কৃষ্ণকে নিয়ে ‘বাঁকা’ মন্তব্য করায় বাগেশ্বর বাবার নামে মামলা উত্তরপ্রদেশে, মামলা গ্রহণ আদালতে

অভিযোগ, শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি এবং তাঁর বাঁশি বাজানোর ভঙ্গি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। শুধু কৃষ্ণভক্তদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করাই নয়, ভগবানের উত্তরসূরিদের সামাজিক মর্যাদাও ক্ষুণ্ণ করেছেন তিনি বলে অভিযোগ মামলাকারীর। আদালত সেই অভিযোগ গ্রহণ করেছে।

Published on: Nov 6, 2026, 11:05:28 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বিপাকে বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েও বিতর্ক থেকে রেহাই পেলেন না তিনি। এ বার তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের হল উত্তরপ্রদেশের আগ্রার আদালতে। অভিযোগ, শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি এবং তাঁর বাঁশি বাজানোর ভঙ্গি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। শুধু কৃষ্ণভক্তদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করাই নয়, ভগবানের উত্তরসূরিদের সামাজিক মর্যাদাও ক্ষুণ্ণ করেছেন তিনি বলে অভিযোগ মামলাকারীর। আদালত সেই অভিযোগ গ্রহণ করেছে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।

অভিযোগ, শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি এবং তাঁর বাঁশি বাজানোর ভঙ্গি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। (PTI)
অভিযোগ, শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি এবং তাঁর বাঁশি বাজানোর ভঙ্গি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। (PTI)

ঘটনার সূত্রপাত মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার কারেরা এলাকায়। সেখানে একটি রামকথার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। ভগবান রামের প্রশংসা করতে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে তাঁর তুলনা করেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময়ই কৃষ্ণের মূর্তি এবং বাঁশি বাজানোর ভঙ্গি নিয়ে মন্তব্য করেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর বক্তব্য ছিল, কৃষ্ণের মূর্তি বাঁকা। ঘাড় ও কোমর বাঁকিয়ে বাঁশি বাজাচ্ছেন তিনি। অন্য দিকে, রাম সোজা পথে চলেন, সোজা কাজ করেন। ধীরেন্দ্রর আরও মন্তব্য, বাঁশি বাজানো কোনও বড় বিষয় নয়। বাঁশির কোনও কাজে লাগে না, রামের ধনুকই আসল।

ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর এই বক্তব্যের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় বিতর্ক। বিশেষ করে মথুরা-বৃন্দাবনের সাধু-সন্তদের একাংশ তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেন। কৃষ্ণভক্তদের দাবি, এ ভাবে প্রকাশ্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রূপ ও প্রতীক নিয়ে মন্তব্য করা অত্যন্ত আপত্তিকর। পরিস্থিতি বুঝে পরে ক্ষমা চান বাগেশ্বর বাবা। তাঁর বক্তব্য, আবেগের বশে ওই কথাগুলি বেরিয়ে গিয়েছিল। কাউকে আঘাত করা বা কৃষ্ণকে অসম্মান করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তবু বিতর্ক থামেনি।

এর পরেই আগ্রার আদালতের দ্বারস্থ হন আইনজীবী অজয় প্রতাপ সিং। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মানহানির অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। মামলাকারীর দাবি, শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপর যুগে মানব রূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর বংশধরেরা এখনও ভারতে বসবাস করেন। জাদুন, জাদেজা এবং ভাটি সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক পরিচয়ের উল্লেখ করে তাঁদের সঙ্গে কৃষ্ণের বংশের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। নিজের মাতৃকুলের দিক থেকেও শ্রীকৃষ্ণের বংশধর বলে দাবি করেছেন অজয় প্রতাপ।

তাঁর অভিযোগ, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বক্তব্যে শুধু কৃষ্ণভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতি আহত হয়নি, কৃষ্ণের বংশধরদের সামাজিক সম্মানও ক্ষুণ্ণ হয়েছে। মামলাটি আগ্রার সিভিল কোর্টের বিচারক কাঞ্চন কুমারের এজলাসে ওঠে। প্রাথমিক শুনানির পর আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।

এ দিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজক ও স্পনসরদের বিতর্কিত ধর্মীয় বক্তাদের এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই মন্তব্যের জবাবে রামচরিতমানসের চৌপাই উদ্ধৃত করে পাল্টা বক্তব্য রাখেন উত্তরপ্রদেশ বিজেপির সভাপতি পঙ্কজ চৌধরি।

শুধু আগ্রা নয়, মিরাটেও ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে। সমাজবাদী পার্টির কয়েকজন নেতা শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরামকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে পুলিশের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে।

সব মিলিয়ে ক্ষমা চেয়েও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে বাগেশ্বর বাবা। এ বার আদালতের শুনানিতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More