Trump on China & US Polls: ‘২২ কোটি ভোটারের তথ্য চুরি চিনের’, বিস্ফোরক ট্রাম্প, গোপন নথি প্রকাশের দাবি, কী বলছে বেজিং?
ট্রাম্পের অভিযোগ, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় চিন আমেরিকার বিপুল পরিমাণ ভোটার-সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নিয়েছিল। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী পরিকাঠামোয় এমন গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি রয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে ভোটে কারচুপি করা সম্ভব।
Trump on China & US Polls: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে ফের বিস্ফোরক দাবি করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় চিন আমেরিকার বিপুল পরিমাণ ভোটার-সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নিয়েছিল। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী পরিকাঠামোয় এমন গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি রয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে ভোটে কারচুপি করা সম্ভব। এই দাবি সামনে এনে নির্বাচনী ব্যবস্থার তথাকথিত দুর্বলতা সম্পর্কিত গোপন গোয়েন্দা নথি প্রকাশ বা ডিক্লাসিফাই করারও ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তবে তাঁর অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে চিন।

হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া প্রায় ২৪ মিনিটের টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, ২০২০ সালের নির্বাচনী পর্বে চিনের গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী তথ্য চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। তাঁর কথায়, প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছে বেজিং। ট্রাম্পের অভিযোগ, এই তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে মার্কিন প্রশাসনের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর কিছু সদস্যও ভূমিকা নিয়েছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, 'এই তথ্য চুরি আমেরিকার নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন। প্রত্যেক মার্কিন নাগরিকের অধিকার রয়েছে এমন একটি নিরাপদ ভোটব্যবস্থা পাওয়ার, যেখানে তাঁর ভোট সঠিকভাবে গণনা হবে এবং কারচুপি কার্যত অসম্ভব হবে। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থা সেই মানদণ্ড থেকে অনেক দূরে।'
তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন নির্বাচনী পরিকাঠামোয় এমন একাধিক দুর্বলতা রয়েছে, যা আগে কখনও কল্পনাও করা হয়নি। সেই কারণেই নির্বাচনী নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য অবিলম্বে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, এই নথি প্রকাশের পর সাধারণ মানুষ জানতে পারবেন, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে কীভাবে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকির মুখে ফেলে রাখা হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই অভিযোগ নতুন নয়। ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছেন যে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছিল এবং সেই কারণেই তিনি হেরেছেন। যদিও ওই নির্বাচনের ফলকে চ্যালেঞ্জ করে ট্রাম্প এবং তাঁর সমর্থকরা ৬০টিরও বেশি মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু কোনও আদালতই এমন কোনও প্রমাণ পায়নি, যা নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করার মতো জালিয়াতির ইঙ্গিত দেয়। পুনর্গণনা, নিরীক্ষা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগও নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির প্রমাণ মেলেনি বলেই জানিয়েছিল।
ভাষণের শেষদিকে ট্রাম্প 'সেভ অ্যাক্ট' (Safeguard American Voter Eligibility Act) দ্রুত পাশ করানোর আহ্বান জানান। এই আইনে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে মার্কিন নাগরিকত্বের নথি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। যদিও ভোটাধিকার রক্ষাকারী বিভিন্ন সংগঠনের আশঙ্কা, এই আইন কার্যকর হলে লক্ষ লক্ষ বৈধ মার্কিন নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। উল্লেখ্য, মার্কিন আইনে অ-নাগরিকদের ভোটদান আগেই বেআইনি এবং বাস্তবে এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
শুধু নির্বাচনী ব্যবস্থাই নয়, সংবাদমাধ্যমকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, এবিসি এবং এনবিসি-সহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম তাঁর নির্বাচনী জালিয়াতি সংক্রান্ত ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করেনি। এর জন্য ওই সম্প্রচার সংস্থাগুলির লাইসেন্স বাতিল করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য, কিছু সংবাদমাধ্যমও নির্বাচনী কারচুপির ষড়যন্ত্রের অংশ।
এদিকে ট্রাম্পের অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং এক বিবৃতিতে বলেন, 'চিন বরাবরই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি মেনে চলে। মার্কিন নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর ফল নির্ধারণ করেন মার্কিন ভোটাররাই। চিন কখনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।' ট্রাম্পের এই নতুন অভিযোগ ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মার্কিন রাজনীতি। যদিও তাঁর দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও স্বাধীন বা সরকারি সংস্থা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করেনি। ফলে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


