শেষের পথে যুদ্ধ! ইরান থেকে 'বিরাট উপহার' পাওয়ার দাবি ট্রাম্পের, খুলছে হরমুজ?
এই রহস্যময় ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যার ঠিক আগের দিন ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি অপ্রত্যাশিতভাবে স্থগিত করেন এবং জানান, ওয়াশিংটন ইরানের কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করছে।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি দিনে দিনে আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। এক মাস হতে চললেও এখনও কোনও পক্ষই পিছু হটতে চাইছে না। এদিকে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা কাটাতে সবরকম রাস্তাই পরীক্ষা করে দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরমধ্যেই তিনি দাবি করলেন, ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক ‘উপহার’ পাঠিয়েছে যা 'অমূল্য।'

এই রহস্যময় ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যার ঠিক আগের দিন ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি অপ্রত্যাশিতভাবে স্থগিত করেন এবং জানান, ওয়াশিংটন ইরানের কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করছে। তেহরান অবশ্য যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনও ধরনের আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি 'অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপহার' দিয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই উপহারটি সম্ভবত জ্বালানি বা তেল-গ্যাস সম্পর্কিত এবং এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে কোনও অস্থিরতা তৈরি হলে তা সরাসরি প্রভাব ফেলে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ নেই। ইরানের বিদেশ মন্ত্রক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মটরকিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা হয়নি বলে অস্বীকার করেছে। তবে তারা জানিয়েছে, কিছু আঞ্চলিক দেশ মধ্যস্থতায় জড়িত।
'ইরান একটি উপহার দিয়েছে'
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, 'তারা (ইরান) আমাদের একটি উপহার দিয়েছে, এবং সেটি আজ পৌঁছেছে। এটি ছিল খুব বড় একটি উপহার, যার মূল্য বিপুল।' তবে সেই উপহার কী তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'সেটা এখন আপনাদের বলব না। তবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পারমাণবিক নয়, বরং তেল ও গ্যাস সম্পর্কিত।' তিনি আরও জানান, 'তারা খুব ভালো একটি কাজ করেছে। আমার কাছে এর মানে একটাই, আমরা সঠিক লোকেদের সঙ্গেই আলোচনা করছি।' তবে তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কার সঙ্গে আলোচনা করছে ট্রাম্প তা এখনও প্রকাশ করেননি। গত সোমবার ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার সময় তিনি শুধু বলেছিলেন, ব্যক্তিটি একজন ‘শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব।’ ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আসলে সঠিক লোকদের সঙ্গে কথা বলছি এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য খুব মরিয়া হয়ে আছে।’
ট্রাম্প জানান, এই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও, বৈশ্বিক দূত বৈশ্বিক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার যুক্ত আছেন। তবে উইটকফ এবং কুশনার ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছেন কিনা কিংবা আলোচনা গুরুত্ব পেলে ভ্যান্সও সেখানে যাবেন কিনা-এমন রিপোর্টের বিষয়ে তিনি কোনও নিশ্চিত তথ্য দেননি। অন্যদিকে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ‘চান না বিষয়টি মিটে যাক।' কারণ, তিনি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখতে চান। ট্রাম্প যখন হেগসেথকে পোডিয়ামে ডাকেন, তখন তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদেরও এই আলোচনার অংশ হিসেবে দেখি। আমরা বোমা দিয়ে আলোচনা করি।’ সব মিলিয়ে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনও জটিল এবং অনিশ্চিত। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে রয়েছে, এই সংঘাত কী সত্যিই শান্তির পথে এগোবে, নাকি আরও বড় সঙ্কটের দিকে গড়াবে।
E-Paper

