Donald Trump Warning: ‘যুদ্ধ শুরু হবে...,' যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, কিন্তু কেন?

Donald Trump Warning: মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, অনেক আগেই একটি সমঝোতা হয়েছে যে ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা হবে।

Published on: Apr 9, 2026, 22:27:57 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Donald Trump Warning: যুদ্ধবিরতি জারি থাকলেও হুঁশিয়ারি থামছে না। ফের ইরানকে কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘আসল চুক্তি’ পুরোপুরি মেনে না চলা পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী তাদের অবস্থানে অনড় থাকবে। তাঁর হুঁশিয়ায়, যদি কোনও কারণে এই চুক্তি লঙ্ঘিত হয়, তবে এমন ধ্বংসাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে যা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের (REUTERS)
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের (REUTERS)

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, মার্কিন সেনা, যুদ্ধজাহাজ, বিমান এবং অস্ত্রশস্ত্র সবই ইরানের আশপাশে মোতায়েন থাকবে। যতক্ষণ না আসল চুক্তি পুরোপুরি হচ্ছে, ততক্ষণ কিছুই এক চুলও নড়বে না কোথাও থেকে। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, শত্রুপক্ষ ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি লেখেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সকল জাহাজ, বিমান এবং সামরিক সদস্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র-সহ ইরানে এবং এর আশেপাশে অবস্থান করবে। ইতিমধ্যে যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়া শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করতে তারা সেখানে ততক্ষণ থাকবে, যতক্ষণ না আমাদের মধ্যে হওয়া ‘আসল চুক্তি’ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে।' চুক্তি লঙ্ঘনের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি আরও যোগ করেন, 'যদি কোনও কারণে চুক্তিটি পালন করা না হয়-যদিও এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম-তবে ‘যুদ্ধ’ শুরু হবে। সেই লড়াই হবে এযাবতকালের দেখা যে কোনও যুদ্ধের চেয়ে বিশাল, উন্নত এবং শক্তিশালী।'

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, অনেক আগেই একটি সমঝোতা হয়েছে যে ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা হবে। তিনি একে ‘আসল চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বিরোধী পক্ষ থেকে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলেও এটাই আসল সত্য। সবশেষে নিজের বাহিনীর মনোবল চাঙ্গা করতে ট্রাম্প লেখেন, 'আমাদের মহান সামরিক বাহিনী বর্তমানে রসদ সংগ্রহ করছে এবং বিশ্রাম নিচ্ছে। তারা মূলত তাদের পরবর্তী বিজয়ের জন্য অধীর অপেক্ষায় রয়েছে। আমেরিকা ফিরে এসেছে!' আপাতত যুদ্ধবিরতি থাকলেও পরিস্থিতি যে একেবারে স্বাভাবিক হয়নি তা স্পষ্ট। বরং চুক্তি কার্যকর রাখার জন্য চাপ তৈরি করতে এই সামরিক প্রস্তুতি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে এমন বক্তব্য নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা উসকে দেবে।

কী বলছে ইরান?

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান, উভয়পক্ষ নিজেদের বিজয়ী বলে ঘোষণা করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসিআই) এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরান এই যুদ্ধে তার 'প্রায় সব লক্ষ্যেই অর্জন করেছে এবং শত্রুপক্ষ একটি ঐতিহাসিক ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছে।' ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পূর্ণাঙ্গ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শত্রুরা ইরানের বিরুদ্ধে তাদের ভীরুতাপূর্ণ ও অবৈধ যুদ্ধে এক চূর্ণবিচূর্ণ পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করেছে। শহীদ নেতা আলি খামেনির পবিত্র রক্তের বরকতে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা খামেনির দূরদর্শী নেতৃত্বে ইরান এই বিশাল জয় অর্জন করেছে।’ বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ‘অপরাধী আমেরিকা’ ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্ব বজায় রাখা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতি, ইরানের ওপর আরোপিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নিরাপত্তা পরিষদ ও বোর্ড অব গভর্নরসের সব প্রস্তাব বাতিল, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সব সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ-সহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।

লেবাননে হামলা

বুধবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লেবাননে হামলা চালাতে শুরু করে ইজরায়েল। শয়ে শয়ে মানুষের মৃত্যু হয়। প্রাণ যায় সাংবাদিকেরও। লেবানন বাঁচাতে পাল্টা হামলা হুঁশিয়ারি দেয় ইরান। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। থামেনি আক্রমণ। উল্টে ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, যদি কোনওভাবে এই চুক্তি ভেঙে যায়, তাহলে গুলিবর্ষণ শুরু হবে এবং এই হামলা আগে কখনও দেখেনি কেউ। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ এই হামলাকে ‘গুরুতর যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এটি তাদের প্রতিরোধ আরও জোরদার করবে। তাদের ভাষায়, নিরীহ মানুষের ওপর এমন আঘাত তাদের লড়াইয়ের সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করেছে।