Lok Sabha: 'ওরা জঙ্গি নাকি?' প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী বিল সমর্থন করেও অভিষেকের নিশানায় কেন্দ্র, সরব প্রিয়াঙ্কা-অখিলেশও
Anti-paper Leak Bill 2026: প্রশ্নফাঁস রুখতে সংসদে কড়া বিল এনেছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। এক সপ্তাহের অচলাবস্থা কাটিয়ে মঙ্গলবার সেই প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হল লোকসভায়৷
Anti-paper Leak Bill 2026: প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী বিলকে সমর্থন জানালেও, বিগত এক দশকে দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের ধারাবাহিক ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে তৃণমূল সাংসদ বললেন, '২০২৪ সালে বিল এনে অ্যামেন্ডমেন্ট আনতে হচ্ছে, লজ্জা হওয়া উচিত।' অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণের সময় বিজেপির তরফ থেকে তুমুল হইচই শোনা যায়। তাঁর সমর্থনে পাল্টা দেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়, প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আইন নিয়ে লোকসভায় আলোচনার শুরুতেই সরকারকে তোপ দেগেছেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব।

কেন্দ্রের ব্যাখ্যা
প্রশ্নফাঁস রুখতে সংসদে কড়া বিল এনেছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। এক সপ্তাহের অচলাবস্থা কাটিয়ে মঙ্গলবার সেই প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হল লোকসভায়৷ বিতর্কের প্রথম বক্তা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এই বিল নিয়ে নিম্নকক্ষে জোর দিয়ে জানান, পড়ুয়া ও তরুণ প্রজন্মের উন্নয়নকে রক্ষা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার৷ 'পাবলিক এগজামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬' নিয়ে পিএমও'র প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানান, ২০২৪ সালে পরীক্ষায় অনিয়ম রুখতে এই বিল আনা হয়েছিল৷ তাঁর কথায়, 'বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শাসিত একাধিক রাজ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে৷ প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী এই বিল তরুণ প্রজন্মের উন্নয়নে সরকার যে বদ্ধপরিকর, তা জোর দিয়ে জানাচ্ছে ৷ এই সংশোধনের ফলে বিলটিকে আরও কঠোর করা হল৷'
বিরোধীদের বক্তব্য
অন্যদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আইন নিয়ে লোকসভায় আলোচনার শুরুতেই কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈর। তিনি বলেন, ‘এই বিল সরকারের জন্য আইওয়াশ, লোক দেখানো।’ তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, দুই বছর আগে যখন মূল বিলটি আনা হয়েছিল, তখন সরকার এটিকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছিল, যা শিক্ষা খাতকে শক্তিশালী করবে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘২০২৪ সালের আইন যদি নিশ্ছিদ্রই হয়ে থাকে, তাহলে ২০২৬ সালে এত বড় আকারের তথ্য ফাঁস হলো কী ভাবে?’ প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে গৌরব গগৈ বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসের সমাধান না করে ইনস্টাগ্রামে মন দিতে বলছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।’ ছাত্রদের সংসদ অভিযানে পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই নিয়ে মঙ্গলবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি বলেন, ‘ওরা জঙ্গি নাকি? ওদের উপরে পেলেট গান চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উচিত দেশের সামনে সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া।’
এদিন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলতে উঠলে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে তুমুল হইচই শুরু হয়৷ তাঁর পাশে বসেছিলেন আরেক তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র৷ তিনি বারবার উঠে প্রতিবাদ জানান এবং অধ্যক্ষের চেয়ারে আসীন দিলীপ সাইকিয়াকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন ট্রেজারি বেঞ্চকে শান্ত হতে বলেন৷ এরই মধ্যে সাংসদ অভিষেক বলেন, 'নরেন্দ্র মোদী জমানায় প্রশ্নফাঁস আর ব্যতিক্রম নয়। এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়াচ্ছে।' কেন্দ্রের প্রস্তাবিত প্রশ্নফাঁস বিলকে সমর্থন জানালেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'বিজেপি নিজেই আগুন লাগিয়েছে। এখন ওই আগুন নিজেরাই নেভানোর চেষ্টা করছে।' কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন তোলেন, 'সরকার এখন বিল আনছে। তাতে হয়তো দোষীদের শাস্তি হতে পারে, কিন্তু প্রশ্নফাঁসে পড়ুয়ারা যে মানসিক ধাক্কা খেয়েছে সেটা ঠিক হবে কী করে, যে স্বপ্নগুলো ভেঙে গিয়েছে, সেগুলো ঠিক করবেন কী করে? কেন প্রশ্নফাঁস রোখা গেল না?'
অভিষেক আরও বলেন, 'এই বিলের সমর্থন করা মানে অ্যাকাউন্টেবিলিটি থেকে সরে যাওয়া নয়। এই বিলটি কোনও সমাধান নয়, বরং এটা মেনে নেওয়া এই সরকারের ব্যর্থতা। এই সরকার একটা কায়দা রপ্ত করেছে যখন প্রক্রিয়া ফেল করে তখন নতুন বিল নিয়ে আসে। প্রতি বছর সরকার নতুন সিস্টেম ঘোষণা করে কিন্তু পড়ুয়ারা একই রকমের বিপাকে পড়ে।' তিনি বলেন, 'পরীক্ষা স্বচ্ছ হোক, এটা প্রতিটি পড়ুয়ারই প্রাপ্য৷ কিন্তু এই বিলকে সমর্থন করলেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় এড়ানো যায় না৷ আরও কঠোর আইন জরুরি৷ এই বিল নিয়ে আলোচনাই সমাধান নয়৷ বরং এই বিল নিজেই স্বীকারোক্তি৷ এটা স্বীকারোক্তি যে এনডিএ এবং বিজেপি সরকার ব্যর্থ হয়েছে৷ সুরক্ষিত পরীক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে৷ এই ব্যর্থতার পর দেশজুড়ে বিস্ফোরণ হয়েছে৷ সরকার এই বিল দিয়ে সংসদকে বিশ্বাস করাতে চায়, শাস্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করলেই ১২ বছরের অক্ষমতা মুছে ফেলা যাবে৷' সরকারকে আক্রমণ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'প্রশ্নপত্র পরিবহণে ভারতীয় বায়ুসেনাকে নিয়োগ করা হয়েছে৷ এতেই তো সরকারের অযোগ্যতা প্রমাণিত ৷ ভারতের তরুণ প্রজন্ম সততা চাইছে, হেলিকপ্টার নয়৷'
এদিকে, আরএসপি সাংসদ এনকে প্রেমচন্দ্রন বিলটি নিয়ে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আলোচনা চেয়েছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, বিলটি অংশীদারি সংস্থাদের কাছে পাঠানো হোক৷ তাদের মতামত জানা হোক এবং আরও বেশি ফলপ্রসূ হোক৷ এদিন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দিয়ে বিজেপি সরকার প্রধানমন্ত্রীকেই মূলত বাঁচিয়ে দিয়েছে। যদি ধর্মেন্ত্র প্রধান পদত্যাগ না করতেন তাহলে হয়ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পদত্যাগ করতে হতো। তাঁর কথায়, 'এই সরকারের অবশ্যই স্বস্তি পাওয়া উচিত। কারণ তারা ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচিয়েছেন। আমি আশা করি তরুণরা যেসব দাবি জানিয়েছে তার সব সরকার মেনে নেবে। সরকার নত স্বীকার করে। তবে সরকারকে নত স্বীকার করাতে কাউকে না কাউকে প্রয়োজন হয়।'
E-Paper

