Donald Trump: ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে ফের হামলা! ‘এপিক ফিউরি’র হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, পাল্টা জবাব তেহরানের
Donald Trump: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। সেই হামলার জেরে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
Donald Trump: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় রাজি না হলে ইরানে ফের সামরিক হামলা চালানো হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে হামলাকে ‘ছোট্ট এপিক ফিউরি’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ফের হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রের তলায় থাকা যোগাযোগের তারে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান দলের এক নির্বাচনী সভায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হয়তো আরও এক বার ছোটখাটো ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান চালাতে পারি, অথবা ওরা সমঝোতায় আসতে পারে। ওরা বুদ্ধিমান হলে আলোচনায় বসবে।’ তবে নতুন করে সামরিক অভিযান এড়াতে ইরানকে ঠিক কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। সেই হামলার জেরে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। অভিযানে ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ ধর্মীয়নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং তাঁর পরিবারের কয়েক জন সদস্য নিহত হন।
এর পাশাপাশি, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ওই অভিযানে ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। সামরিক শক্তি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ইরানকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামারের মাধ্যমে আমরা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করেছি। সামরিক, আর্থিক-সহ বিভিন্ন দিক থেকে আমরা তাদের পরাজিত করেছি। এখন আমরা নিশ্চিত করছি, কাজটি সম্পূর্ণ হয়েছে।’
সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা?
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা চালাতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মারিও নওফলের সঙ্গে একটি পডকাস্টে ব্যারাক বলেন, 'এই সপ্তাহান্তে হামলা হতে পারে কি? অবশ্যই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি চুক্তির বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী এবং আলোচনার জন্য প্রস্তুত। আমরা মাসের পর মাস ধরে আলোচনার টেবিলে রয়েছি।’ তবে ইরানবিষয়ক আলোচনায় ব্যারাকের সরাসরি কোনও ভূমিকা নেই।
ব্যারাকের মন্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প প্রথমে বিষয়টি কিছুটা হালকা করে দেখেন। তিনি বলেন, 'উনি কী আমার রাষ্ট্রদূত? বেশ ক্ষমতাবান মানুষ বলেই মনে হচ্ছে। তবে এমন কিছু হলে, সে সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।'
শীঘ্রই যুদ্ধ শেষ করার আশা ডোনাল্ড ট্রাম্পের
ট্রাম্পের দাবি, কোনও না কোনও উপায়ে শীঘ্রই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটবে। ফ্লোরিডার একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, কোনও না কোনওভাবে এ যুদ্ধের অবসান হবে। সমঝোতার মাধ্যমে অথবা অন্য কোনও উপায়ে।’ তবে যুদ্ধ শেষ করার কোনও সময়সীমা জানাননি তিনি। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে কিনা, সে বিষয়েও স্পষ্ট কিছু বলেননি। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য, আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো এ হুমকি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাকে ইরানে হামলা চালাতেই হতো, নইলে তারা পরমাণু অস্ত্র পেয়ে যেত।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা ইরানের
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ফের হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রের তলায় থাকা যোগাযোগের তারগুলিকে নিশানা করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলা হলে ইন্টারনেট-সহ বিভিন্ন যোগাযোগ পরিষেবা দীর্ঘদিন ব্যাহত রাখতে মেরামতির কাজেও বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তেহরান। এক ইরানি আধিকারিকের কথায়, 'ইরানে হামলা হলে আর কোনও সীমারেখা থাকবে না। সমুদ্রের তলার যোগাযোগের তার থেকে শুরু করে সামরিক ঘাঁটি, এমনকি গোপন ঘাঁটিও নিশানায় থাকবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগুন নিয়ে খেলা উচিত নয়।'
মার্কিন আধিকারিকদের নিশানা করার ছক?
এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলির আশঙ্কা, মার্কিন আধিকারিকদের নিশানা করার চেষ্টা আরও জোরদার করেছে ইরান। কয়েকটি পরিকল্পনা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান জে ক্লেটন ২৩ অক্টোবর বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়োকে একটি এক পাতার গোপনীয়তামুক্ত স্মারকলিপি পাঠিয়ে এই সতর্কবার্তা দেন। তবে ওই স্মারকলিপিতে সম্ভাব্য নিশানা, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের কোনও দেশের নাম বা হামলার পরিকল্পনার প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে, সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস এবং জেড্ডা ও ধাহরানের কনস্যুলেট থেকে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত নন, এমন কর্মীদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ওয়াশিংটন। পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, লেবানন, কাতার ও জর্ডানে মার্কিন দূতাবাসগুলিতেও কর্মীসংখ্যা কমানো হয়। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়ানোর আশঙ্কার মধ্যেই এই পদক্ষেপ মার্কিন যুক্তৰাষ্ট্ৰ ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
E-Paper

