USতেও ভোটার কার্ডের পক্ষে সওয়াল ট্রাম্পের! ভারতের উদাহরণ টানতেই তরজায় BJP-কংগ্রেস

India’s election system: সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি (সেভ) আমেরিকা অ্যাক্ট অনুযায়ী, ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য রেজিস্টার করতে হলে ব্যক্তিকে বৈধ পরিচয়পত্রের পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণও দিতে হবে।

Published on: Aug 18, 2026, 23:00:58 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

India’s election system: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের জন্য বাধ্যতামূলক ফটো পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা চালুর দাবি পুনরায় তুলে ধরে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা (India’s election system) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।

USতেও ভোটার কার্ডের পক্ষে সওয়াল ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Bloomberg)
USতেও ভোটার কার্ডের পক্ষে সওয়াল ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Bloomberg)

ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, জ্ঞানেশ কুমার সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনকে প্রশ্ন করেছিলেন, বৈধ সচিত্র পরিচয়পত্র ছাড়া কীভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘চলতি মাসের শুরুতে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের প্রশাসনকে প্রশ্ন করেছিলেন-বৈধ ফটো আইডি ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কীভাবে নির্বাচন হতে পারে?’ ট্রাম্প ভারতের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনের কথাও উল্লেখ করে বলেন, সেই নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লক্ষ ভোটার ছিলেন, যাঁদের ১ শতাংশেরও কম ডাকযোগে ভোট দিয়েছিলেন এবং প্রত্যেক ভোটারের বৈধ সচিত্র পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। ফেডারেল নির্বাচনে ভোটার রেজিস্ট্রেশন এবং পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করার লক্ষ্যে একটি আইনের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের এখনই ‘দ্য সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ (THE SAVE AMERICA ACT) পাস করতে হবে!’

‘দ্য সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’-এ কী প্রস্তাব করা হয়েছে?

সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি (সেভ) আমেরিকা অ্যাক্ট অনুযায়ী, ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য রেজিস্টার করতে হলে ব্যক্তিকে বৈধ পরিচয়পত্রের পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণও দিতে হবে। এই আইনে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে অসুস্থতা, প্রতিবন্ধকতা, সামরিক পরিষেবা এবং ভ্রমণের মতো কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যগুলিকে ভোটার তালিকা থেকে অ-মার্কিন নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউস এই আইনের সমর্থন করেছে এবং যুক্তি দিয়েছে যে শুধুমাত্র মার্কিন নাগরিকদেরই ফেডারেল নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত। প্রশাসন ভারত ও ব্রাজিলের উদাহরণও তুলে ধরেছে। তাদের বক্তব্য, এই দেশগুলিতে ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের সঙ্গে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থার সংযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেশজুড়ে ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, তিনি যে ধরনের ‘নির্বাচনী জালিয়াতির’ কথা উল্লেখ করেন, তা প্রতিরোধ করতে এই আইন প্রয়োজন।

কংগ্রেসে বিরোধিতার মুখে বিল

গত ২৯ জানুয়ারি ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ বিলটি কংগ্রেসে পেশ করা হয়েছিল। তবে বিলটি পাস করানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলি নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে, আরও কঠোর পরিচয় যাচাই এবং নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয়তা ভোট দেওয়ার সুযোগের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই মূল বিতর্ক। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন সেনেট পাঁচ সপ্তাহের অবকাশে (five-week recess) চলে যায়। তবে তার আগে বিলটি পাস করার দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বিজেপি-কংগ্রেস তরজা

তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিজেপি ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র’-এর প্রশংসা করলেও কংগ্রেস যুক্তি দিয়েছে যে ভারতেও ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্বাচন করা উচিত। এক্স হ্যান্ডেলে বিজেপি নেতা রাজীব চন্দ্রশেখর বলেছেন, 'বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারত, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী গণতন্ত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুপ্রাণিত করছে-গণতন্ত্রে কীভাবে শুধুমাত্র বৈধ নাগরিকরাই ভোট দিতে পারে, সেই বিষয়ে।' তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র তখনই কার্যকর হয় যখন তা 'একমাত্র নাগরিকদের দ্বারাই পরিচালিত হয়।' এদিকে, কংগ্রেস নেতা উদিত রাজ ট্রাম্পের মন্তব্যের বিপরীতে যুক্তি দিয়েছেন যে ভারতেও ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্বাচন হওয়া উচিত। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি বলেন, 'ভারতে নির্বাচনও ব্যালট পেপারের মাধ্যমে হওয়া উচিত।' তাঁর কথায়, 'যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইলন মাস্ক এবং তুলসি গ্যাবার্ড ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেন, তখন সেই একই সংবাদমাধ্যম গুলি কেন নীরব ছিল? যদিও ইলেকট্রনিক ভোটিং শুধুমাত্র সীমিত আকারে ব্যবহৃত হয়।'