকেতন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছে হওয়ায় এলাকায় বহু ছাত্রছাত্রীর বসবাস রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ভবনটি প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরনো। নিচে একটি ভূগর্ভস্থ তলা এবং তার উপরে পাঁচটি তলা ছিল। ঘটনার সময় ভবনের ভূগর্ভস্থ তলায় মেরামতির কাজ চলছিল। সেই সময়ই আচমকা ভবনটি ভেঙে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে দিল্লি পুলিশ, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, দিল্লি দমকল এবং দিল্লি বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। উদ্ধারকাজে দমকলের একাধিক গাড়ি, অ্যাম্বুল্যান্স এবং খননযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ১২টি দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, দুর্ঘটনার সময় ভবনের ভিতরে প্রায় ৫০ জন ছাত্র থাকতে পারেন। রবিবার হওয়ায় অনেকেই তখন ভবনের ভিতরেই ছিলেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার শোনা গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন এক ছাত্র। স্থানীয় কয়েকজনও উদ্ধারকারী দল ও যন্ত্র আসার আগেই নিজেদের হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর পাশের একটি ভবনও খালি করে দেওয়া হয়েছে। ভবনটি নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করে দেখার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দ্রুত সাহায্য দেওয়ারও চেষ্টা চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ভবনটির মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারবিভাগীয় তদন্তও শুরু হবে। দুর্ঘটনার জন্য যাঁরা দায়ী প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
দিল্লির উপরাজ্যপাল তরনজিৎ সিং সান্ধুও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উদ্ধারকাজে যুক্ত সমস্ত সংস্থাকে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে বিরোধীদের পক্ষ থেকেও সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেছেন, ভবন ভেঙে পড়ার পিছনে দুর্নীতি ও দায়িত্বে গাফিলতি থাকতে পারে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ঘটনাটিকে এড়ানো সম্ভব ছিল এমন এক মর্মান্তিক ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দিল্লিতে পর্যাপ্ত ছাত্রাবাস না থাকায় বহু ছাত্রছাত্রীকে অনিরাপদ ও অতিরিক্ত ভিড়ের ভাড়াটে আবাসনে থাকতে হয়।
ঘটনার পর এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত আটকে আছেন কি না, তা খুঁজে বের করা এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি ভবন ভেঙে পড়ার আসল কারণ কী, মেরামতির কাজের সময় নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না—সেই প্রশ্নের উত্তরও খুঁজবে তদন্ত।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


