Project Freedom: হরমুজে ফের সংঘাতের আঁচ! পাক অনুরোধে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ আপাতত স্থগিত ট্রাম্পের, কিন্তু কেন?
Project Freedom: মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন সে দেশের বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও।
Project Freedom: হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান শুরু করেছিল, সেটি আপাতত স্থগিত করার ঘোষণা করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পথে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হয়েছে দাবি করে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তির’ আলোচনায় ‘ব্যাপক অগ্রগতি’ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন ও স্বাক্ষর করা যায় কিনা, তা দেখার জন্যই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্পের কথায়, ‘পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের অনুরোধে এবং সেই সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তির দিকে বড় ধরনের অগ্রগতি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা পারস্পরিকভাবে একমত হয়েছি যে অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকলেও প্রজেক্ট ফ্রিডম স্বল্প সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হবে। এর মাধ্যমে দেখা হবে যে চুক্তিটি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষর করা সম্ভব কিনা।’
‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন সে দেশের বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন, এই অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে এবং বর্তমানে মার্কিন বাহিনী ওই অঞ্চলে নিছক একটি ‘রক্ষণাত্মক’ বা ডিফেন্সিভ ভূমিকায় অবস্থান করছে। রুবিও জোর দিয়ে বলেন, এখন থেকে মার্কিন সেনারা আগ বাড়িয়ে কোনও আক্রমণ চালাবে না এবং কেবল আক্রান্ত হলেই পাল্টা গুলি ছুড়বে। বর্তমানে তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি উন্মুক্ত রাখা। মার্কিন বিদেশ সচিবের এই ঘোষণায় রক্ষণাত্মক অবস্থানের কথা বলা হলেও তার বক্তব্যে একই সঙ্গে ছিল কড়া হুঁশিয়ারি। তিনি ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায় তবে দেশটির অর্থনীতি ‘প্রজন্মব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞের’ সম্মুখীন হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে চিন সফরে গিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মঙ্গলবার দুপুরে এ কথা জানিয়েছে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা সফল হওয়ার আগেই আরাঘচির বেজিং সফর যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, এমনটাই মনে করছেন অনেকে। ইরানের সংবাদমাধ্যম ফারস জানায়, ‘এই সফরে দেশের বিদেশমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন নিয়ে চিনা বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন।’ তবে রুবিও বলেন, ‘আমি আশা করবো চিন (আরাঘচিকে) যা বলা উচিত, তা বলবে এবং সেটা হলো, (হরমুজ) প্রণালীতে তারা যেটা করছে, সেটা তাদেরকে বিশ্ববাসীর কাছে ব্রাত্য করে তুলছে।’
E-Paper

