Divyastra Test Flight Update: বিদেশি জেট ইঞ্জিন ছাড়াই ভারতের ‘দিব্যাস্ত্র’! সফল হল প্রথম উড়ান
সংস্থার দাবি, দিব্যাস্ত্র এমকে৩ হল ভারতের প্রথম দেশীয় জেটচালিত লয়টারিং মিউনিশন। অর্থাৎ, এটি এমন একটি অস্ত্রব্যবস্থা, যা নির্দিষ্ট এলাকায় কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করে লক্ষ্য শনাক্ত বা নির্বাচন করার পর নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে আরও এক বড় সাফল্য ভারতের। দেশের মাটিতে তৈরি প্রথম জেটচালিত লয়টারিং মিউনিশন বা নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ঘুরে বেড়ানো অস্ত্রের সফল উড়ান সম্পন্ন হয়েছে। কাওয়া ইউএভি প্রাইভেট লিমিটেডের সংস্থা হোভারইট জানিয়েছে, তাদের তৈরি দিব্যাস্ত্র এমকে৩ গত ১১ আগস্ট প্রথমবার আকাশে উড়েছে।

সংস্থার দাবি, দিব্যাস্ত্র এমকে৩ হল ভারতের প্রথম দেশীয় জেটচালিত লয়টারিং মিউনিশন। অর্থাৎ, এটি এমন একটি অস্ত্রব্যবস্থা, যা নির্দিষ্ট এলাকায় কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করে লক্ষ্য শনাক্ত বা নির্বাচন করার পর নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারে। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এর চালনা ব্যবস্থার জন্য কোনও বিদেশি জেট ইঞ্জিন বা বিদেশি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়নি।
হোভারইট জানিয়েছে, দিব্যাস্ত্র এমকে৩-এর জেট ইঞ্জিনও দেশেই তৈরি হয়েছে। এই ইঞ্জিন তৈরি করেছে ডিজি প্রপালশন। সংস্থার বক্তব্য, প্রকল্প শুরু হওয়ার মাত্র এক বছরের মধ্যেই প্রথম উড়ান সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ, গবেষণা, নকশা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে উড়ান—পুরো প্রক্রিয়াটিই ভারতীয় শিল্প ও প্রযুক্তি পরিকাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলে তাদের দাবি।
এই সাফল্যের গুরুত্ব শুধু একটি নতুন অস্ত্রের পরীক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক যুদ্ধে লয়টারিং মিউনিশনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এই ধরনের অস্ত্রকে নির্দিষ্ট এলাকায় কিছু সময় ধরে পরিচালনা করে লক্ষ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে নজরদারি এবং নির্ভুল আঘাত—দুই ক্ষমতাকে একই ব্যবস্থার মধ্যে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলিতে ড্রোন এবং লয়টারিং মিউনিশনের ব্যবহার যুদ্ধের কৌশল অনেকটাই বদলে দিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে জেটচালিত দেশীয় লয়টারিং মিউনিশনের সফল উড়ান ভারতের জন্য কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতারা এই সাফল্যকে শুধু পরীক্ষামূলক উড়ান হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের বক্তব্য, ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তি ও শিল্প পরিকাঠামোর মাধ্যমে জেটচালিত নির্ভুল আঘাত হানার ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব—দিব্যাস্ত্র এমকে৩ তারই প্রমাণ। তাঁদের দাবি, এটি ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর বাস্তব প্রয়োগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
এর আগে দেশীয় ড্রোন-নির্ভর অস্ত্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেছে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও। ইউএভি-নির্ভর নির্ভুল নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ইউএলপিজিএম-ভি৩-এর উন্নয়নমূলক পরীক্ষাও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলের কাছে ডিআরডিওর পরীক্ষাকেন্দ্রে এই অস্ত্র ব্যবস্থার আকাশ থেকে মাটিতে এবং আকাশ থেকে আকাশে—দুই ধরনের পরীক্ষাই করা হয়।
ইউএলপিজিএম-ভি৩ ব্যবস্থা মাটির লক্ষ্য, সাঁজোয়া যান, ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য আকাশীয় লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার সঙ্গে উন্নত নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশনা প্রযুক্তিও যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং পরীক্ষার সাফল্যকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
দিব্যাস্ত্র এমকে৩ এবং ইউএলপিজিএম-ভি৩-এর মতো প্রকল্পে অগ্রগতি দেখাচ্ছে, ভারত ধীরে ধীরে বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব মানবহীন আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে। আর দেশীয় জেটচালিত লয়টারিং মিউনিশনের প্রথম সফল উড়ান সেই লক্ষ্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


