Donald Trump insults Japan: 'পার্ল হারবারে হামলার আগে আমাদের বলেননি কেন?' জাপানি PM-কে পাশে বসিয়ে মন্তব্য ট্রাম্পের

ট্রাম্প বলেন, 'আমি সবাইকে চমকে দিতে চেয়েছিলাম। চমকের বিষয়ে জাপানের থেকে ভালো আর কে জানে? আপনারা কেন পার্ল হারবর নিয়ে আগে থেকে আমাদের বলেননি?' সেই সময় ট্রাম্পের পাশে বসে থাকা তাকাইচি স্বভাবতই বিব্রত।

Published on: Mar 20, 2026, 08:04:14 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

হরমুজ প্রণালীতে একা ইরানকে ঠেকাতে পারছে না আমেরিকা। এই আবহে ইউরোপ সহ জাপানেরও সাহায্য চেয়েছে আমেরিকা। আর এরই মাঝে ওয়াশিংটন সফরে গিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। সেই তাকাইচিকে পাশে বসিয়েই জাপানকে একপ্রকার অপমান করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ঘটনাকে টেনে এনে জাপানি প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করেন ট্রাম্প। এককথায়, যে জাপানের থেকে তিনি সাহায্য চাইছেন, তাদেরই অপমান করেন ট্রাম্প।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন (Bloomberg)
ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন (Bloomberg)

গতকাল ওভাল অফিসে এক জাপানি সাংবাদিক ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেছিলেন, 'ইরান যুদ্ধের আগে কোনও বন্ধুরাষ্ট্রকে কেন জানাননি আপনি?' আর এর জবাবে জাপানি সাংবাদিককে ট্রাম্প বলেন, 'আমি সবাইকে চমকে দিতে চেয়েছিলাম। চমকের বিষয়ে জাপানের থেকে ভালো আর কে জানে? আপনারা কেন পার্ল হারবর নিয়ে আগে থেকে আমাদের বলেননি?' সেই সময় ট্রাম্পের পাশে বসে থাকা তাকাইচি স্বভাবতই বিব্রত। তিনি কিছু বলেননি এই বিষয়ে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ন্যাটো এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলির ওপর। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ওপরও ক্ষুব্ধ ছিলেন ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালীতে ইরানি হামলা প্রতিহত করতে কেউ আমেরিকার পাশে এসে দাঁড়ায়নি বলেই এই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। এর আগে পরোক্ষ ভাবে চিনের থেকে পর্যন্ত হরমুজ নিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন ট্রাম্প।

প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে শ'য়ে শ'য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ। ইরান বলছে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যোগ না থাকা কোনও জাহাজ তারা আটকাবে না। এদিকে আমেরিকা আবার এর ফাঁকেও ব্যবসার ফন্দি এঁটেছিল। মিত্র দেশগুলির কাছে আমেরিকার প্রস্তাব ছিল, টাকা দিলেই মার্কিন নৌসেনা এসকর্ট করে তাদের দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করিয়ে দেবে। এরই সঙ্গে সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে যেতে দিচ্ছে ইরান। এতে যেন আরও বেশি 'মাথা খারাপ' হয়ে গিয়েছে আমেরিকার।

কয়েকদিন আগে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট দাবি করেছিলেন, মার্কিন এক রণতরী নাকি হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা একটি জাহাজকে সেখান থেকে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে আনে। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে তিনি পোস্টও করেন। পরে অবশ্য তিনি সেই পোস্টটি মুছে দেন। মার্কিন সেনা জানিয়ে দেয়, কোনও জাহাজকে হরমুজ প্রণালী থেকে বের করে আনেনি তারা। পরে হোয়াইট হাউজের তরফ থেকেও জানানো হয়, এখনও পর্যন্ত কোনও জাহাজকে হরমুজ প্রণালী থেকে বের করে আনেনি মার্কিন রণতরী।

হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা। পরে গত ১৮ মার্চ রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে একটি জাহাজে ফের হামলা চালিয়েছিল ইরান। এখনও পর্যন্ত ১ মার্চ ওমানের খসব বন্দরে এমটি স্কাইলাইট নামক তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং অয়লার পদে থাকা দিলীপ সিং। এদিকে ওমানের মাস্কাটের থেকে ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা এমকেডি ব্যোম নামক ট্যাঙ্কারে হামলা করা হলে প্রাণ হারান অয়লার দিক্ষীত অমৃতলাল সোলাঙ্কি। ইরাকের জলসীমায় সেফ-সি বিষ্ণু নামক মার্কিন জাহাজে প্রাণ হারান দেবানন্দন প্রসাদ সিং।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More