Shrajeel Imam & Umar Khalid: ‘দিল্লি দাঙ্গার মাস্টারমাইন্ড’, ফের উমর খালিদ-শরজিল ইমামের জামিনের বিরোধিতা পুলিশের

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের ভূমিকা অন্যান্য সহ-অভিযুক্তদের তুলনায় আলাদা ছিল। তাঁদের ভূমিকা ‘কমান্ড অথরিটি’-র পর্যায়ের বলে দাবি করেছে পুলিশ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের জামিন দিতে অস্বীকার করার সময় যে পর্যবেক্ষণ করেছিল, সেই বিষয়টিও নতুন করে তুলে ধরা হয়েছে হলফনামায়।

Published on: Aug 27, 2026, 12:03:26 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দিল্লির ২০২০ সালের দাঙ্গার সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মামলায় জেলবন্দি উমর খালিদ এবং শরজিল ইমামের জামিনের ফের বিরোধিতা করল দিল্লি পুলিশ। দুই অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করার আর্জি জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে হলফনামা জমা দিয়েছে পুলিশ। সেখানে উমর খালিদ ও শরজিল ইমামকে দিল্লি দাঙ্গার অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, তাঁদের জামিনের আবেদন ভুল ধারণার উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে এবং আইনের দিক থেকেও তা গ্রহণযোগ্য নয়।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের ভূমিকা অন্যান্য সহ-অভিযুক্তদের তুলনায় আলাদা ছিল।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের ভূমিকা অন্যান্য সহ-অভিযুক্তদের তুলনায় আলাদা ছিল।

মঙ্গলবার হাইকোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের ভূমিকা অন্যান্য সহ-অভিযুক্তদের তুলনায় আলাদা ছিল। তাঁদের ভূমিকা ‘কমান্ড অথরিটি’-র পর্যায়ের বলে দাবি করেছে পুলিশ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের জামিন দিতে অস্বীকার করার সময় যে পর্যবেক্ষণ করেছিল, সেই বিষয়টিও নতুন করে তুলে ধরা হয়েছে পুলিশের হলফনামায়।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত দু’জন দিল্লির হিংসার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। তাই অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁদের এক করে দেখার সুযোগ নেই। সেই কারণেই তাঁদের জামিনের আবেদন আইনগতভাবে টেকসই নয় বলে দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা।

উমর খালিদ ও শরজিল ইমাম অবশ্য তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রায়াল কোর্টের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। গত ৪ জুলাই ট্রায়াল কোর্ট তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। গত মাসে হাইকোর্ট তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশের কাছে জবাব চেয়ে নোটিস জারি করে এবং ২৭ অগস্ট শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে ২৭ অগস্ট আদালতে ছুটি থাকায় মামলাটি এখন সোমবার তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা।

দুই অভিযুক্তের আইনজীবীরা তাঁদের জামিনের আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের ‘সৈয়দ ইফতিকার আন্দ্রাবি বনাম এনআইএ’ মামলার রায়ের উল্লেখ করেছেন। তাঁদের দাবি, ওই রায়ের পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। তাই নতুন পরিস্থিতির ভিত্তিতে ফের জামিনের আবেদন বিবেচনা করা উচিত।

তবে দিল্লি পুলিশ এই যুক্তি সম্পূর্ণ খারিজ করেছে। পুলিশের বক্তব্য, আন্দ্রাবি মামলার রায় একটি পৃথক মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেটির সঙ্গে দিল্লির ২০২০ সালের দাঙ্গা কিংবা উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। ওই রায়ের উল্লেখ করে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও পুলিশের অভিযোগ।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির একাধিক এলাকায় ভয়াবহ হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেই দাঙ্গায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয় এবং ৭০০-র বেশি মানুষ আহত হন। পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। উমর খালিদ ও শরজিল ইমামও সেই মামলায় গ্রেফতার হন এবং তারপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে জেলে রয়েছেন।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টও তাঁদের জামিন দিতে অস্বীকার করেছিল। এবার দিল্লি হাইকোর্টে নতুন করে জামিনের আবেদন ঘিরে শুরু হয়েছে আইনি লড়াই। একদিকে অভিযুক্তদের দাবি, পরিস্থিতির পরিবর্তন ও নতুন আইনি দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে তাঁদের মুক্তি দেওয়া উচিত। অন্যদিকে পুলিশ তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করে জামিনের তীব্র বিরোধিতা করছে।

ফলে সোমবার হাইকোর্টে শুনানিতে দুই পক্ষের যুক্তি কীভাবে বিবেচিত হয়, সেদিকেই নজর এখন। আদালতের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে দীর্ঘদিন ধরে জেলে থাকা উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিনের পথে নতুন কোনও সম্ভাবনা তৈরি হয় কি না।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More