Dhruv Rathi on CJP: ‘ককরোচ’ নই, সিজেপির সঙ্গে কোনও যোগ নেই! দাবি ধ্রুব রাঠির
ধ্রুবের বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসাবে নয়, এক জন সাধারণ নাগরিক হিসাবেই আন্দোলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন তিনি। সিজেপির সঙ্গে তাঁর কোনও সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। দলের কোনও পদেও তিনি নেই। তবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই ইউটিউবার। তাঁর মতে, ভোট চুরির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশ জুড়ে প্রতিবাদের আবহ। সেই আন্দোলনে যোগ দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। এ বার ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি। ধ্রুবের বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসাবে নয়, এক জন সাধারণ নাগরিক হিসাবেই আন্দোলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন তিনি। সিজেপির সঙ্গে তাঁর কোনও সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। দলের কোনও পদেও তিনি নেই। তবে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই ইউটিউবার। তাঁর মতে, ভোট চুরির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এমন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

ধ্রুবের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। জার্মানিতে থাকেন তিনি। ভারতের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে তাঁর তৈরি ভিডিও জনপ্রিয়। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনা করেও বার বার আলোচনায় এসেছেন তিনি। এ বার নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বেড়েছে।
কেন আন্দোলনে যোগ দিলেন ধ্রুব?
সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে এবং সৌরভ দাসের সঙ্গে ধ্রুবের বন্ধুত্ব রয়েছে বলে জানা যায়। এর আগে নিট পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনের সময়ও অভিজিতের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তবে সেই পরিচয়ের সঙ্গে দলের সদস্যপদকে এক করে দেখতে নারাজ ধ্রুব।
গত ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে সিজেপির ডাকা বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে মঞ্চ থেকে বক্তব্যও রাখেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভোট চুরির অভিযোগ তোলেন ধ্রুব। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে হবে। গণতন্ত্রের স্বার্থেই ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখা জরুরি।
এর পর ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলনেও যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তার আগে ইন্ডিয়া গেট থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে আরও বেশি মানুষকে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
২০ ঘণ্টারও বেশি পুলিশি হেফাজতে
দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই ধ্রুবকে আটক করে পুলিশ। ১০ অক্টোবর সকালে গুরুগ্রামে তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় পর মুক্তি পান তিনি।
মুক্তির পরে পুলিশি আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেন ধ্রুব। তাঁর দাবি, পুলিশ তাঁকে শোয়ার ঘর থেকে টেনে বার করে নিয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ে তিনি আঘাতও পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ইউটিউবার। তবে এই অভিযোগ নিয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।
‘নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ হতে হবে’
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ধ্রুব বলেন, তিনি বিশেষ ভাবে এই আন্দোলনে অংশ নিতেই ভারতে এসেছেন। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে। ভোট চুরির অভিযোগকে হালকা ভাবে দেখারও পক্ষপাতী নন তিনি।
ধ্রুবের দাবি, গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানা সব সময় সহজ নয়। তবে ২০১৪ সালের তুলনায় ভারত ক্রমশ একনায়কতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তাঁর মত। এই বক্তব্যের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্মেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।
অন্য দিকে, সিজেপির সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক অস্বীকার করে ধ্রুব নিজের ভূমিকাকে ব্যক্তিগত প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। ফলে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে আন্দোলনে তাঁর অংশগ্রহণ এবং পুলিশি হেফাজতে থাকার ঘটনা রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই এখন ধ্রুবের এই বক্তব্য ঘিরে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


