ডিজিটাল গ্রেফতার: যে প্রতারণা নিয়ে সবাই কথা বলছে, তার বিশ্লেষণ

‘ডিজিটাল গ্রেফতার’ শব্দটির সাথে আমরা এখন পরিচিত। কিন্তু এর অন্তরালে থাকা প্রতারণাটি সম্পর্কে অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে। প্রতারকরা কীভাবে মানুষের ভীতিকে কাজে লাগায়, কেন ভুক্তভোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই ফাঁদে আটকা পড়ে থাকেন এবং দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই কীভাবে এই প্রতারণা রুখে দেওয়া সম্ভব—তা নিয়েই এই আলোচনা।

Published on: Aug 18, 2026, 17:55:10 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কিছুদিন আগেও অধিকাংশ মানুষ “ডিজিটাল গ্রেফতার” বাক্যাংশটি শোনেননি। আজ, এটি দৈনন্দিন আলাপ-আলোচনা, পারিবারিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং সংবাদ শিরোনামে প্রবেশ করেছে। নামটি শুনলেই মনে হয় সরকারি, সম্ভবত এ কারণেই এটি এত বেশি কার্যকর হয়ে উঠেছে।

ডিজিটাল গ্রেফতার: যে প্রতারণা নিয়ে সবাই কথা বলছে, তার বিশ্লেষণ
ডিজিটাল গ্রেফতার: যে প্রতারণা নিয়ে সবাই কথা বলছে, তার বিশ্লেষণ

তবে, বাস্তবতা অনেক বেশি সহজ। ভারতে ডিজিটাল গ্রেফতারের মতো কোনো আইনি প্রক্রিয়া নেই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার স্পষ্ট করেছে যে, কোনো পুলিশ সংস্থা, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ভিডিও কলের মাধ্যমে কাউকে গ্রেফতার করে না কিংবা তদন্তের অংশ হিসেবে নাগরিকদের অর্থ স্থানান্তর করতে বলে না।

তবুও, বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও, প্রতারকরা ফৌজদারি তদন্ত-সংক্রান্ত ভীতিকে কাজে লাগানো অব্যাহত রেখেছে। তারা ফোন হ্যাক করছে না বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে না; এর পরিবর্তে, তারা মানুষকে তাদের জমানো অর্থ স্বেচ্ছায় তুলে দিতে রাজি করাচ্ছে।

সচেতনতামূলক কার্যক্রম হিসেবে সাইবার কপ (Cyber Cop), বন্ধন ব্যাংকের একটি সিএসআর (CSR) উদ্যোগ যা হিন্দুস্তান টাইমস কর্তৃক উপস্থাপিত এবং আইডেন্ট (Aident) দ্বারা বাস্তবায়িত, নিরাপদ ডিজিটাল অভ্যাস রাখতে উৎসাহিত করে চলেছে, এই ধরনের প্রতারণাগুলির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানার পাশাপাশি সেগুলো আসলে কীভাবে সংঘটিত হয়, তা বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ।

টাকার কথা উল্লেখ হওয়ার অনেক আগেই প্রতারণাটি শুরু হয়ে যায়

ডিজিটাল গ্রেফতার প্রতারণা ক্রমাগত সফল হওয়ার একটি কারণ হল, তারা শুরুতেই টাকা দাবি করেনা । বরং, এগুলোর শুরুটা হয় একটি গল্পের মাধ্যমে।

একজন একটি ফোন কল পান যেখানে দাবি করা হয় যে সেটি পুলিশ, শুল্ক বিভাগ, সিবিআই (CBI), প্রয়োগকারী অধিদপ্তর বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে করা হয়েছে। কল করা ব্যক্তি সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন, বেআইনি কাজে ব্যবহৃত বলে কথিত কোনো সিম কার্ড, কোনো ফৌজদারি মামলার সাথে যুক্ত আধার নম্বর, অথবা ভুক্তভোগীর নামে বুক করা এমন কোনো পার্সেলের কথা উল্লেখ করতে পারে যার মধ্যে মাদক, ভুয়ো পাসপোর্ট বা অবৈধ সামগ্রী রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এরপর প্রায়শই ভুক্তভোগীকে এমন ব্যক্তিদের সাথে সংযুক্ত করা হয় যারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী আধিকারিক সেজে কথা বলে ভীতি বাড়িয়ে তুলতে এবং জরুরি পরিস্থিতির আবহ তৈরি করতে।

এই পর্যায়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়াটা উদ্দেশ্য নয়। এটা করা হয় ভুক্তভোগীকে এটা বিশ্বাস করাতে যে গুরুতর কোনো সমস্যা হয়েছে। একবার তা সম্পন্ন হলে, প্রতারক ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্যের চেয়েও অনেক বেশি মূল্যবান একটি জিনিস অর্জন করে ফেলে: ভুক্তভোগীর অবিচ্ছিন্ন মনোযোগ।

