US Congress: বড় ধাক্কা ট্রাম্পের! ইরান যুদ্ধ রুখতে মার্কিন নিম্নকক্ষে প্রস্তাব পাস, সায় রিপাবলিকানদেরও

US Congress: বুধবার ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাটদের আনা ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে পাস হয়। ভোটাভুটিতে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে পক্ষে ভোট দেন। 

Published on: Jun 4, 2026, 15:54:35 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

US Congress: কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হামলা চালানোর ক্ষমতা সীমিত করতে একটি প্রস্তাব পাস করেছে মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের বিষয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন নিম্নকক্ষের সদস্যরা, যাদের মধ্যে ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন।

ইরান যুদ্ধ রুখতে মার্কিন নিম্নকক্ষে প্রস্তাব পাস (AFP)
ইরান যুদ্ধ রুখতে মার্কিন নিম্নকক্ষে প্রস্তাব পাস (AFP)

বুধবার ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাটদের আনা ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে পাস হয়। ভোটাভুটিতে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে পক্ষে ভোট দেন। উভয় কক্ষে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেট) রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেসে এটি পাস হওয়াকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিম্নকক্ষে পাস হওয়ার পর এই প্রস্তাবটি এখন উচ্চকক্ষ বা সিনেটে পাঠানো হবে। সেখানে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও এই প্রস্তাব পাস হলে ট্রাম্পের ওপর যে মানসিক ও রাজনৈতিক চাপ মারাত্মক বাড়বে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ভোটাভুটিতে ট্রাম্পের এই হারের পর সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ ডেমোক্র্যাট পার্টির হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির পক্ষ থেকে তীব্র কটাক্ষ করে লেখা হয়েছে, 'এই ফলাফল আমেরিকান জনগণের তরফে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি একটি জোরালো এবং দ্ব্যর্থহীন বার্তা। ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অবৈধ যুদ্ধ এখনই বন্ধ করতে হবে।'

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর মার্কিন কংগ্রেসে এই নিয়ে চতুর্থবার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাস হল। আসন্ন মিড-টার্ম নির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এক বড় ধাক্কা বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল। মার্কিন সংসদের নিম্নকক্ষে বিরোধীদের এই জয়ের পেছনে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির একাংশের বিদ্রোহ। এদিনের ভোটাভুটিতে ট্রাম্পের দলের অন্তত ৪ জন সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন। এর আগেও ইরান যুদ্ধ আটকাতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতারা একাধিকবার মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে প্রস্তাব এনেছিলেন এবং প্রতিবারই রিপাবলিকান পার্টির কোনও না কোনও সদস্য সেই প্রস্তাব সমর্থন করেছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দলে এই বিদ্রোহীদের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়াটা ট্রাম্পের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ। তবে এই প্রস্তাব পাস হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প তা মানতে আইনিভাবে বাধ্য নন। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করতে হলে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই বিরোধীদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন, যা এই মুহূর্তে ডেমোক্র্যাটদের কাছে নেই। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ট্রাম্প সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করলে তা বাতিল করতেও দুই কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন লাগবে।

যুদ্ধক্ষমতা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট একক সিদ্ধান্তে ৬০ দিন পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালাতে পারেন, যার পর কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এই যুক্তি দেখিয়েই ডেমোক্র্যাটরা দাবি তুলছেন যে ট্রাম্পের অবিলম্বে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ বন্ধ করা উচিত। যদিও হোয়াইট হাউস এই যুক্তি উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা দাবি করেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষ বাঁধার পর ৮ এপ্রিল দুই দেশ সাময়িক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরপরও এই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করেছে। কিন্তু অঙ্কের হিসাবে ট্রাম্প যদি আবারও ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে চান, তবে মার্কিন আইন অনুযায়ী সংঘর্ষ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর হাতে এখনও প্রায় ৪০ দিন সময় রয়েছে। ক্ষমতার এই আইনি লড়াইয়ের মাঝে স্বদলের অন্দরে ট্রাম্পের এই হার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে বেশ উত্তপ্ত করে তুলল।