দিল্লি থেকে হাসিনার বাক্যবাণে মোদী সকারের ওপর রাগ ঢাকার! ফের ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নয়া মোড়?

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঢাকার তরফে আগেই ভারত সরকারকে এ বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। তাদের দাবি, শেখ হাসিনার এই সাংবাদিক বৈঠক আয়োজন করা হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ভারতকে সতর্কও করা হয়েছিল।

Published on: Aug 6, 2026, 07:53:46 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Bangladesh on Hasina's Press Meet: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বসে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় ভারতের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। ঢাকার অভিযোগ, এমন একটি অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার পরিপন্থী। পাশাপাশি, এতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও দেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলেও দাবি করেছে সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক।

ঢাকার অভিযোগ, এমন একটি অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার পরিপন্থী। (AFP)
ঢাকার অভিযোগ, এমন একটি অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার পরিপন্থী। (AFP)

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঢাকার তরফে আগেই ভারত সরকারকে এ বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। তাদের দাবি, শেখ হাসিনার এই সাংবাদিক বৈঠক আয়োজন করা হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ভারতকে সতর্কও করা হয়েছিল। বিশেষ করে ‘জুলাই বিপ্লব’-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রেক্ষিতে এই অনুষ্ঠানকে বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে মনে করছে। তাদের বক্তব্য, ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহতদের স্মৃতির প্রতি এটি অসম্মান এবং দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধেও একটি পদক্ষেপ।

বাংলাদেশ আরও মনে করিয়ে দিয়েছে, ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার ভারতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু সেই বিষয়ে এখনও নয়াদিল্লির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব মেলেনি বলে অভিযোগ ঢাকার।

তবে ভারত সরকার আগেই এই বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে। এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই এবং ওই অনুষ্ঠানে প্রকাশিত মতামতেরও সরকার সমর্থন করে না।

প্রায় দু’বছর পর প্রথমবার প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি অবশ্যই বাংলাদেশে ফিরবেন। সেই জন্য প্রয়োজন হলে যে কোনও মূল্য দিতেও প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি মৃত্যুর মুখেও পড়তে হতে পারে। তবু তিনি সিদ্ধান্ত বদলাবেন না।

শেখ হাসিনা জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। তবে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ পরে ঘোষণা করবেন। তাঁর বক্তব্য, 'আমি সারাজীবন দেশের বাইরে থাকতে পারি না। আমাকে একদিন মানুষের কাছেই ফিরতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ নিরাপত্তা, উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার অধিকারী। দেশকে আবার সেই পথেই ফিরিয়ে আনতে চাই।'

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আন্দোলনটি শান্তিপূর্ণ ছিল না। সংগঠিত কিছু গোষ্ঠী ছাত্রদের ব্যবহার করে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। সেই সময় জেল থেকে অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া হয়, সংবাদমাধ্যমের উপর হামলা চালানো হয় এবং আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মীদের উপর অত্যাচার নেমে আসে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শুধু তাই নয়, বর্তমান বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন শেখ হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, এখনও বাংলাদেশে সাংবাদিক, বিচারপতি, শিক্ষাবিদ এবং সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন চলছে। সরকারের পরিবর্তন হলেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি বলেও দাবি করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই মন্তব্য এবং তা ঘিরে শুরু হওয়া কূটনৈতিক বিতর্ক আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর কূটনৈতিক মহলের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More