কর্তৃত্বই তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী দক্ষতা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে কথা বলছেন বলে বিশ্বাস করে তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়া অধিকাংশ মানুষের অভ্যাস এবং সাইবার অপরাধীরা এই বিষয়টি খুব ভালোভাবেই বোঝে।

তারা প্রায়শই ভুয়ো মামলার নম্বর, জাল পরিচয়পত্র, মনগড়া আইনি নোটিশ এবং দেখতে দাপ্তরিক মনে হয় এমন সব নথিপত্র উপস্থাপন করে, সবকিছুই এমন এক আত্মবিশ্বাসের সাথে করে, যা দেখে মনে হয় তারা ঠিক কী করছেন তা তিনি পুরোপুরি জানেন। অনেক ভুক্তভোগীকে ভিডিও কলে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে মোবাইলের পর্দায় থাকা ব্যক্তিকে কোনো থানা বা সরকারি দপ্তরের মতো কোনো জায়গায় বসে থাকতে দেখা যায়। কিছু ভুক্তভোগীকে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তারা একটানা ভিডিও কলে যুক্ত থাকে, ক্যামেরা চালু রাখে এবং ঘর থেকে বের হওয়া থেকে বিরত থাকে। প্রতারকরা এই কৌশলগুলো ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকার এক ধরনের মিথ্যা ধারণা তৈরি করে, ভুক্তভোগীদের বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে এবং তাদের সামনে উত্থাপিত দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা থেকে বিরত রাখে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে যে, সংঘবদ্ধ সাইবার অপরাধী চক্রগুলো বৈধতার আবহ তৈরি করতে ইউনিফর্ম, সাজানো অফিস এবং ভিডিও কনফারেন্সিং মঞ্চ ব্যবহার করছে। প্রেক্ষাপট যত বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়, কাউকে কোনো কিছু বলা হলে তার ওপর প্রশ্ন তোলার সম্ভাবনা ততটাই কমে যায়।

তাহলে, ভুক্তভোগীরা কেন সহজে ফোনটা কেটে দেন না?

মানুষ প্রায়ই মনে করে যে তারা এমন প্রতারণা সহজেই চিনে ফেলতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে, সেটা খুবই কঠিন হয়ে ওঠে একবার যখন কথোপকথন শুরু হয়ে এগোতে থাকে, যুক্তির সাথে ভয়ের দ্বন্দ্বকে সঙ্গ করে।

প্রতারকদের প্রবণতা থাকে বিষয়টি যে গোপনীয় সেই বিষয় জোর দেওয়ার। ভুক্তভোগীদের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে তারা যেন কলটি বিচ্ছিন্ন না করেন, পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ না করেন এবং ব্যাংককে বিষয়টি না জানান কারণ এসব পদক্ষেপ চলমান তদন্তে অনুমান-অনুসারে ‘ব্যাঘাত’ ঘটাতে পারে।

এভাবেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যেতে পারে।

এই নিরবচ্ছিন্ন মিথস্ক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য সাধন করে। এটি আসলে যা করে তা হল একজনের কাছে সরে যাওয়ার, পরামর্শ নেওয়ার কিংবা তাকে যা বলা হয়েছে তা স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ খুব কমই থাকে। প্রতিটি অতিরিক্ত মুহূর্ত ভয়ের পক্ষে যৌক্তিক বিচার-বিবেচনাকে প্রতিস্থাপন করা আরও সহজ করে তোলে।

টাকা স্থানান্তরকে একটি সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়

সাধারণ ধারণার বিপরীতে, ভুক্তভোগীদের খুব কমই "জরিমানা দিতে" বলা হয়; বরং টাকা হস্তান্তরের বিষয়টি প্রায়শই একটি পদ্ধতিগত আবশ্যকতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

কিছু ব্যক্তিকে বলা হয় যে, যাচাইকরণের জন্য তাদের টাকা একটি "নিরাপদ অ্যাকাউন্টে" স্থানান্তর করতে হবে। অন্যরা শুনেছেন যে, তাদের ছাড়পত্র দেওয়ার আগে তাদের অধিকোষস্থিতি নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। কাউকে কাউকে এও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে যে, তদন্ত শেষ হলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

ভাষাটি সচেতনভাবে নির্বাচন করা হয়েছে যাতে তা শুনে সন্দেহজনক না মনে হয়ে বরং প্রশাসনিক মনে হয়। যতক্ষনে কথোপকথনে অর্থের প্রসঙ্গের প্রবেশ ঘটে, অনেক ভুক্তভোগীই ইতিমধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করেছেন প্রমান করার চেষ্টায় যে তারা কোনো রকম ভুল করেননি এবং তাঁরা এখন এক দূর্বল ও কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন।

চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধার করা এত কঠিন কেন ?

