Trump on Oil: ফাঁদে পড়িয়া বগা কাঁদে! রাশিয়ার তেতো তেলই এখন ট্রাম্পের মাথাব্যথার ওষুধ?
পুতিনের সঙ্গে কথা বলার পরে ট্রাম্প বলেন, আরও কিছু ক্ষেত্রে তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা অপসারণ করা হবে। এর আগে ইতিমধ্যেই ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার 'ছাড়' দিয়েছে আমেরিকা।
যে রাশিয়ান তেল কেনার 'দায়ে' ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছিলেন ট্রাম্প, এখন সেই রাশিয়ার তেলই কি হতে চলেছে তাঁর 'মাথাব্যথার ওষুধ'? ইতিমধ্যেই ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার 'ছাড়' দিয়েছে আমেরিকা। আর গতকাল ট্রাম্প বলেন, আরও কিছু ক্ষেত্রে তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা অপসারণ করা হবে। ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কমানো ইঙ্গিত আমেরিকার। ইতিমধ্যেই রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা হয়েছে ট্রাম্পের। এরপরই তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরানোর বিষয়ে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে ভারতের পণ্যের ওপর থেকে শাস্তিমূলক ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ান তেল কেনার জন্যে বিগত বশ কয়েক মাস ধরে এই শুল্ক ধার্য করা ছিল ভারতের ওপর। তবে সম্প্রতি ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন যে নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটন একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। সেই চুক্তির ফলে ভারতের পণ্যের ওপর থেকে শাস্তিমূলক শুল্ক কমায় আমেরিকা। তবে সেই সময় ট্রাম্প 'হুঁশিয়ারি' দিয়েছিলেন, ভারত যদি আবার রাশিয়ার তেল কেনে, তাহলে ভারতের ওপর ফের শুল্ক চাপানো হবে। পরে বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত 'ফ্যাক্টশিট'-এ হোয়াইট হাউজ প্রথমে দাবি করে, ভারত রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করবে। এবং সেই ফ্যাক্টশিট জারির একদিনের মাথায় তা 'সংশোধন' করা হয়। এবং বলা হয়, ভারত রুশ তেল কেনা কমানোর চেষ্টা করবে।
এদিকে ইরান যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে আইআরজিসি। তাই হরমুজ প্রণালীতে শ'য়ে শ'য়ে ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম রকেট গতিতে উর্ধ্বমুখী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে ভারতকে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার 'ছাড়' দেয় আমেরিকা। ভারতকে রাশিয়ার তেল কিনতে বলে আমেরিকা ইতিমধ্যেই একটি 'নির্দেশিকা' জারি করেছে। তাতে বলা হয়, ইতিমধ্যেই যে রাশিয়ান তেল সাগরে রয়েছে, তা কিনতে পারে ভারতীয় শোধনাগারগুলি।
এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে নয়াদিল্লি বলেছিল যে এই সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থে গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সময় ভারত জানিয়েছিল, ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাজারে যাতে তেলের দাম না বেড়ে যায়, তার জন্য আমেরিকাই ভারতকে বলেছিল রুশ তেল কিনতে। তবে ট্রাম্প মুখে দাবি করেছিলেন, রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় ভারতের ওপর শুল্ক চাপানো হয়েছিল। তবে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য বেড়েছে ট্রাম্পের জমানাতেই। এখন ইরান যুদ্ধের জেরে রকেট গতিতে ছুটতে থাকা তেলের দামকে নিয়ন্ত্রণ করতে ট্রাম্পের ভরসা সেই রাশিয়া।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper











