পাকিস্তানের জলসীমায় ঢুকেই পাকিস্তানি নৌসেনার জাহাজকে ধাক্কা মেরেছে ভারতীয় রণতরী?

পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারতীয় নৌসেনার একটি জাহাজ তাদের জলসীমার কাছাকাছি গিয়ে ‘আগ্রাসী কৌশল’ দেখিয়েছিল এবং সেই কারণেই সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু ভারত জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এবং পাকিস্তানি নৌযানই দ্রুতগতিতে এসে অনিরাপদ ভাবে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের কাছে পৌঁছেছিল।

Published on: Sep 17, 2026, 13:05:17 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

উত্তর আরব সাগরে ভারতীয় ও পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজের সংঘর্ষ নিয়ে দুই দেশের বয়ানে এখন সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারতীয় নৌসেনার একটি জাহাজ তাদের জলসীমার কাছাকাছি গিয়ে ‘আগ্রাসী কৌশল’ দেখিয়েছিল এবং সেই কারণেই সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু ভারত জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এবং পাকিস্তানি নৌযানই দ্রুতগতিতে এসে অনিরাপদ ভাবে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের কাছে পৌঁছেছিল। ফলে সংঘর্ষের দায় নিয়ে দুই দেশের বক্তব্য এখন মুখোমুখি।

পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারতীয় নৌসেনার একটি জাহাজ তাদের জলসীমার কাছাকাছি গিয়ে ‘আগ্রাসী কৌশল’ দেখিয়েছিল এবং সেই কারণেই সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারতীয় নৌসেনার একটি জাহাজ তাদের জলসীমার কাছাকাছি গিয়ে ‘আগ্রাসী কৌশল’ দেখিয়েছিল এবং সেই কারণেই সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ঘটনাটি ঘটে ১৫ সেপ্টেম্বর উত্তর আরব সাগরে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, তাদের নৌবাহিনী তখন ‘SEASPARK-26’ নামে দ্বিবার্ষিক সামরিক মহড়া চালাচ্ছিল। সেই সময় একটি ভারতীয় নৌযান পাকিস্তানের এক নৌজাহাজের খুব কাছে এসে বিপজ্জনক ভাবে গতিবিধি করেছিল বলে অভিযোগ ইসলামাবাদের। পাকিস্তানের বক্তব্য, এর ফলেই দুই জাহাজের মধ্যে ধাক্কা লাগে। তারা আরও দাবি করেছে, ঘটনাটি পাকিস্তানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জ়োন বা EEZ-এর মধ্যে ঘটেছিল।

এই ঘটনার পর পাকিস্তান ইসলামাবাদে ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। পাকিস্তানের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত আন্তর্জাতিক আইন এবং ১৯৯১ সালের দুই দেশের মধ্যে হওয়া সামরিক মহড়া ও চলাচল সংক্রান্ত চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। ইসলামাবাদ ঘটনাটিকে ‘উস্কানিমূলক’ এবং ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেও উল্লেখ করেছে।

তবে ভারতের বক্তব্য একেবারেই আলাদা। নয়াদিল্লির অভিযোগ, পাকিস্তানি নৌসেনার জাহাজ উচ্চ গতিতে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের দিকে এগিয়ে আসে এবং অনিরাপদ ও অপেশাদার ভাবে manoeuvre করায় সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য এবং অপেশাদার’ বলে উল্লেখ করেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানায় ভারত।

ভারতীয় সূত্রে পাকিস্তানি জাহাজটিকে PNS Hunain হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি পাকিস্তান নৌবাহিনীর Yarmook-class offshore patrol vessel। সংঘর্ষের পরে জাহাজটির ক্ষতি হয়েছে এবং সেটি বন্দরের দিকে ফিরে গিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য দিকে, ভারতীয় নৌযানে বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি এবং সেটি নজরদারি অভিযান চালিয়ে যেতে পেরেছে বলে ভারতীয় সূত্রের দাবি।

এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন ঘটনার সঠিক অবস্থান। কারণ পাকিস্তান বলছে, সংঘর্ষ তাদের EEZ-এর মধ্যে হয়েছে। ভারত বলছে, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায়। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের অধীনে কোনও দেশের EEZ-কে সরাসরি সেই দেশের পূর্ণ সার্বভৌম জলসীমা হিসেবে দেখা হয় না; সেখানে মূলত অর্থনৈতিক অধিকার থাকে। ফলে সংঘর্ষের সঠিক স্থান, দুই জাহাজের গতিপথ এবং ঘটনার সময় কে কতটা কাছে এসেছিল—এই তথ্যগুলিই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মজার বিষয়, ভারতের তরফে যখন পাকিস্তানি নৌ ইউনিটের আচরণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করা হয়েছে, তার পরেই ইসলামাবাদও পাল্টা ভারতকেই দায়ী করেছে। অর্থাৎ কূটনৈতিক স্তরে দুই দেশই নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। তবে এই মুহূর্তে স্বাধীন ভাবে যাচাই করা এমন কোনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সামনে আসেনি, যা নিশ্চিত ভাবে প্রমাণ করে সংঘর্ষের জন্য এক পক্ষই সম্পূর্ণ দায়ী।

ঘটনার পর ভারত অবশ্য বিষয়টিকে কেবল সামুদ্রিক দুর্ঘটনা হিসেবে না দেখে ১৯৯১ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রসঙ্গও তুলেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, এই ধরনের সামরিক গতিবিধি এমন ভাবে হওয়া উচিত নয়, যাতে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়।

এখন নজর থাকবে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং ঘটনার আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের দিকে। কারণ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যখন সামরিক উত্তেজনা আগে থেকেই রয়েছে, তখন সমুদ্রে এমন একটি সংঘর্ষের দায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে প

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More