Delhi HC on Slums near PM House: প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে ৩ বস্তি খালি করার নির্দেশ, ৬ সপ্তাহ সময় দিল হাই কোর্ট

দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ জানিয়েছে, বি আর ক্যাম্প, মসজিদ ক্যাম্প এবং ডিআইডি কলোনির বাসিন্দাদের ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের বর্তমান বাসস্থান খালি করতে হবে।

Published on: Aug 26, 2026, 10:15:15 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে দিল্লির রেস কোর্স এলাকায় থাকা তিনটি ঝুপড়ি-বস্তি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, ওই তিন বস্তিতে বসবাসকারী ৩৫০-র বেশি মানুষকে আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের ঘর খালি করে প্রশাসনের নির্ধারিত পুনর্বাসন কেন্দ্রে চলে যেতে হবে। তাঁদের জন্য বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে দিল্লির সাভদা ঘেবরায়।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে দিল্লির রেস কোর্স এলাকায় থাকা তিনটি ঝুপড়ি-বস্তি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে দিল্লির রেস কোর্স এলাকায় থাকা তিনটি ঝুপড়ি-বস্তি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট।

দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ জানিয়েছে, বি আর ক্যাম্প, মসজিদ ক্যাম্প এবং ডিআইডি কলোনির বাসিন্দাদের ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের বর্তমান বাসস্থান খালি করতে হবে। একই সময়সীমার মধ্যে তাঁদের সাভদা ঘেবরার দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ড বা ডুসিব-এর কলোনিতে বরাদ্দ করা বাসস্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

আদালত আরও জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে জমি খালি করাতে পুলিশি সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তবে তার আগে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বাসিন্দাদের গৃহস্থালির জিনিসপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নতুন বাসস্থানে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও ডুসিবের উপর দেওয়া হয়েছে।

পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার নজরদারির জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছে আদালত। আগামী ছয় মাস এই কমিটি পুনর্বাসনের পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে। অবসরপ্রাপ্ত দিল্লি হায়ার জুডিশিয়াল সার্ভিসের আধিকারিক মনমোহন শর্মাকে কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। পাশাপাশি ডুসিব, দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা ডিডিএ এবং দিল্লি জল বোর্ডের শীর্ষ আধিকারিকদেরও কমিটিতে রাখা হয়েছে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের যুগ্মসচিব পর্যায়ের এক আধিকারিক, দিল্লি সরকারের শিক্ষা দফতরের মনোনীত এক আধিকারিক এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা দফতরের অতিরিক্ত অধিকর্তা পর্যায়ের এক আধিকারিককেও কমিটিতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

৪৯ পাতার রায়ে দিল্লি হাই কোর্ট স্পষ্ট করেছে, শুধু কোনও পরিবারকে অন্য জায়গায় সরিয়ে দিলেই পুনর্বাসনের দায়িত্ব শেষ হয় না। পুনর্বাসনকে অর্থবহ এবং কার্যকর হতে হবে। মানুষের মর্যাদা বজায় রেখে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকা জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারকে সামনে রেখেই এই পর্যবেক্ষণ করেছে আদালত।

পুনর্বাসিত পরিবারগুলির যাতায়াত নিয়েও কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, পুনর্বাসিত প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে প্রথম এক বছর বিনামূল্যে দিল্লি মেট্রোয় যাতায়াতের সুবিধা দিতে হবে। এর ফলে নতুন এলাকায় চলে যাওয়ার পর কাজ বা পড়াশোনার জন্য যাতায়াতে বাসিন্দাদের কিছুটা সুবিধা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে দিল্লি হাই কোর্টের একক বিচারপতির বেঞ্চ ১১ মে নির্দেশ দিয়েছিল, ওই ৩৫০ জন বাসিন্দাকে ১৫ দিনের মধ্যে নিজেদের বাড়ি খালি করতে হবে। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে বাসিন্দারা ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, পুনর্বাসন নীতির প্রয়োজনীয় নিয়ম মানা হয়নি। একই সঙ্গে দূরের সাভদা ঘেবরায় সরানোর পরিবর্তে নিজেদের বর্তমান এলাকায় পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছিলেন তাঁরা।

বাসিন্দাদের দাবি ছিল, বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছে। আশপাশের এলাকায় গৃহপরিচারক, নির্মাণ শ্রমিক এবং অন্যান্য ছোটখাটো পেশায় কাজ করে তাঁদের জীবিকা চলে। স্থানীয় স্কুলেই পড়াশোনা করে তাঁদের ছেলেমেয়েরা। ফলে দূরে সরিয়ে দেওয়া হলে জীবিকা, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

তবে ডিভিশন বেঞ্চ এবার ছয় সপ্তাহের সময় দিয়ে পুনর্বাসনের নির্দেশ বহাল রেখেছে। একই সঙ্গে পুনর্বাসন যাতে বাস্তবে কার্যকর হয় এবং বাসিন্দাদের মৌলিক অধিকার যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে নজরদারি কমিটিও গঠন করেছে আদালত।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More