Delhi High Court: 'সোনম ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে যা...,' কেন্দ্রকে বড় নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের
Delhi High Court: সোনম ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে যা যা চিকিৎসা প্রয়োজন, তা অবিলম্বে করতে হবে, কেন্দ্রকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর ২৪*৭ স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য একজন সরকারি চিকিৎসক নিয়োগ করতে হবে।
Delhi High Court: অনির্দিষ্টকালের অনশনের ১৯তম দিনে পৌঁছে শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছেন সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা এই আন্দোলনের মাঝেই তিনি জানিয়েছেন, 'আমি খুব ভালো অবস্থায় নেই, তবে একেবারে খারাপও নই।' বুধবার গভীর রাতে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে শারীরিক অবস্থা ভালো নয় স্বীকার করলেও লড়াই ছাড়তে নারাজ অনশনরত শিক্ষাবিদ-সমাজকর্মী। এই পরিস্থিতিতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল দিল্লি হাইকোর্ট।

সোনম ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে যা যা চিকিৎসা প্রয়োজন, তা অবিলম্বে করতে হবে, কেন্দ্রকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর ২৪*৭ স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য একজন সরকারি চিকিৎসক নিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি, কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োজন বুঝলে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করবে আদালত বলেও মিলেছে ইঙ্গিত। এদিন দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, 'প্রত্যেক নাগরিকের জীবন মূল্যবান। তাঁর জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব।'
বুধবার উচ্চ আদালতে একটি আবেদন জমা পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, ৫৯ বছরের ওয়াংচুক গত ১৯ দিনে প্রায় সাড়ে ৮ কেজি ওজন হারিয়েছেন। দ্রুত চিকিৎসা না হলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে উঠতে পারে। প্রয়োজনে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে তরল পুষ্টিকর খাদ্য, ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় খনিজ দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়। আদালতে আরও দাবি করা হয়, সোনম ওয়াংচুকর মৃত্যু হলে তা 'দেশ ও বিশ্বের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয় হবে।' তাই অবিলম্বে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এদিন মামলার শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা স্বীকার করে নেন, ওই সমাজকর্মীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবরও রাখছে না সরকার। তিনি জানান, 'সোনমের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে। তবে কখনও সেটা সরকারি চিকিৎসক করেন। কখনও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক।' সেই স্বীকারোক্তির পর দিল্লি হাইকোর্ট বলেছে, 'আমরা চাই সরকারি চিকিৎসকরাই ওই ব্যক্তির নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করুন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে যদি সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হয়, দয়া করে সেটা করুন। প্রত্যেকটা জীবন মূল্যবান।'
সোনম ওয়াংচুকর বার্তা
এদিকে, আদালতের নির্দেশের কয়েক ঘণ্টা আগেই একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি জানান, অনশনের জন্য দুর্বলতা থাকলেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে। তবে সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না। ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক মানুষকে যোগ দেওয়ারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষের সমর্থনই সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। সংসদ সদস্যদের হাতে এই দাবির বিষয়টি তুলে দেওয়া গেলে তবেই তিনি মনে করবেন, আন্দোলন সঠিক পথে এগোচ্ছে। স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক।
E-Paper

