Dinesh Trivedi on Tarique Rahman: দ্রুত ভারত সফরে তারেক রহমান? সম্পর্ক মেরামতে বড় বার্তা দীনেশ ত্রিবেদীর
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্রুত ভারত সফরের পক্ষে সওয়াল করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, এই সফর আরও অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। তাঁর মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি বৈঠকে বসলে পারস্পরিক মতপার্থক্য ও সমস্যাগুলির সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে নতুন করে উষ্ণতার বার্তা দিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্রুত ভারত সফরের পক্ষে সওয়াল করে তিনি বলেছেন, এই সফর আরও অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। তাঁর মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি বৈঠকে বসলে পারস্পরিক মতপার্থক্য ও সমস্যাগুলির সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

রবিবার, ১৬ অগস্ট রাতে ঢাকার বারিধারায় আয়োজিত একটি নৈশভোজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আয়ারল্যান্ডের সাম্মানিক কনসাল মাসুদ জামিল খান ও তাঁর স্ত্রী কেট জারো খান। নৈশভোজে বিভিন্ন দেশের বর্তমান ও সাবেক কূটনীতিকদের পাশাপাশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে তাঁর মন্তব্য। তিনি মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে যে কোনও জটিলতা আলোচনার টেবিলে বসেই মেটানো সম্ভব। তাঁর কথায়, বৈঠকের মাধ্যমেই সমস্যাগুলির সমাধান করা যায় এবং এই প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী।
ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ঢাকা ও নয়াদিল্লি ফের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। এর আগে ১০ আগস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। সেই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে প্রত্যর্পণ-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় আসে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এরপর ১১ অগস্ট নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন ত্রিবেদী।
এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে জল্পনা জোরালো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, অগস্টের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এখনও চূড়ান্ত দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সফরটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই হতে পারে তারেক রহমানের প্রথম সরকারি ভারত সফর।
দীনেশ ত্রিবেদী একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ঐতিহাসিক ও আবেগের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের মানুষের হৃদয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তাঁর প্রধান লক্ষ্য ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে একটি ‘সোনালি সময়’ প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। প্রত্যেক দেশের নিজস্ব স্বার্থ, প্রয়োজনীয় পরিসর, মতপার্থক্য এবং যুক্তি-তর্ক থাকতেই পারে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এই মতপার্থক্যকে সম্পর্কের স্থায়ী বাধা হিসেবে না দেখে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা প্রয়োজন বলে তাঁর বক্তব্যের মূল সুর।
তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদী—দুই নেতাকেই ‘জনগণের মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর মতে, দুই নেতার লক্ষ্যও অনেক ক্ষেত্রে অভিন্ন। তাই তাঁরা যখন সরাসরি বৈঠকে বসবেন এবং একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন, তখন এমন কোনও সমস্যা থাকবে না যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়।
প্রসঙ্গত, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মেরামতের প্রক্রিয়ায় দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগকেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবেক রেলমন্ত্রী তথা রাজনীতিক ত্রিবেদী চলতি বছর বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন।
সব মিলিয়ে, তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য শুধু তারেক রহমানের ভারত সফরের পক্ষে সমর্থন নয়, বরং ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য দিল্লি সফর বাস্তবায়িত হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুদিনের জটিল বিষয় নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


