প্রাক্তন সেনাপ্রধানের বই-রহস্য! প্রকাশনা সংস্থাকে নোটিস দিল্লি পুলিশের, কিন্তু কেন?

গত সপ্তাহে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই বইটির একটি প্রতিলিপি প্রদর্শন করার পর বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে।

Published on: Feb 27, 2026, 20:51:19 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বর্তমানে দেশজুড়ে মহা বিতর্কের কেন্দ্রে ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা 'ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি।' এবার তাঁর সেই অপ্রকাশিত স্মৃতিকথার প্রকাশক পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়াকে নোটিস পাঠাল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। অভিযোগ, বইটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হলেও তার অংশবিশেষ বাইরে চলে এসেছে। তা কীভাবে সম্ভব হল, সেটা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রাক্তন সেনাপ্রধানের বই-রহস্য!
প্রাক্তন সেনাপ্রধানের বই-রহস্য!

বিতর্কের সূত্রপাত

গত সপ্তাহে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই বইটির একটি প্রতিলিপি প্রদর্শন করার পর বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। 'ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি' নামের বই থেকে উদ্ধৃতি টেনে তিনি দাবি করেন, ২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে ভারত-চিন অচলাবস্থার সময় রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেনাবাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দিতে দ্বিধায় ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চিনা ট্যাঙ্ক ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ার সময়ে দিল্লি থেকে সেনাপ্রধানকে বলা হয়েছিল, 'যা উপযুক্ত মনে হয় করুন।' রাহুলের এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সরব হয়ে বলেন, যে বই এখনও প্রকাশিত হয়নি, তা সংসদে উদ্ধৃত করা যায় না। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও মত দেন, অপ্রকাশিত ও প্রমাণিত নয় এমন সাহিত্য সংসদে উল্লেখ করা বিধিসম্মত নয়। এরপর সংসদ ভবন চত্বরে ওই বইয়ের একটি হার্ড কপি তুলে ধরে রাহুল প্রশ্ন তোলেন, যদি বইটির অস্তিত্বই না থাকে, তবে এই কপি এল কোথা থেকে? তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর হাতে বইটি তুলে দিতে চান।

দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপ

এই আবহে ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’-এর অবৈধ প্রচার ও পরিবেশনার অভিযোগে সোমবারই এফআইআর দায়ের করে দিল্লি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত ধারায় একটি মামলা রুজু করেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বইটির সম্ভাব্য ‘লিক’। এই বিষয়ে বুধবারই প্রকাশক পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়াকে নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। প্রকাশকের কাছে একাধিক প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে এবং তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, যাচাই করে দেখা গেছে পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের তৈরি টাইপসেট পিডিএফ কিছু ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। এমনকী, কিছু অনলাইন বিপণন প্ল্যাটফর্মে বইটির কভার এমনভাবে দেখানো হয়েছে, যেন সেটি কেনার জন্য উপলব্ধ - যদিও তার প্রয়োজনীয় অনুমোদন মেলেনি। এই ‘লিক’ বা অনুমোদনহীন প্রচার খতিয়ে দেখতে স্পেশ্যাল সেলে মামলা দায়ের হয়েছে।

কী বলছে প্রকাশক?

সোমবার অবশ্য প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন সাফ জানিয়ে দেয় যে, প্রাক্তন সেনাপ্রধানের আত্মজীবনী 'ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি' প্রকাশিতই হয়নি। ডিজিটাল বা মুদ্রিত কোনও আকারেই তা বাজারে আসেনি। তারা স্পষ্ট করেছে, বইটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। কোনও পিডিএফ বা মুদ্রিত কপি ঘোরাফেরা করলে তা কপিরাইট লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে। অননুমোদিত প্রচারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানায় তারা। গোটা বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন জেনারেল নারাভানেও। তাঁর বক্তব্য, প্রকাশনা সংস্থাই সত্যি কথা বলছে। তবে বিতর্ক বাড়তেই পেঙ্গুইন দ্বিতীয় বিবৃতি জারি করে। সেখানে জানানো হয়, কোনও বই ঘোষণা করা, প্রি-অর্ডারে থাকা এবং প্রকাশিত হওয়া - এই তিনটি বিষয় এক নয়। প্রকাশকের ভাষ্য, একটি বই তখনই ‘প্রকাশিত’ বলে ধরা হয়, যখন তা আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ পেয়ে খুচরো বাজারে কেনার জন্য উপলব্ধ থাকে। প্রকাশনার প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতেই এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।