Trump & Vance on FlyDubai Incident: ফ্লাইদুবাই কাণ্ডে ইরানের দিকে আঙুল ট্রাম্পের, উল্টো সুর ভ্যান্সের গলায়!

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরকে ছুরি দিয়ে হামলা করেন ওমানের সহকারী পাইলট হামাম আল হাম্মামি। সেই ঘটনার নেপথ্যে ইরানের হাত রয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।

Published on: Oct 6, 2026, 09:21:38 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

আকাশপথে জঙ্গি হামলার চেষ্টাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরকে ছুরি দিয়ে হামলা করেন ওমানের সহকারী পাইলট হামাম আল হাম্মামি। সেই ঘটনার নেপথ্যে ইরানের হাত রয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর বক্তব্য, এখনও এমন কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা থেকে ইরানের সঙ্গে এই হামলার সরাসরি যোগ প্রমাণ করা যায়।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরকে ছুরি দিয়ে হামলা করেন ওমানের সহকারী পাইলট হামাম আল হাম্মামি। (HT_PRINT)
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরকে ছুরি দিয়ে হামলা করেন ওমানের সহকারী পাইলট হামাম আল হাম্মামি। (HT_PRINT)

ফ্লাইদুবাইয়ের এফ জেড ১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিল। বিমানে ছিলেন ১৭৪ জন যাত্রী। তাঁদের বেশির ভাগই ইজরায়েলের নাগরিক। বিমানের মধ্যেই হঠাৎ ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের উপর হামলা করেন সহকারী পাইলট হাম্মামি। গুরুতর আহত হওয়ার পরেও পরিস্থিতি সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ভারতীয় পাইলট। তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন। এর পরে বিমানের যাত্রী এবং কর্মীরা হামলাকারীকে ধরে ফেলেন। বিমানে যাত্রী হিসাবে থাকা আরও দুই ফ্লাইদুবাই পাইলট পরে বিমানের দায়িত্ব নেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে বিমানটি নামানো হয়।

ঘটনার পরে ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরবের কয়েক জন আধিকারিক একে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক তদন্তে সহকারী পাইলটের হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে সে একাই এই কাজ করেছিল, নাকি আরও কোনও সংগঠন বা গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল, তা নিয়ে তখনও তদন্ত চলছিল।

এর মধ্যেই তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে হাম্মামি নাকি বিমানে হামলা চালিয়ে সেটিকে তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নিয়ে গিয়ে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এর আগেও চলতি বছরে আরও একটি বিমান একই ভাবে তেল আভিভে আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

কিন্তু এখানেই নতুন করে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস ইরান এই ঘটনার পিছনে রয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে কার্যত তেহরানের দিকে সরাসরি আঙুল ওঠে। এমন দাবি অবশ্য তদন্তকারীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পরেই ভিন্ন সুর শোনা যায় ভ্যান্সের মুখে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের ভূমিকা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। কিন্তু এখনও এমন কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ তাঁর সামনে আসেনি, যার ভিত্তিতে নিশ্চিত ভাবে তেহরানকে দায়ী করা যায়। গোয়েন্দা প্রধান জন র‌্যাটক্লিফ এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা বিষয়টি দেখছেন বলেও জানান তিনি।

অর্থাৎ, একই ঘটনার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি এক দিকে, আবার তাঁরই ভাইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অন্য দিকে। ইরানের দিকে সন্দেহের তির থাকলেও তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। ফলে এই হামলার পিছনে আসলে কে ছিল, হামাম্মামি একাই কাজ করেছিল কি না, কিংবা এর সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগ আছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও বাকি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ভয়াবহ বিপদের মুখেও ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরের তৎপরতায় এবং বিমানে থাকা যাত্রীদের সাহসে সম্ভাব্য আরও বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। এখন নজর তদন্তের পরবর্তী ধাপে। ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগ শেষ পর্যন্ত কতটা প্রমাণিত হয়, সেটাই আপাতত মূল প্রশ্ন।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More