US President Donald Trump: ফের ছবি-যুদ্ধের আঁচ! ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে মেলোনিকে 'নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন' তোপ ট্রাম্পের

US President Donald Trump: মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপে শামিল হতে এবং ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করতে ইতালি অনীহা প্রকাশ করার পর থেকেই এই দুই দেশের ডানপন্থী শীর্ষ নেতার মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে।

Published on: Jul 6, 2026, 12:45:30 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

US President Donald Trump: ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে চলমান ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক বিরোধের জের ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অদ্ভুত মিম বা ছবি শেয়ার করে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন। ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে দুই রাষ্ট্রনেতার সম্ভাব্য মুখোমুখি বৈঠকের ঠিক আগের মুহূর্তে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মেলোনি তাঁর প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত এবং এই কারণে তার সুরক্ষায় এখন ইতালির প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি আইনি নিষেধাজ্ঞা বা ‘রেস্ট্রেইনিং অর্ডার’ জারি করা প্রয়োজন।

জর্জিয়া মেলোনিকে 'নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন' তোপ ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Evan Vucci/AP Pool via AP)
জর্জিয়া মেলোনিকে 'নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন' তোপ ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Evan Vucci/AP Pool via AP)

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে মেলোনির সঙ্গে একটি এডিট করা ছবি পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে ইতালির এই ডানপন্থী নেত্রী ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে হাসছেন। ট্রাম্প সেই ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আইনি নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।’ ওই একই সময়ে ট্রাম্প প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং মিশেল ওবামার একটি বিকৃত ছবিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে তাঁদের বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানের গায়ে গ্রাফিতি বা ব্যঙ্গচিত্র আঁকা ছিল। বিশ্বের এই দুই প্রভাবশালী ডানপন্থী নেতার মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল গত সপ্তাহে, যখন ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে সাম্প্রতিক জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সময় মেলোনি তাঁর সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য ‘বারবার’ অনুরোধ করেছিলেন এবং এক প্রকার অনুনয়-বিনয় করেছিলেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইতালির বিদেশমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তাঁর পূর্বনির্ধারিত ওয়াশিংটন সফর বাতিল করেন।

অন্যদিকে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইতালির সংবাদ সংস্থা আদনক্রোনোস-কে উদ্ধৃত করে স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল রেতে ফোর-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেলোনি স্পষ্ট বলেছেন, ‘ইতালি এবং আমি কখনওই কারও কাছে ভিক্ষা বা অনুনয় করি না।' মেলোনি আরও উল্লেখ করেন যে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী নন এবং অতীতে যেমন কারও সামনে হাঁটু গেড়ে বসেননি, আজকেও বসবেন না। তিনি বিশ্বাস করেন যে পশ্চিমী বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ থাকলে শক্তিশালী হয় এবং ইতালি সেই শক্তিশালী ঐক্যের অংশ হিসেবেই কাজ করে চলেছে। তবে যে কোনও টেকসই ও মজবুত সম্পর্ক সব সময় স্পষ্টবাদিতার ওপর নির্ভর করে এবং তিনি নিজে একজন অত্যন্ত স্পষ্টভাষী মানুষ বলে দাবি করেন।

মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপে শামিল হতে এবং ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করতে ইতালি অনীহা প্রকাশ করার পর থেকেই এই দুই দেশের ডানপন্থী শীর্ষ নেতার মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। ইউরোপের জ্বালানি ও অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের ক্রমাগত সমালোচনা এবং এই সমস্যাগুলো সমাধান না করলে ইউরোপের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে বলে ট্রাম্পের দেওয়া বিবৃতির কারণে এই ফাটল আরও গভীর হয়েছে।