ইরানে ফের হামলার প্রস্তুতি আমেরিকার! ‘বাকি দেশটাও ধ্বংস করতে চাই না’, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইরান নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমেরিকার সেনাবাহিনী বর্তমানে আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় বেশি অস্ত্র তৈরি করছে। প্রয়োজনে ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত।
ইরানের বিরুদ্ধে ফের বড়সড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা। প্রয়োজনে তেহরানের উপর নতুন করে হামলা চালাতে মার্কিন সেনা সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়ে দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর কথায়, আমেরিকা এখন ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’। অর্থাৎ, সামরিক অভিযানের জন্য পুরোপুরি তৈরি। তবে ইরানের বাকি অংশটুকুও ধ্বংস করে দিতে চান না তিনি। কিন্তু পরিস্থিতি বাধ্য করলে সেই পথেও হাঁটতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্য দিকে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে ইরানের তরফে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও খবর। ফলে এক দিকে সামরিক প্রস্তুতি, অন্য দিকে কূটনৈতিক আলোচনা। দুইয়ের টানাপড়েনে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইরান নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমেরিকার সেনাবাহিনী বর্তমানে আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় বেশি অস্ত্র তৈরি করছে। প্রয়োজনে ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত। তবে নতুন করে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। ট্রাম্পের কথায়, আরও এগিয়ে গিয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চিরতরে শেষ করে দেওয়া হবে কি না, তা বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।
এর পরেই ইরানকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, সম্ভব হলে তিনি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না। কিন্তু পরিস্থিতির প্রয়োজনে তেমন পদক্ষেপও করতে হতে পারে। তাঁর দাবি, নতুন করে হামলা হলে ইরানের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত ২৫ বছর সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ, তেহরানের উপর সামরিক চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি আরও বড় অভিযানের সম্ভাবনাও খোলা রাখছেন তিনি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি। ইরান যুদ্ধের প্রভাব নির্বাচনে পড়েছে বলে মনে করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধ এবং তার জেরে আমেরিকায় জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে দলের খারাপ ফলের অন্যতম কারণ এই সংঘাত। ট্রাম্পও আংশিক ভাবে ভ্যান্সের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত হয়েছেন। তবে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তকে ভুল বলতে নারাজ তিনি। একই পরিস্থিতি তৈরি হলে আবারও সেই সিদ্ধান্ত নিতেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এ দিকে, সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারী কাতারের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। বৃহত্তর শান্তি চুক্তির শর্তগুলির বাইরে আলাদা করে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে খবর। কাতার ছাড়াও সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান ও মিশরের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে তেহরান।
অন্য দিকে, আমেরিকার কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) ইরানে বড় ধরনের অভিযান ফের শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ওয়াশিংটন থেকে এখনও চূড়ান্ত নির্দেশ আসেনি বলে জানিয়েছে এক মার্কিন আধিকারিক। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত সমঝোতায় আমেরিকার নৌ অবরোধ শিথিল করা, ইরানের আটকে থাকা অর্থের একাংশ ছাড়া এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার মতো বিষয় রয়েছে। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
এই সংঘাতের প্রভাব শুধু পশ্চিম এশিয়ায় সীমাবদ্ধ নেই। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। নতুন করে হামলা শুরু হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। ফলে ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব। যুদ্ধের পথে হাঁটবেন, না কি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজবেন, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