একবার অর্থ স্থানান্তর করা হলে, তহবিলগুলি খুব কমই এক জায়গায় থাকে। তদন্তকারীরা ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’-এর ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেছেন, এখানে চুরি করা অর্থ তুলে নেওয়া বা পুনরায় স্থানান্তর করার আগে দ্রুত একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়। সংগঠিত সাইবার প্রতারণার জন্য এই অ্যাকাউন্টগুলি কতটা কেন্দ্রীয় হয়ে উঠেছে তা অনুধাবন করে, ভারতীয় সাইবার অপরাধ সমন্বয় কেন্দ্র (I4C) তাদের সন্দেহভাজনদের তালিকার মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে 27.37 লক্ষ এর বেশি লেয়ার-1মিউল অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করেছে; এর ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো 9,518 কোটি এর বেশি মূল্যের প্রতারণামূলক লেনদেন আটকে দিতে সক্ষম হয়েছে।

অর্থের এই দ্রুত স্থানান্তর তহবিল শনাক্ত করার প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত জটিল করে তোলে এবং ভুক্তভোগীদের জন্য এমন এক সীমিত সুযোগ অবশিষ্ট রাখে, যার মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো হস্তক্ষেপ করতে পারে। এই লেনদেনগুলোর দ্রুতগতিই হল একটি কারণ যার জন্য কর্তৃপক্ষ সবসময়ই পরামর্শ দেয় যে, পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রতারণার বিষয়টি অবিলম্বে জানিয়ে দেওয়া উচিত।

সরকারের প্রতিক্ৰিয়া বর্ধিত হচ্ছে

ডিজিটাল গ্রেফতার প্রতারণার মাত্রা দেশব্যাপী প্রতিক্রিয়া জাগিয়ে তুলেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ভারতীয় সাইবার অপরাধ সমন্বয় কেন্দ্র (I4C) নাগরিকদের এই প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন করতে দূরদর্শন, বেতার, সামাজিক মাধ্যম, সংবাদপত্র এবং দূরসংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারভিযান শুরু করেছে। এই প্রচারণায় জাতীয় সাইবার অপরাধ বিষয়ক হেল্পলাইন 1930-এর প্রচারের লক্ষ্যে বহুভাষিক কলার টিউনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইন প্রয়োগের প্রচেষ্টাও সম্প্রসারিত হয়েছে। সংসদে সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল গ্রেফতার প্রতারণার সাথে জড়িত 3,962 টি স্কাইপ আইডি এবং 83,668টি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট এর থেকে বেশি I4C সক্রিয়ভাবে বন্ধ করেছে। সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযানের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ 12 লক্ষ এরও বেশি সন্দেহজনক সিম কার্ড বাতিল ও 3 লক্ষ এরও বেশি মোবাইল আইএমইআই (IMEI) নম্বর বন্ধ করেছে; পাশাপাশি 8,189 কোটি সুরক্ষা বা পুনরুদ্ধার করেছে 3.61 লক্ষ সাইবার প্রতারণার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং 20,853 জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।

এই পরিসংখ্যানগুলো থেকে বোঝা যায় যে ডিজিটাল গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রতারণা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় যা কোনো একক প্রতারক ঘটিয়ে থাকে। এরা প্রায়শই একাধিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল পরিচিতি ব্যবহার করে সংগঠিত নেটওয়ার্ক দ্বারা সমর্থিত হয়।

সাইবার কপ(Cyber Cop), হিন্দুস্তান টাইমস-এর উপস্থাপনায় এবং আইডেন্ট (Aident)-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত বন্ধন ব্যাংকের সিএসআর (CSR) উদ্যোগ, নাগরিকদের সাধারণ সাইবার প্রতারণা শনাক্ত করতে, নিরাপদ ডিজিটাল অভ্যাস সম্পর্কে জানতে এবং সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপের ক্ষেত্রে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির এই জাতীয় প্রচেষ্টাকে আরও পরিপূরক করে তোলে। শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই উদ্যোগটি ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সাইবার ক্ষেত্রে অধিকতর সহনশীলতা গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে।

একটি প্রকৃত তদন্তকে কীভাবে প্রতারণা থেকে আলাদা করবেন?

