দিল্লিতে পুলিশ সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভে নেতৃত্ব, পরের দিনই সাসপেন্ড এসিপি
মঙ্গলবার এসিপি মানস্বী বশিষ্ঠের কাছে সাসপেনশনের চিঠি পৌঁছেছে। পুলিশ সূত্র এই খবর নিশ্চিত করেছে। সোমবার দিল্লি পুলিশ সদর দফতরের বাইরে কয়েকশো পুলিশকর্মী বিক্ষোভ দেখানোর পরেই এই ঘটনা ঘটল। তবে সাসপেনশনের নির্দেশে ঠিক কী কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
পুলিশের বিরুদ্ধে নয়, পুলিশের হয়েই প্রতিবাদে নেমেছিলেন তাঁরা। সহকর্মীর বদলির প্রতিবাদ জানাতে দিল্লি পুলিশ সদর দফতরের সামনে জড়ো হয়েছিলেন কয়েকশো পুলিশকর্মী। নেতৃত্বে ছিলেন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) মানস্বী বশিষ্ঠ। কিন্তু সেই বিক্ষোভের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সাসপেনশনের চিঠি হাতে পেলেন তিনি। মঙ্গলবার এই খবর সামনে আসতেই দিল্লি পুলিশের অন্দরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। কেন সাসপেন্ড করা হল ওই পুলিশ আধিকারিককে? সোমবারের বিক্ষোভের সঙ্গে কি এই পদক্ষেপের কোনও যোগ রয়েছে? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজধানীর পুলিশ মহলে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার এসিপি মানস্বী বশিষ্ঠের কাছে সাসপেনশনের চিঠি পৌঁছেছে। পুলিশ সূত্র এই খবর নিশ্চিত করেছে। সোমবার দিল্লি পুলিশ সদর দফতরের বাইরে কয়েকশো পুলিশকর্মী বিক্ষোভ দেখানোর পরেই এই ঘটনা ঘটল। তবে সাসপেনশনের নির্দেশে ঠিক কী কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
কেন পথে নেমেছিলেন পুলিশকর্মীরা?
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ অক্টোবর। পূর্ব দিল্লির শাহদরা থানায় এক আইনজীবীকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই আইনজীবীর নাম ললিত বনসল। সংঘর্ষে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে থানায় যান কয়েক জন আইনজীবী।
অভিযোগ, সেখানে আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয়। আইনজীবীদের দাবি, এসিপি মানস্বী বশিষ্ঠ এবং শাহদরা থানার তৎকালীন ওসি অরুণ কুমার তাঁদের হুমকি দিয়েছিলেন। এমনকি মানস্বী নিজের সার্ভিস রিভলভার দেখিয়ে ভয় দেখান বলেও অভিযোগ ওঠে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়, থানায় এসে আইনজীবীদের একাংশ কর্তব্যরত কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং সরকারি কাজে বাধা দেন।
এই ঘটনার পর দিল্লির বিভিন্ন আদালতের আইনজীবীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন। তাঁদের দাবি ছিল, এসিপি এবং ওসিকে সাসপেন্ড করতে হবে। শেষ পর্যন্ত ২৮ অক্টোবর মানস্বীকে গান্ধীনগর মহকুমার এসডিপিও পদ থেকে সরিয়ে মহিলা ও শিশুদের জন্য বিশেষ পুলিশ ইউনিটে পাঠানো হয়। শাহদরা থানার ওসি অরুণ কুমারকেও বদলি করা হয়। এর পরেই আইনজীবীরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন।
সদর দফতরের সামনে কয়েকশো পুলিশকর্মী
দুই আধিকারিকের বদলির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ তৈরি হয় পুলিশকর্মীদের একাংশের মধ্যে। সোমবার, ২ নভেম্বর, দিল্লি পুলিশ সদর দফতরের সামনে জড়ো হন তাঁরা। প্রথমে প্রায় ১০০ জন পুলিশকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫০০ হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি কথা বলতে দিতে হবে। বদলি হওয়া দুই আধিকারিককে আগের পদে ফিরিয়ে আনার দাবিও ওঠে। পুলিশের কর্মীদের বক্তব্য, আইনজীবীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় শুধু পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অথচ তাঁদের উপর হামলা বা দুর্ব্যবহারের অভিযোগগুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না।
মানস্বী বশিষ্ঠের বক্তব্য ছিল, এই ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা বা এসওপি তৈরি করা প্রয়োজন। থানায় একসঙ্গে অনেক আইনজীবী ঢুকে পড়লে কী ভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হবে, তা নির্দিষ্ট করা উচিত বলেও দাবি করেন তিনি।
কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক, তারপর সাসপেনশন
সোমবার বিক্ষোভের পর পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের সঙ্গে বৈঠক হয় বিক্ষোভকারীদের। সেখানে পুলিশকর্মীদের বিভিন্ন অভিযোগ শোনেন শীর্ষ আধিকারিকেরা। কর্মীদের সমস্যার সমাধানে একটি সমন্বয় কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়। পুলিশকর্মীদের অভিযোগ এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু তার পরের দিনই মানস্বী বশিষ্ঠের সাসপেনশনের চিঠি আসায় পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। সোমবারের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দিল্লি পুলিশের তরফে এই পদক্ষেপের বিস্তারিত কারণও প্রকাশ করা হয়নি।
এক দিকে আইনজীবীদের সঙ্গে সংঘাত, অন্য দিকে সহকর্মীদের প্রতিবাদ এবং তার পরেই এক এসিপির সাসপেনশন। সব মিলিয়ে দিল্লি পুলিশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এবার এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন কী ব্যাখ্যা দেয়, সেদিকেই নজর।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


