US-Iran: হরমুজ প্রণালী ঘিরে টানাপোড়েন চরমে! ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, এরপর কী হবে?
Donald Trump Rejects Irans Truce Plan: ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরানে আবার হামলা চালানোর কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
Donald Trump Rejects Irans Truce Plan: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধাবসানের প্রস্তাব রেখেছিল ইরান। তবে নতুন সেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব শেষমেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন যে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই তিনি ইরানে ফের বোমা হামলা শুরু করতে চান।

নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের (UNGA High-Level Week) সময় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে লাগাতার যোগাযোগের মাঝেই এই অগ্রগতি সামনে এসেছে। ট্রাম্প এও জানিয়েছেন যে, এই সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। ঠিক কী ঘটেছে, কেন আলোচনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং এরপর কী হতে পারে—তা বিশদে তুলে ধরছে হিন্দুস্তান টাইমস।
ঠিক কী ঘটেছে?
শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে দেওয়ার প্রয়োজন থেকেই ইরান চুক্তির জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গত সপ্তাহেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরঘাচি রাষ্ট্রসংঘে নতুন করে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব রাখেন। রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে কাতার। ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবে ছিল-ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ছাড় এবং লেবানন ও ইয়েমেন-সহ বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি। এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান।
ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরানে আবার হামলা চালানোর কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ধারণা ইরান তার দাবিগুলো পূরণ করবে না। এ কারণে নভেম্বরের ৩ তারিখের কংগ্রেস নির্বাচনের পর ইরানে আবার বোমা হামলা শুরু হতে পারে বলে তিনি সহযোগীদের জানিয়েছেন। তবে সম্ভাব্য হামলার মাত্রা বা পরিধি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্যদিকে, ইরান এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অবস্থান পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তেহরানের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার যে কোনও উদ্যোগ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে এবং আলোচনার মাধ্যমেই অচলাবস্থার সমাধান সম্ভব।
ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কারণ কী?
ইরানের নতুন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু কেন? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। তিনি বলেছেন, আলোচনার টেবিলে ফিরতে ইরান অতিরিক্ত ছাড় দাবি করেছে। এ জন্যই ট্রাম্প ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ বলেন, আলোচনায় ফিরতে রাজি হওয়ার বিনিময়ে ইরানের পক্ষ থেকে শুরুতেই কয়েকটি দাবি তোলা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে। কিন্তু ইরান প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করবে, এমন আস্থা ট্রাম্পের নেই। ওয়াল্টজ বলেন, 'আমার মনে হয়, এটি ছিল বেশ কৌশলী একটি চেষ্টা। তারা এমন কিছু প্রস্তাব টেবিলে তুলেছে, যা তারা নিজেরাই জানত যে গ্রহণযোগ্য হবে না। শুধু আলোচনায় বসার জন্য অবরোধ তুলে নেওয়া, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কোটি কোটি ডলারের সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেয়ার দাবি করা হয়েছে।'
ইরান কী চাইছে?
রবিবারও ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের শর্তগুলো বহাল রেখেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ফ্রন্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার কোনও প্রশ্নই নেই। আমরা এসব শর্ত থেকে সরে আসব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কখনও কূটনীতি বা আলোচনার দরজা বন্ধ করিনি। একই সঙ্গে নিজেদের অধিকার থেকেও কখনও সরে আসিনি।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প কী ফের আলোচনায় আগ্রহী?
তেহরানের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি আগামী সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আবারও আলোচনা শুরুর আশা করছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু তারা যে চুক্তিটি করতে চায়, সেটি আমি করতে চাই না। এক বছর আগে হয়তো আমরা এমন একটি চুক্তিতে রাজি হতাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা নিজেদের অবস্থানকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কঠোর করে ফেলেছে।’
আলোচনা কী এখন থমকে গেছে?
পুরোপুরি নয়। সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নতুন করে ধাক্কা তৈরি হয়েছে ঠিকই, তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষই এখনও যোগাযোগ বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেই আলোচনা চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক। অন্যদিকে, ইরান লাগাতার আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে এবং বলেছে যে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তাদের শর্তাবলী অপরিবর্তিত রয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো—নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন অবরোধ, হরমুজ প্রণালী এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তৈরি হওয়া মতপার্থক্য কাতারের মধ্যস্থতায় হ্রাস করা সম্ভব কিনা।
E-Paper

