Diego Forlan on India vs Uruguay: ১৩৮ নম্বর ভারতের চাপে পড়েছিল উরুগুয়ে! ৬-১ জিতেও স্বীকারোক্তি, প্রশংসা ফোরলানের

শুধু ভারতের প্রশংসাই নয়। ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়ার নেপথ্যে আরও একটি কারণের কথাও বলেছেন উরুগুয়ের কোচ। তাঁর মতে, প্রথমার্ধে বজ্রপাতের কারণে খেলা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সুবিধা পেয়েছিল তাঁর দল।

Published on: Oct 7, 2026, 06:59:24 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ফিফা ক্রমতালিকায় উরুগুয়ে এবং ভারতের মধ্যে ব্যবধান ১১৮ ধাপ। এক দল রয়েছে ২০ নম্বরে। অন্য দল ১৩৮-এ। মাঠে সেই ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত ফুটে উঠেছে। ভারতকে ৬-১ গোলে হারিয়েছে উরুগুয়ে। কিন্তু ম্যাচের ফল দেখেই পুরো ছবিটা বোঝা যাবে না। কারণ, ম্যাচের একটা সময়ে যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছিল উরুগুয়ে। ভারতীয় দলের আগ্রাসী শুরু যে তাদের সমস্যায় ফেলেছিল, ম্যাচ শেষে তা মেনে নিলেন উরুগুয়ের কোচ দিয়েগো ফোরলান।

ভারতীয় দলের আগ্রাসী শুরু যে তাদের সমস্যায় ফেলেছিল, ম্যাচ শেষে তা মেনে নিলেন উরুগুয়ের কোচ দিয়েগো ফোরলান। (AFP)
ভারতীয় দলের আগ্রাসী শুরু যে তাদের সমস্যায় ফেলেছিল, ম্যাচ শেষে তা মেনে নিলেন উরুগুয়ের কোচ দিয়েগো ফোরলান। (AFP)

শুধু ভারতের প্রশংসাই নয়। ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়ার নেপথ্যে আরও একটি কারণের কথাও বলেছেন উরুগুয়ের কোচ। তাঁর মতে, প্রথমার্ধে বজ্রপাতের কারণে খেলা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সুবিধা পেয়েছিল তাঁর দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল। একের পর এক আক্রমণে উঠছিল দল। উরুগুয়ের রক্ষণেও চাপ তৈরি হচ্ছিল। কয়েক বার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ভারত। ফলে প্রথমার্ধের সেই বিরতিটাই উরুগুয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ফোরলান বলেন, ভারতের আক্রমণের গতি তখন তাঁদের সমস্যায় ফেলছিল। ভারত সুযোগও তৈরি করছিল। উরুগুয়ের খেলোয়াড়েরা কয়েকটি ভুল করছিলেন। ফলে চাপ বাড়ছিল। আচমকা খেলা বন্ধ হওয়ায় ড্রেসিংরুমে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পান তাঁরা। কোথায় ভুল হচ্ছে, তা নিয়ে কথা হয়। বদলানো হয় ছক। পরে সেই পরিকল্পনাই কাজে দেয় বলে জানান ফোরলান।

তাঁর কথায় স্পষ্ট, ভারতকে হালকা ভাবে নেয়নি উরুগুয়ে। বরং প্রথম দিকের লড়াই নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক ছিল তারা। স্কোরলাইন শেষ পর্যন্ত একেবারে অন্য ছবি দেখালেও শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না।

ভারতের পারফরম্যান্স নিয়ে যথেষ্ট ইতিবাচক ফোরলান। ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে তাঁর পুরনো সম্পর্কও রয়েছে। একসময় এই দেশের ক্লাব ফুটবলে খেলেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই ভারতীয় ফুটবলের বদল চোখে পড়ছে বলে জানালেন প্রাক্তন উরুগুয়ে তারকা।

ফোরলানের মতে, গত কয়েক বছরে ভারতীয় ফুটবলে পরিবর্তন এসেছে। দল অনেক বেশি সাহসী হয়েছে। আক্রমণে উঠতে ভয় পাচ্ছে না। এই ম্যাচেও ভারতের খেলায় সেই মানসিকতাই দেখা গিয়েছে। বেশ কয়েক বার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। গোলের জায়গাতেও পৌঁছেছিল দল। কিন্তু শেষ পাস বা শেষ শটে সাফল্য আসেনি।

এই ম্যাচ থেকে শেখার অনেক কিছু রয়েছে বলেই মনে করছেন ফোরলান। তাঁর মতে, এমন বড় দলের বিরুদ্ধে খেলা ভবিষ্যতে ভারতীয় ফুটবলারদের আরও তৈরি করবে।

সেই কথাই যেন প্রতিধ্বনিত হল অনিরুদ্ধ থাপার গলায়। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ভারতের একমাত্র গোলটি করে বিশেষ নজর কেড়েছেন তিনি। ফলাফল তাঁর পক্ষে না গেলেও ব্যক্তিগত ভাবে দিনটি থেকে গেল স্মরণীয় হয়ে।

অনিরুদ্ধ জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। এই খবর তিনি সম্প্রতি পেয়েছেন। তাই এমন দিনে জাতীয় দলের হয়ে করা গোলটির আবেগ তাঁর কাছে আরও বেশি। এই মুহূর্ত তিনি সারা জীবন মনে রাখবেন বলেও জানিয়েছেন।

শুধু নিজের গোল নয়। পুরো দলের মানসিকতাকেও ইতিবাচক ভাবে দেখছেন অনিরুদ্ধ। তাঁর মতে, তিনটি ম্যাচেই ভারত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। শুধু রক্ষণ সামলে থাকার পথে যায়নি দল। বার বার গোলের চেষ্টা করেছে। হারলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই ছাড়েনি।

৬-১-এর হার তাই ভারতের জন্য কেবল পরাজয়ের হিসাব নয়। এই ম্যাচে কোথায় ঘাটতি, আর কোথায় এগোনোর জায়গা, সেই ছবিটাও পরিষ্কার হয়েছে। আর উরুগুয়ের মতো দলের কোচের মুখে ভারতের প্রশংসা সেই লড়াইয়েরই বড় স্বীকৃতি।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More