একটি বৈধ তদন্তের সময় কী কী ঘটে না সেটা বোঝা প্রতারণা শনাক্ত করার অন্যতম সহজ উপায় হতে পারে।

● সরকারি সংস্থাগুলো নাগরিকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ ভিডিও কলে থাকতে বলে না।

● তারা নির্দোষিতার প্রমাণ হিসেবে কাউকে টাকা স্থানান্তর করতে বলে না।

● কেউ প্রশ্ন করলেই তারা গ্রেফতার করার হুমকি দেয় না।

● তারা কখনোই নাগরিকদের কোনো তদন্তের বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখতে বলে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বারবার জনসাধারণকে এই জাতীয় কলগুলির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য এবং কল করা ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ না করে তাদের রিপোর্ট করার জন্য অনুরোধ করেছে।

ডিজিটাল গ্রেফতার প্রতারণার কিছু সাধারণ সতর্কবার্তা বা লক্ষণ হল:

● যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাৎক্ষণিক গ্রেফতারি বা আইনি পদক্ষেপের হুমকি।

● যাচাই-বাছাই, তদন্ত বা অ্যাকাউন্ট নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে অর্থ স্থানান্তরের অনুরোধ।

● বিষয়টি পরিবার, বন্ধুবান্ধব বা সহকর্মীদের কাছে গোপন রাখার নির্দেশনা।

● দীর্ঘ সময় ধরে ভিডিও কলে যুক্ত থাকার দাবি।

● দাবির সত্যতা যাচাই না করেই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি।

কয়েক মিনিটের যাচাইকরণ কয়েক মাস ধরে হওয়া অনুশোচনা রোধ করতে পারে

ডিজিটাল গ্রেফতার প্রতারণাগুলি বিকশিত হতে থাকবে। প্রতারণায় ব্যবহৃত সংস্থাগুলোর নাম হয়তো পরিবর্তিত হবে। প্রতারকদের সাজানো কাহিনিগুলো আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। নতুন প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের আরও বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মনে হবে। কিন্তু এসবের মূল উদ্দেশ্য একই থাকবে: মানুষের মনে এমন তীব্র ভীতির সৃষ্টি করা যাতে তাদের যা বলা হচ্ছে তা নিয়ে তারা কোনো প্রশ্ন না করে। আর ঠিক এ কারণেই, এই প্রতারণাগুলো কীভাবে কাজ করে তা বোঝাই হল এসবের শিকার হওয়া থেকে বাঁচার অন্যতম সেরা উপায়।

আপনার পরিচয়, আর্থিক বিষয় বা কোনো কথিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত কোনো অপ্রত্যাশিত অভিযোগের জবাব দেওয়ার আগে গভীর শ্বাস নিন, একটু থামুন এবং তারপর ফোন করা ব্যক্তির দেওয়া যোগাযোগের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আধিকারিক ওয়েবসাইট বা সহায়তা নম্বর ব্যবহার করে দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করে নিন।

যদি আপনার সন্দেহ হয় যে আপনি কোনো প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তবে দ্রুত পদক্ষেপ নিন। জাতীয় সাইবার অপরাধ সহায়তা নম্বর 1930 অথবা জাতীয় সাইবার অপরাধ অভিযোগ পোর্টাল (www.cybercrime.gov.in) -এর মাধ্যমে ঘটনাটি জানান এবং অবিলম্বে আপনার ব্যাংককে অবহিত করুন যাতে তারা সন্দেহজনক লেনদেনগুলো আটকে বা স্থগিত করতে পারে। যেসব অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে সেগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন, যেখানে সম্ভব অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করুন এবং স্ক্রিনশট, বার্তা, লেনদেনের বিবরণ ও ফোন নম্বরের মতো প্রমাণাদি সংরক্ষণ করুন, কারণ এগুলো তদন্তে সহায়তা করতে পারে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আপনাকে স্থানীয় থানায় অভিযোগও দায়ের করতে হতে পারে।

সাইবার কপ(Cyber Cop)-এর মতো প্রচারাভিযানগুলো, যা হিন্দুস্তান টাইমস কর্তৃক উপস্থাপিত ও আইডেন্ট (Aident) দ্বারা বাস্তবায়িত বন্ধন ব্যাংকের একটি সিএসআর (CSR) উদ্যোগ, একটি সাধারণ ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক – যখন কোনো বিষয় জরুরি বলে মনে হয়, তখন সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ হল ধীরস্থির হয়ে কিছুটা সময় নেওয়া, তথ্য যাচাই করা এবং পরিস্থিতির সত্যতা বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পরেই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া।

কখনও কখনও, ধীরগতিতে এগোনোই কোনো জটিল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার দ্রুততম উপায় হতে পারে।

পাঠকদের জন্য দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের হয়ে ‘এইচটি ব্র্যান্ড স্টুডিও’ (HT Brand Studio) প্রস্তুত করেছে এবং এর সঙ্গে ‘হিন্দুস্তান টাইমস/হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা (HT/HT Bangla)-র কোনও সাংবাদিক/সম্পাদকীয় কর্মীর সম্পর্ক নেই।