Delhi University Syllabus Change: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বড় বদল, স্নাতকোত্তর সিলেবাস থেকে বাদ ‘দিল্লি সুলতানাত’

এই কোর্সে মূলত মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার গঠন, রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামো এবং তৎকালীন উত্তর ভারতে কীভাবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব পরিচালিত হত, তা পড়ানো হত। পাশাপাশি ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনও এই পেপারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

Published on: Aug 14, 2026, 11:54:21 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন করে বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়া স্নাতকোত্তর ইতিহাসের পাঠ্যক্রমে বড় পরিবর্তন ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নতুন সিলেবাসে সেমেস্টার থ্রি থেকে ‘The Delhi Sultanate: Structures of Authority in Medieval North India (13th-14th Centuries)’ নামে বিশেষায়িত একটি পেপার বাদ দেওয়া হয়েছে। মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় নিয়ে তৈরি এই পেপারটি বহু বছর ধরে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়ানো হয়ে আসছিল।

নতুন সিলেবাসে সেমেস্টার থ্রি থেকে ‘The Delhi Sultanate: Structures of Authority in Medieval North India (13th-14th Centuries)’ নামে বিশেষায়িত একটি পেপার বাদ দেওয়া হয়েছে।
নতুন সিলেবাসে সেমেস্টার থ্রি থেকে ‘The Delhi Sultanate: Structures of Authority in Medieval North India (13th-14th Centuries)’ নামে বিশেষায়িত একটি পেপার বাদ দেওয়া হয়েছে।

এই কোর্সে মূলত মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার গঠন, রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামো এবং তৎকালীন উত্তর ভারতে কীভাবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব পরিচালিত হত, তা পড়ানো হত। পাশাপাশি ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনও এই পেপারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এক অধ্যাপকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্নাতকোত্তর স্তরের এই পেপারের সঙ্গে স্নাতক স্তরে পড়ানো দিল্লি সুলতানাত-সংক্রান্ত পেপারকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। কারণ, স্নাতক স্তরের কোর্সটি মূলত ভারতের ইতিহাসের একটি বিস্তৃত সার্ভে বা সামগ্রিক পরিচয় দেয়। কিন্তু স্নাতকোত্তর স্তরের পেপারটি ছিল অনেক বেশি নির্দিষ্ট, গবেষণাভিত্তিক এবং ঐতিহাসিক ও বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণের উপর জোর দেওয়া একটি কোর্স।

শুধু দিল্লি সুলতানাত নয়, সেমেস্টার থ্রি-র চূড়ান্ত সিলেবাসে আরও কয়েকটি প্রস্তাবিত পেপার জায়গা পায়নি। তার মধ্যে রয়েছে ‘History of North India, c. 1400-1550’, যা মধ্যযুগীয় উত্তর ভারতের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল।

প্রাচীন ভারতের ইতিহাস নিয়েও বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় নেই ‘Gender and Women in Early India: 1500 BCE to 1000 CE’, ‘Political Processes and Structure of Polities in Ancient India’ এবং ‘Religion and Society in Ancient Indian Literature’-এর মতো প্রস্তাবিত পেপারও।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ মোট ৩৮টি Discipline Specific Elective বা DSE পেপার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেমেস্টার থ্রি-র বিজ্ঞপ্তিতে মাত্র ১৬টি পেপার রাখা হয়েছে। অর্থাৎ প্রস্তাবিত ২২টি DSE পেপার চূড়ান্ত সিলেবাসের বাইরে রয়ে গিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, নতুন স্নাতকোত্তর ইতিহাস পাঠ্যক্রমটি PGCF 2024-এর ভিত্তিতে তৈরি এবং জাতীয় শিক্ষানীতি বা NEP 2020-এর কাঠামো অনুসরণ করছে। নতুন পাঠ্যক্রমটি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নথিতে বেশ কয়েকটি প্রস্তাবিত কোর্স এখনও ‘Under Discussion’ বা ‘Undiscussed’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে সেগুলির ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

চূড়ান্ত সিলেবাসের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় ৭ অগস্ট। ফলে নতুন সিলেবাসে একাধিক ঐতিহাসিক ও বিষয়ভিত্তিক পেপার বাদ পড়ার বিষয়টি এখন শিক্ষাজগতের পাশাপাশি ইতিহাসচর্চার ক্ষেত্রেও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বিশেষ করে দিল্লি সুলতানাতের মতো মধ্যযুগীয় ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে কেন্দ্র করে তৈরি বিশেষায়িত কোর্স বাদ যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—নতুন কাঠামোয় ইতিহাস শিক্ষার অগ্রাধিকার কীভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More